♦ আমার মনে হয়, সমস্ত সম্ভাবনা নিঃশেষিত হলেও আমাদের নিজের ভেতরেই তাকাতে হবে আগে, আমি অন্যকে দিয়ে আমার পৃথিবী তো কোনোদিন দেখতে পারব না ♦
স্বকীয়তা আর স্বতঃস্ফূর্ততার মধ্যে কোনটি আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ? এ দুয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কি?
স্বকীয়তা আর স্বতঃস্ফূর্ততা আমার কাছে ঠিক তুলনীয় নয়। দুটোই ভিন্ন বিষয়, তবে সম্পর্কিত। স্বকীয়তা আপনার নিজের ভঙ্গি, আপনার নিজের ভাষা। যেমন, কেউ যেভাবে কথা বলেন বা লেখেন, তা যতই ক্লিশে মনে হোক, তাতেও একধরনের স্বকীয়তা থাকে।
আপনি যেখানে নিজের মতো, আপনি সেখানে স্বতঃস্ফূর্ত, সেখানে আপনি আড়ষ্ট নন। আড়ষ্টতা নিশ্চয় কারো কাঙ্ক্ষিত নয়। কাজেই আমরা নিজের ইচ্ছের মতো হতে চাই। নিজের মতো করে বলবার বা লিখবার যে ইচ্ছেটা আমরা ধারণ করি সেটা হয়তো একরকম নিজস্বতা সবার কাছেই দাবি করে।
একরকম অনস্তিত্বের ভিতর দিয়ে নিজেকে দেখার আলাদা আলাদা প্রয়াসগুলোর দিকে তাকাতে, মানে, যেখানে আমি থাকছি না, আমার কাজ থাকছে না, হাসি বা কষ্ট থাকছে না—যে থাকাটা আমার নিজস্ব নয়—আর যেহেতু নিজস্ব নয়—সেই সকল কর্মের দিকে, সেই সকল ভিন্নতার দিকে আমি হাঁটতে চাইছি কি না, বা হেঁটে কোথাও পৌঁছুতে পারছি কি না—এই সব প্রশ্নের সামনে আমি স্বতঃস্ফূর্ত নই। আমার মনে হয়, সমস্ত সম্ভাবনা নিঃশেষিত হলেও আমাদের নিজের ভেতরেই তাকাতে হবে আগে, আমি অন্যকে দিয়ে আমার পৃথিবী তো কোনোদিন দেখতে পারব না, তাই না?
♦ দুটো বিষয়েরই আলাদা প্রাসঙ্গিকতা আর গুরুত্ব নিশ্চয় আছে, যেটা আলাদা আলাদা বিবেচনা দাবি করে ♦
শুদ্ধস্বর, অমর একুশে বইমেলা ২০১৫
নিজের পাঠকের জন্য আপনার পছন্দের কিছু বইয়ের নাম বলুন।
রবার্ট মুজিলের দ্যা ম্যান উইদাউট কোয়ালিটিজ, গম্ব্রোভিচের ডায়রি, রিলকে আর মার্ক স্ট্র্যান্ডের যে কোনো কবিতার বই, জন অ্যাশবেরির ফ্লো চার্ট, বিনয় মজুমদারের ফিরে এসো চাকা, অঘ্রানের অনুভূতিমালা।