নেভার মাইন্ড
যুদ্ধ হচ্ছে, বাতাসে সীসার ঘ্রাণ, আর ভারি হয়ে আসছে মেঘদল, যুদ্ধ হচ্ছে, নেভার মাইন্ড। বাতাস! বুক ভরে নাও সীসা, ক্ষয়ে যাও গলন্ত কামানের নিচে, হাড় ও হাড়ের সংগীত এমনই সময়ে এই সব বিবমিষা! যুদ্ধ হচ্ছে, নেভার মাইন্ড।
দ্য লোন সারভাইভর
একটা কাছিম কী ভীষণ একা অ্যাকোরিয়ামে ঘুরে বেড়াচ্ছে মানুষের মাঝে নির্বিকার জলের ভেতর থেকে, সে আমাদের দেখে
একশ বছর আয়ু তার
একশটি বছর সে কী ভাববে? —ইউনিকর্নের রক্তের মহৌষধি গুণাগুণ? —মৃত্যু সম্পর্কিত প্রভূত চিন্তা? —দূর মহাকাশ থেকে নেমে আসা উল্কার স্বরূপ? —মানুষের কিসের এত তাড়া? —নাকি তার একাকিত্বের মাঝে প্রবল
শুধুই যৌনচিন্তা?
কর্নেলকে লেখা চিঠি
তোমার নিঃসঙ্গতার মাঝে আমি ডুবে যাচ্ছি কী নীরবে অথচ গ্যাসোলিনের গন্ধ ও গতিদানবের হুংকার ঝ রে পড়ছে খরতাপ-মাঝে
উজাড় হয়ে যাচ্ছে এই মানবঘটিত কল্পবাস্তব
ছি ট কে পড়ছে রক্ত অন্তর্গত সেই শিকারিই বুঝি সত্য তামাক ও বারুদের গন্ধ যে পুষে রাখে আঙুলের গাঁটে
রোজকার মতো তুমি ঘুমিয়ে পড়ো
শুধু আর দিনের মতো তাড়া নেই কোনো
অফুরন্ত সময়ের জন্য মিশে পড়ো এই অনন্ত ডেলিরিয়ামে।
ওঁ
ঘোড়াদের হাসিমুখ কেমন হয়? এই প্রশ্ন করে আমি জানতে পারি সহাস্য কোনো ঘোড়ার সন্ধান আজ পর্যন্ত পাওয়া যায় নি। এই যুদ্ধের ময়দানে, শাদা ঘোড়া, কী করছ তুমি? গুলি-বোমা না ছুঁলেও মানুষ যে ছুঁতে পারে জানো তো, আর একবার ছুঁলে তোমাকেও হাসতে হবে একশটি বছর। হায় জোভান! দেখ ক্রুশ থেকে উলটে পড়েছেন যিশু, আর আমি পানপাত্রে মুখ চুবিয়ে, ভ্রাতৃহত্যার রক্ত পেয়েছি।
“there is no war until a brother kills a brother”।
শাদা ঘোড়া, তুমি আমায় রহস্যের জাদু বন্দরে নিয়ে চলো, সেখান থেকে শুনেছি ভূমিও আকাশ নোঙর তুলেছে, এইসব যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা রেখে আসি, বৃদ্ধ হবার পূর্বেই আমি বসুন্ধরার কাছে উপগত হতে চাই।
শোক প্রস্তাব
তারপর তারা বাতাসে ছড়িয়ে দিল যৌন বর্ণনা, শিশ্নের দৈর্ঘ্য ও যোনির গভীরতা। পাঠ হলো সমবেত শোক প্রস্তাব। সেই সম্মোহিত প্রেমিকাদের ভাবি, যারা স্কুল পালানো শিশুদের চুমু খেত অননুযোগে। রাত্রিকালে এমন সব স্বপ্নে বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। পুষ্পগন্ধ আড়াল হয়ে যায়। সকাতর সব মাস্টারবেশন খুলে খুলে পড়ে প্রেমিকাদের শরীরে—আমার মাঝেই যারা সমাহিত ও সম্মোহিত, যাদের উদ্দেশ্যে এই স্তোত্র পাঠ, এই সমবেত শোক প্রস্তাব।