মা বিড়াল
ইদানীং কিভাবে যেন রাতগুলো কেটে যায়। কেমন বোকা বোকা চেহারার একটি বিড়াল রাত কাটাতে আসে। সম্প্রতি তার শেষ সন্তানটি গরম পানিতে পুড়ে মারা গেল। দরজার ওপাশে অন্ধকারে, বিড়ালটি শুয়ে থাকে একা, নিজেকে গুটিয়ে। স্বপ্ন দেখে—কোমল ছানাগুলো তার ভয়ে ভয়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে এদিক-ওদিক।
ইদানীং রাত নামলেই, বিড়ালের স্বপ্ন দেখতে দেখতে মুঠো মুঠো তারকাঁটা গিলে ফেলি। স্বভাবতই ঘটনার আরও গভীরে গেঁথে যাই। গতকাল পুড়ে যাওয়া বিড়ালছানাটি আবারও পুড়ে মারা গেল স্বপ্নের ভেতর।
ইদানীং কিভাবে যেন রাতগুলো কেটে যায়। স্বর্গের উদ্যানে ভূরি ভূরি মানবছানা হেলে-দুলে হেঁটে বেড়াচ্ছে আর কয়েকটি বিড়ালছানা তাদের ঘিরে লাফাতে থাকে। স্বপ্নে এমন দৃশ্য দেখার পর, মা বিড়ালটি আর আসে না রাত কাটাতে।
ডক্টর ফস্টাস
ধুঁকতে ধুঁকতে জিহ্বা ক্রমশ মাটি ছুঁয়ে যাচ্ছে। মিস্টার মেফিস্টোফেলিস, সদয় আর্জি তাই আপনার কাছে; নিয়ে নিন প্লিজ জীবন আমার। ক্ষুদ্র এ প্রাণ, তবু শখ জাগে মণি-মুক্তা-জহরতের। কী-বা হবে, যদি ভোগের সুখ লাভ করি—আত্মার বিনিময়ে। জীবন আর মৃত্যু—বিপরীত শব্দের উদাহরণ নয় এই দেশে, এটুকু তো নিশ্চই ক্লিয়ার আপনি এতদিনে, যতটুকু আছে জ্ঞান সব হিশেব করে না হয় দিলেন কালো জাদু কয়েক তোলা।
আংকেল ফস্টাস, একটিবার উনাকে বোঝান ডিয়ার, রিয়েলি লাইফ ইজ নাথিং হিয়ার।
পৃথিবীর জন্য কবিতা—এক
আজ তুমি একবারও বারান্দায় এলে না, অথচ কী রোদময় একটা দিন চলে গেল, তুমি ভাবতেই পারবে না। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘর গুছাতেই ব্যস্ত ছিলে, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখেছ হয়তো কয়েকবার, আয়নার ভেতর যারে দেখা যায় তার চেয়ে নিজেকে নিয়ে তোমার গর্ব হয়। পৌষালি বাতাসে যখন দোয়েল ডেকে উঠল, নৈঃশব্দ্যের কাছাকাছি গিয়ে ফিরে এল নভোযান, তখনও যদি বাইরে তাকাতে, দেখতে কী ঝলমলে একটা দিন পার হয়ে গেল তোমার অজান্তে।
পৃথিবীর জন্য কবিতা—দুই
মরে যাবে সব সম্পর্কের পাতাবাহার এই মৃত্যুমুখরতা আর শালবনের রোদ সবই কোমল গুচ্ছগুচ্ছ ঘোর,
কোথায় কী আছে, জানি না; তবু যাব— একটা মেরুন রঙের পাখি শুধুই ডাকছে।আফ্রোদিতি
মগজের শিরায় শিরায়—মৃতপ্রায় তোমার ভাবনাগুলো, হঠাৎ আশ্চর্য বিদ্রোহ ডেকে বসে। শান্তি চুক্তির আহ্বান অতঃপর কাঁদানে গ্যাস— এসবের পরও চলতে থাকে তাদের শ্লোগানমুখর ধর্মঘট। স্বৈরাচারী শাসকের মতো তখন কঠোর থেকে কঠোর হতে থাকি প্রতিবারের মতো ভাবনারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। মনে মনে পণ করি, আর কিছু টাকা বেতন বাড়ুক সার্জনের ছুরির নিচে এবার সঁপে দেবো মাথা।
কিন্তু তোমার শেষ স্পর্শগুলো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কোথাও— নইলে কত আগেই তোমাকে মমি বানিয়ে রাখতাম—হে আফ্রোদিতি এসব কথা কী আর মুখে বলবার প্রয়োজন আছে, বলো?