মাজহার সরকারের পাঁচটি কবিতা

আন্টি আমাকে কক্সবাজার নিয়ে গেল ❑❑

আন্টি বলল আমার ছেলে থাকলে কি আদর করতাম না! চলো ঘুরে আসি। সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে ঘুরতে কখন তাকে আপা বলা শুরু করলাম টের পেলাম না। যে হোটেল-রুমে উঠলাম তার একদিনের ভাড়া আমার এক মাসের বেতনের সমান। আন্টি বলল আমার ভাই থাকলে কি তাকে দিতে দিতাম! এক বিছানায় আমি সারারাত ঘুমোতে পারলাম না। পাহাড়ে উঠলাম আর নামলাম। আন্টি বলল আমার স্বামীকে আমি এভাবেই দোলনায় চড়াতাম। চার দিন চার রাত পর ঢাকায় ফিরে আন্টি আমাকে শপিং করার জন্য বিশ হাজার টাকা দিলেন। আমি এতটাই ক্লান্ত ছিলাম দুদিন প্রস্রাব করতে গেলেও ঠাস করে দরজার কাছে পড়ে যেতে লাগতাম।

   

অফিস-ফেরত ব্যাচেলর ❑❑

বাসায় ফিরে টুলের ওপর বসে জুতা খুলছিলাম। ডান পায়ের মোজাটা এতটা এঁটে আছে যে টেনে খুলতে গিয়ে কেঁপে উঠল টুলটা। ঠক টক ঠক টক। কোনোরকম জুতার মধ্যে মোজা দুইটা গুঁজে এসে বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে দেখি বৃষ্টি এখন নেমে গেছে। শার্টের বোতাম ধরে টানছি, বেল্ট আলগা করছি। ফ্রিজ খুলে দেখি খাবার কিছুই নেই। একটা চকোলেট বার চিবুতে চিবুতে রান্নাঘরে এসে দেখি ভাতের ডেকচিতে তেলাপোকা উড়ে বেড়াচ্ছে। এই গভীর রাতে কিছুই না খেয়ে আধ-খোলা কাপড় নিয়েই আধ অন্ধকার বিছানায় তেরছা হয়ে শুয়ে রইলাম। বাতাসে জানালাটা ঠাস ঠাস করে বাড়ি খাচ্ছে। উঠে যে ছিটকিনি লাগাব এই ইচ্ছেটাও নেই। জানালার গ্লাসে ঝাপটা মেরে বৃষ্টির বাষ্প মুখে এসে পড়ছে। প্যান্টের পকেটে হাত দিয়ে দেখি কতগুলো প্রজাপতি উড়ে গেছে কার্নিশের আলোর রেখা বরাবর।

   

এভরি স্টুপিড হেজ হিজ ওন পয়েম ❑❑

স্বপ্নে দেখলাম বড় কানওয়ালা একটা কুকুর এসে আমার গাল চাটছে একটা মাদি শিম্পাঞ্জি কোলে উঠে এসেছে সুতানলি সাপ পেঁচিয়ে ধরেছে গোপনাঙ্গ। কমোড থেকে একটা টিকটিকি দৌড়ে এসে ঢুকে গেছে গুহ্যদ্বারের ভেতর গাভর্তি গজাচ্ছে অকেজো ঘাস, স্বপ্নে দেখলাম ফেসবুকে ফাঁস হয়ে গেছে বেশ্যার সাথে আমার সব চ্যাট হিস্ট্রি সুনামের কলস ভেঙে গড়িয়ে পড়ছে আসল লালা স্বপ্নে দেখলাম সাবেক প্রেমিকার বাবা পুলিশ নিয়ে এসে দাঁড়িয়ে আছে বাসার নিচে।  

কয়লা ❑❑

আমি কি এভাবে শুয়ে থাকতে চেয়েছি এক নোংরা মহিলার সাথে! বেশ্যারা দরজা খুলে দাঁড়িয়ে আছে প্রেমিকার ঈর্ষার মধ্যে আছে যে মেয়েটি তার গালে চুমু খাব সাবেক প্রেমিকার বর্তমান প্রেমিকের উরুতে আদরে আদরে শীর্ষলাভ ঘটাব নিপুণ , ক্লিনশেভ করে গলির মোড়ে দাঁড়াব তরুণীদের মাথা খেয়ে চিবিয়ে চাবিয়ে হাড়গুলো থলিতে জমাব লুকিয়ে রাখব তোশকের তলে। শরীরের শেষ কাপড়টুকু খুলে পুকুরে লাফিয়ে পড়ব আর কতকাল স্বপ্নে অপরাধ করে যাব! উনুন আঁচড়িয়ে একটা জ্বলন্ত কয়লা পেলাম রক্তলাগা লাল মাংসের মতো। আহ আমিষ, নোনতা! আমি সেটা খেলাম আর চিরদিনের মতো বোবা হয়ে গেলাম।  

স্মাতক-পাশ যুবকেরা ❑❑

বিকেলের মাঠে মাঠে খেলা ফেলে রেখে আমাদের হাতে বাল্যশিক্ষার বই দুধ ফুরিয়ে গেছে, শুয়ে আছে বোকা গাভি পাখি বসে নি মরা হাতির পিঠে। জীবনকে অমূল্য জেনে স্মাতক-পাশ যুবকেরা চাকরি নিয়ে চলে গেছে করেছে বিয়ে আরেক শ্বশুরের দ্বিতীয় মেয়ে। ক্ষুধাতৃপ্ত স্বামীর নিশ্চিত ঘুমের দিকে চেয়ে সেও খুঁজেছে প্রাক্তন শৈশব শীতের খড়ের কাছে গরম গরম।
মাজহার সরকার

মাজহার সরকার

জন্ম ৮ ডিসেম্বর ১৯৮৬, কুমিল্লা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও...বিস্তারিত