মায়াশৈশব ❑❑
বড় রাস্তা চলে গেছে গাঁয়ের পাশ। দু-চারটে দোকান আর সারি সারি রাবার গাছ। পুরনো স্মৃতির খাতা থেকে উঠে আসে লালবোর্ডের হর্ন; সকাল-সন্ধ্যায়। বিষণ্ন শালিকের ডানায় উড়ে আসে দিগ্বিদিকের হাওয়া। উত্তরের হাওয়ায় যখন পাতা ঝরার গান শুরু হয়, আমাদের তখন শীতকাল চলে আসে। শীতের অনেক ইতিহাস। মায়াশৈশব। অর্ধেক প্রেম। হারিয়ে যাওয়া গৌরি সেন। হালদার পাড়। জীবনের কত লেনদেন।
কারবালা, বামপাশে ❑❑
সন্ধ্যার ঠিক আগ মুহূর্তে; কুসুমভাঙা লালচে হলুদ আকাশে ছড়িয়ে পড়লে আমরা তার নাম দেই ‘হাসান-হুসেনের রক্ত’। গৌরি সেন হাসান-হুসেনকে চিনে না। আমরা কারবালার কাহিনি বলি।
পুরনো আধমজা খড়ের স্তূপে আগুন দেয় বুড়ো দাদা। ক্যাম্প ফায়ার, কুণ্ডলী পাকানো ধোয়া আর কুয়াশায় একাকার। তখনও শীতকাল। আমরা গোল করে দাঁড়িয়ে যাই। সালাম, সোহেল, শাকিল, মালেক... আর একপাশে নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকা গৌরি সেন। সদ্য নামা ঠান্ডায় গা গরম করা ছাড়া বেচারির ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে থাকার অর্থ বোঝে নি কেউ।
বহুদিন পর পুরনো স্মৃতি রোমন্থন করছি। গৌরি সেন তাকিয়ে আছে। একই রকম। ছোট্টবেলার মতো। হু হু করে কারবালা জেগে ওঠে বামপাশে। সেদিন আমি; আজ গৌরি, কেউ বুঝি নি কাউকে, আমাদেরও কেউ না। অথচ দুজনের বুকেই রক্তাক্ত কারবালা প্রান্তর।
ইতিহাস ❑❑
ওই যে, ওদিকটায় একটা ইতিহাস আছে। একটা ছোট কুঁড়েঘরের ইতিহাস। এক মুঠো সুখের ইতিহাস... সেই ইতিহাসে যোগ হলো উত্তাল বুড়িগঙ্গা তারপর।
বুড়িগঙ্গার ইতিহাসও পুরনো। জলের ইতিহাসও ভুলতে বসেছি। শুকনো বালুচরের ইতিহাসও ভরাট হয়ে গেছে। ইটের দেয়াল যদি ঘসে পড়ে, আবারও ইতিহাস হবে ঢাকা।
চাপাতি ❑❑
চাপাতি বড়ই সস্তা তারচেয়েও সস্তা মানুষের জীবন। চাপাতি শুধু কোপাতে জানে— ঊনমানুষ অতিমানুষ মানুষ এবং অমানুষ ভীত হও! আতঙ্ক ছাড়া তোমার বাঁচার অধিকার নাই।আমিই পৃথিবী ❑❑
তোমার উপনিবেশকালের পরিধি বাড়াও।
আমেরিকা আবিষ্কার তো সেই কবেই করেছ, সিংহপুর দখল করে নাম দিয়েছ ‘ক্রাউন কলোনি’। ভারতবর্ষ তো নগণ্য তৃতীয় বিশ্ব, চাইলে আফ্রিকায় নজর দিতে পারো।
যত পার বিস্তৃত করো ডানা, বিছিয়ে দাও সাম্রাজ্যবাদের জাল। কিন্ত আমাকে অতিক্রম করবে কিভাবে? যখন আমিই পৃথিবী, আমিই মহাকাল।