আয়নার ওপাশে মেঘ

এই বৈশাখ ৩ ❑❑

গতকাল রাতে ছিল এক উদাসীন পথ উদাসীন পথ—তার মতো গিয়েছিল বেঁকে আঁধারে বাঁশের পাতা ঝরেছিল হাওয়ায় আমাদের নিয়েছিল টেনে দখিনের দিকে মৃদু এক আলোকচ্ছটায় পথ চেনা যায় শেফালিরা মাথার ওপর করেছিল ভিড় তারারা উঁচুতে সারারাত ঘুরপাক খায় পায়ের নিচের মাটি তবে তখনও স্থির বিছানো ইটের পথে ফুটেছিল লাল ঘাস আর চারপাশ; কাল রাতে পড়ে ছিল মন এমন আমার! এমনি কি থাকে বারোমাস দুএকটা ঘরে—পিদিমের আলো নিভু জ্বলে হলুদ মায়ায়। ক্ষেতের ধারে গাছের সারি ভ্রমে থাকি এরকম গ্রামে প্রেমিকার বাড়ি।  

এই বৈশাখ ৪ ❑❑

লোকালয় ছেড়ে চলে আসি, মেঘেরা দৌড়ায় মোটরের আয়নার পিছে। সাদাকালো দিনে গাছে গাছে পাখি—রেডিওতে কে যেন বাজায় বেহালার সুর। বেহালা কি আমাদের মনে বাতাস জাদুর? আমাদের বহু পাতা ঝরে পথের ওপরে, আমাদের ধুলো ও শৈশব নাগর দোলায়, রোদ ও ছায়া কিভাবে বাড়ে? আনমনে ভুলে থাকি মুখ—যতটা সম্ভব অকস্মাৎ এই গ্রামে পরিদের আনাগোনা আর তরুণীরা দোল খেলো পেয়ারার ডালে বাতাস সরিয়ে দিলো মেঘ ও বৃষ্টির ফোঁটা গুপ্তচোখ—স্নান করে বড়ঘাটলার জলে আকাশেতে পুকুরের সাদা প্রতিবিম্ব ফোটে চৈত্রের মেঘেরা শ্মশানের পিছে পিছে ছোটে  

এই বৈশাখ ৫ ❑❑

আমার চোখের ভিতরে যে চলে গেছে পথ সেই পথ ধরে যদি তুমি পায়ে হেঁটে যাও একটু দূরেই পাবে এক বৃহৎ অশ্বথ ঝোপঝাড়ে ফুটে আছে ফুল—যদি নিতে চাও তুলে নাও ফুলের ঝুড়িটা, পড়ে আছে পথে বহুদিন ওই পথে আমি যাই নি তো আর চুলের কাছেই ওড়ে কত প্রজাপতি সাথে বিকেল শেষে বুঝি জমছে কিছু অন্ধকার মাথার উপরে মেঘ পাবে, রুপালি মেঘেরা সেদিকে নিয়ে যাবে—যেদিকে ছুটে যায় মন খামারের খোলা মাঠে শুয়ে দেখবে অরোরা শান্ত তারাদের নিচে রাত কাটবে এমন যেন ছবি! যদি যেতে চাও, এই পথ ধরে— নিয়ে যাব তোমাকে আমার চোখের ভিতরে  

এই বৈশাখ ৯ ❑❑

যেন ঝড়ের দিকে যাওয়া, এই সময় ভালো লাগে, লাগে না তা ধিন ধিন, ভেঙে দেব শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়াতেই দেব না কো ঝড়— ও সহোদর আত্মহননের আগে আমার অশান্ত চোখ ধাক্কা দিচ্ছে দেয়ালে আমার অশান্ত চোখ তোমার ঢেউ এ ঢেউ এ আমার অশান্ত চোখ তোমার প্রতিটা বাঁক এ বাতাস এসে মুখ ভাসালে তোমার বুকে মুখ দেই ঈশানকোণে কালো মেঘ জমছে বিকালে  

আলোছায়া ❑❑

ঘুম বাদ দাও। স্বপ্ন বাদ দাও। জীবন বাস্তবিক। তার উপকরণগুলো একের পর এক শ্লেটে সাজাও। খড়িমাটিতে তোমার মুখ আঁকা যায়। আর মোমের আলোয় আমি অন্ধ কুমার। আমার স্বপ্নে যার আনাগোনা, সে তুমি নও। তোমার কথা তবে কেন লিখছি?  

আয়নার ওপাশে মেঘ ❑❑

ঢেউয়ে ঢেউয়ে খেয়াল রাখো; ঢেউ তোমার হাঁটুর কাছে এসে ভাঙে, অথচ জল নাই—পাহাড়ের বুঝি নিজস্ব ঢেউ থাকে! এই নিবিড় জগতে মানুষের সাড়া শব্দ নাই, অথচ বলো নারী, আর পাখি হয়ে যায়! মানুষ কি এক বিভ্রমের নাম, আয়নার ওপাশে মেঘ, চোখে চোখে কারে রেখেছ? বসন্ত বিকালে বায়ু বইছে ধীরে—কোন সিঁড়ি নেমেছে পাতালে? যেতে যেতে যাব সেই দিকে—গোধূলিতে আমার হাঁটু ভেঙে এল...  

স্মৃতি ❑❑

অন্ধচোখ, লাঠি হাতে পার হচ্ছে রাস্তা অন্ধচোখ: ট্রাম এগিয়ে আসছে তার দিকে— তার কি মনে পড়ছে সে জানে না অন্ধচোখ—লাঠি রাস্তায় মৃদু টোকা দিচ্ছে ঠক ঠক আর প্রবল ভূকম্পনে কাঁপছে পৃথিবী ছিটকে যাচ্ছে জীবনানন্দ, ট্রাম, দৃশ্যাবলি...  

প্রতিকৃতি ❑❑

সকাল বিষণ্ন
কুশল ইশতিয়াক

কুশল ইশতিয়াক

জন্ম ১৭ জুলাই, ১৯৮৭, বরিশাল। এমবিবিএস, ঢাকা মেডিকেল কলেজ। পেশায় চিকিৎসক,...বিস্তারিত