পাণ্ডুুলিপির কবিতা : ডুমুরের আয়ু

বছর ঘুরে আবারও ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। ফের হাজির অমর একুশে গ্রন্থমেলা। প্রতিবছর এই মেলাকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত হয় কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, গবেষণাসহ বিভিন্ন ধরনের কয়েক হাজার বই। কোন বই কিনবেন আর কোনটি কিনবেন না, সেই ভাবনায় গলদ্‌ঘর্ম পাঠকরা। তাদের একটু স্বস্তি দিতে পরস্পরের বিশেষ আয়োজন ‘পাণ্ডুলিপির কবিতা’। এর মাধ্যমে পাঠকরা বইটি সম্পর্কে যেমন ধারণা পাবেন, তেমনি জানতে পারবেন লেখকের শক্তিমত্তা সম্পর্কেও।

আজ প্রকাশিত হলো কবি শামীম হোসেন-এর কবিতাগ্রন্থ ডুমুরের আয়ু’র কয়েকটি কবিতা। বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন ধ্রুব এষ। বইটি প্রকাশ করেছেন প্লাটফর্ম প্রকাশনী।



নীল দিগন্তে লাল ঘোড়া


লাল ঘোড়াটা দৌড়ে যায় দিগন্ত বরাবর ওর চোখের ভেতর আদিম বিজলির ঝলক কিছু বৃষ্টিময় ঘাস জেগে থাকে মাঠের মধ্যে— ঘোড়াটির ক্ষুরের তলায়। দূরদেশে হাতি পালানো ভয় যে মাহুত পুষে রাখে বুকের ভেতর—সেও আজ নেই! স্কুলঘণ্টার সুরে যে শৈশব বড় হয়ে গেছে মোটা তার চশমার ফ্রেম—হাতের তালুতে কুচকানো ভাব। মাটি ও মায়া লুকানো সকাল খোঁজ করে বিজ্ঞানীর চোখ। দিগন্ত নীল হলে লাল ঘোড়া দৌড়ায় না আর...

দূতিকা


নগ্ন হওয়ার আগে পোশাক পরতে হয়! কাঁকরপথে বিছিয়ে রেখে লাল মার্বেল ইতিহাসে ভিজিয়ে রাখি হাতপাখা ঘুম... দূরের বাঁকে জেগে আছে কচুপাতায়— শিশিরকণা—সাপের ফণা—লুডুর পাতা... বায়োস্কোপের সকল ফুটো বন্ধ রেখে দৃশ্য যদি ডেকে আনে দুধমাখা ভয়! পোশাক পরার আগে নগ্ন হতে হয়!

অনুচিন্তা


টেবিল-বাতির আলো জ্বালিয়ে রাখো সারা রাত্রিময়—গোলাপ জলের গন্ধ থেকে থেকে বুকের কাছে বয়— হাওয়ার ভেতর তুমিই লুকিয়ে থাকো। দূরের কোনো ভাঙাচোরা হাটের পায়ে পায়ে ধুলোওড়া বিকেল চুপি চুপি তোমার কাছে গেলে হালকা করে কেন সরিয়ে রাখো! মনে মনে বাগান করা ভালো চারাগাছে ফুটুক কিছু ফুল শীতের মতো তুমিও বুঝি ফের ঘুরে-ফিরে এক ঋতুতে আসো।

ডুমুরের আয়ু


চোখ খুলে লাটিমের মতো ঘুরছে মাঠে গাছে গাছে ফুরিয়ে যাচ্ছে ডুমুরের আয়ু আগুনের স্বনির্মিত পথে পায়ে পায়ে দূর— কোনো গ্রামে পুড়ছে ওই মাটির শরীর। হাতের পাতায় লেবুপাতার ম্যাপ ঘ্রাণে ঘ্রাণে—মাতাল করছে চাঁদ। নখে নখে পার হচ্ছে রাত... সামনে ব্রিজের নিচে খাঁড়ি, ঝরছে লালাস্রাব!

ছায়াগমন


সে বাড়ি অনেক দূর—দিনাজপুর। হাওয়ার আঁকশিতে ধরে আনি সহজিয়া সুর। মাটির জাহাজ হলে জলে ভেঙে যায়—ধূলি ও তুলির আঁচড় মুছে দেয় কলিজার কালি। নদীপথে পায়ে পায়ে হেঁটে গেলে ছাতিমগাছ—কারো কারো চোখ কপালে ওঠে দেখে নেয় যমের দুয়ার! ইতিহাসে কলাপাতা আছে তাই ধানপাতায় মুড়িয়ে রাখি গোপন আনাজ।

অধিবিদ্যা মুখে ধরে যে ফলায় আকালিক ফল—পাখিজন্মে রাধা তার কখনো হবে না! দেখো বুকে পুষে জমিফাটা চৈত্রের রোদ—কলসে ভরেছি সোয়াসীর জল। পার্বণের হাট ঘুরে পেয়ে গেছি মাটির পুতুল! পুতুলও কথা বলে—হাত ধরে দেখিয়ে দেয় আমের মুকুল।

সে বাড়ি অনেক দূর—দিনাজপুর। ট্রেনে যেতে হয়...

শামীম হোসেন

শামীম হোসেন

জন্ম ৭ আগস্ট, ১৯৮৩; রাজশাহী। পেশা : গণমাধ্যমকর্মী। প্রকাশিত বই : বরেন্দ্র...বিস্তারিত