প্রতিবেশী
আমাদের এক প্রতিবেশী ইন্ডিয়া চলে গিয়েছিল। তখনও সব বাড়ি ইলেক্ট্রিসিটি পৌঁছায় নি। চুলায় ভাত চড়িয়ে, ঘরে কুপি জ্বালিয়ে তারা চলে গিয়েছে। আস্তে আস্তে ভাত পুড়ে গন্ধ ছড়াতে লাগলে আমরা গিয়ে টের পাই, তারা নেই। বাইরে তখন প্রজ্বলিত জ্যোৎস্না সংক্রামক রূপ নিয়েছে। এখনো কোনো রাতে বন্ধুর বাড়ির চুলায় ভাত চড়ানো দেখলেই ভয় হয়। আবারও কি ভাত পুড়ে যাবে? পোড়া ভাতের সাথে জ্যোৎস্নার গন্ধ ভয়াবহ ব্যাপার
মাংসের আকুতি
দয়া করো হে বাফেলো, এইভাবে ফুলায়ো না পেশী দুজোড়া শিংয়ের যুদ্ধে মাংসেই ক্ষত হয় বেশি!
ক্লান্তি
এই ক্লান্তি আশ্চর্য কমনীয়, রহস্যময় আর তুমি শুয়ে আছ নম্র ভঙ্গিতে ভিন্ন এক দেশে দূরে আজান হচ্ছে। এ-সময় সমস্ত পার্সিয়ান রমণীদের আমার শিরিন বলে ভ্রম হয়। শিরিন, তোমার ওখানেও কি শোনা যাচ্ছে পারস্যের আজান?
মনোপলি
আজ মুত্তিয়া মুরালিধরনের মতো একজন ক্যানভাসার দেখলাম, শুদ্ধ বাংলায় দাঁতের মাজন বিক্রি করছে। অবিকল জনি ডেপের মতো একজন আছে, দৈনিক পত্রিকায় ফটোগ্রাফারের চাকরি করে। ফ্রিদা কাহলোর মতন একজনকে দেখেছিলাম—জোড়-ভ্রু—বাগেরহাটের পুরনো রেলস্টেশনে স্যাক্সোফোন গড়নের একটা বাদ্যযন্ত্র বাজাত। রাস্তার ক্যানভাসার মুরালিধরন কি জানে, তার মতন এক শ্রীলঙ্কান পাঁচ আঙুলে ছুঁড়ছে ঘূর্ণিঝড়, কিংবা ফটোগ্রাফার জানে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের দস্যুর গল্প? কাহলোর চোখের গভীরতা জানে স্টেশনের মেয়েটি? ... রাসেল জানে, হিব্রু ভাষায় ধর্মগ্রন্থ লিখছে আরেক রাসেল, ইসরায়েলে!
১৯৭০
আমার বাড়িতে একটি পুরনো গ্রামোফোন আছে। আমার পুত্র মাঝে মাঝেই সেটা চালিয়ে একমনে বসে থাকে। তার প্রেম এবং বেদনার প্রতিটি মুহূর্তের সাক্ষী এই গ্রামোফোন। একেকটি কলম্বিয়া গ্রামোফোনের ডিস্ক যখন ঘোরে, গ্রামোফোনটি জানে না, আমার পুত্রের সমস্ত হৃদয় তার সাথে ঘূর্ণ্যমান হয়। যেমন আমার পুত্র জানে না, আমার সমস্ত হৃদয় নিয়ে তার ঘোরার ভঙ্গি।