বয়ঃসন্ধির বসন্ত

পরিত্রাতা ❑❑

শোধ হয়ে যাচ্ছি প্রেম দূর অতীতের সকল পাপ সঞ্চয়েতে জমছে স্মৃতি জীবদ্দশায় বিষাক্ত সাপ। হাতের মুঠোয় জল থাকে না—হৃদয় মাঝে নদী একটা জীবন, ফের হারাল; প্রিয় অনন্ত অবধি।

পবনের বৈঠা ❑❑

প্রিয়, কুসুমবনে সাপও থাকে—ওড়ে মৌমাছি তুমি তো জানো না রেণু, আমিও যে আছি; মৃত্যুঘ্রাণ নিয়ে, বুকের মধ্যে সোনার নৌকা, চোখের মাঝে নদী দাঁড় বেয়ে সে কোথায় চলি —পরপারের দেশে? যদি, কুসুম ফুরায় ঘ্রাণ, মরণ না মানে? তুমি কি গো, জানবে রেণু, কে গেছে, পবনে? মনে যদি নাইবা রাখ, কুসুমবনের স্মৃতি, দূর পৃথিবীর সকল জলে ধুয়ে ফেইল—পিরিতি!

সহ্য শিখে যাই ❑❑

প্রতিপদে কাল জানালে বিদায়, কুয়াশায় বাঁকা চান তুমি চলে গেলে অটোরিকশাতে বাতাসে ফসলি ঘ্রাণ! ফিরে ফিরে যাওয়া, পথে পথে হাওয়া হৃদয়ের ঘরে জগতের চাওয়া তুমি তুমি শুধু তোমায় সুদিন আসবে তাই সহ্য করে যাই—সহ্য করে যাই।

পুরনো পাহারাদার ❑❑

আগুনে চোখ রেখে—পাহারা দিচ্ছে প্রহরী, হাতে লাঠি ঠকঠক, ফুসফুসে বাজায় বাঁশি ঠান্ডায় করে, হ্যাচ্চো! তবুও ঘরে থামে না খুন নিয়মের রমণ শেষে, নারী মুছে ফেলে দাগ পাশ ফিরে হাঁপায় পুরুষ। সকাল আসে আলোয় হারায়ে যায়—অন্ধ প্রহরীরা সব।

বয়ঃসন্ধির বসন্ত ❑❑

বাতাসে উড়িছে পুষ্পরেণু, বুঝি নিকটে রয়েছে কামিনী। বুঝি বসন্ত আসে আসে, বুঝি রৌদ্র-জলে, মাটি হওয়ার সময় বহিছে ধীরে! কোল ছেড়ে সেই কবে মাটিতে রেখেছি পা, মা’রে তবুও মেয়ে তো মনে হয় নাই আগে!—পৃথিবীতে এত আলো অন্ধকার ঘর তবুও হতেছে নির্মাণ। সেখানে আশ্রয় নাই, অনুমতি নাই, শুধু আছে প্রবেশের পাশ। যেন দায়বোধে যেতে হবে, যেন পালানোর নাই উপায় ধীরে ধীরে নতমুখে ওই কে পিছায়, বাতাসে উড়িছে ফুল, গাছেরা পিছে পিছে! চেনা নাই অচেনারে তবুও হাত উঠে আসে, বিদ্ধ হয় তির শরীরের স্রোতে। জীবনের জল বুঝি উতপ্ত এমন, এমনই পিচ্ছিল তারা, যেমন জীবিত জীবন। অপরাধে নুয়ে পড়ে কে ওই, শরীরে শরীরে কার এই শিহরন? গোপনেতে কে পথে ডেকে নেয়—ফুলে ফুলে থাকা বুক দেখানোর ছলে। ভয়ে ভয়ে কাঁপে বুক, শিখেছি তুমুল অসুখ সুখ হয়ে আসে তাই, রোদ্দুরে বিষবাষ্প মেলে সুচতুর চোখ দেখে নেয় সব কিছুই না দেখার ছলে! মুখোমুখি দাঁড়ানোর আগে আয়নায় ছায়ারা নড়ে, কার মুখ ওইপাশে? কে ভীষণ বেদনায় কাঁদে বড় হয়ে যাচ্ছে বলে! ছোট হয়ে যাচ্ছে কি সময়? মায়া মায়া নিয়ে ঘুমের ভেতরে কারা প্রলোভনে টেনে নেয় দেখায় সমস্ত খুলে, আরও আরও গভীরের আহ্বানে শরীর যে নেচে ওঠে, তবুও বুঝি জলে ভিজে হয় নি গোসল! কে শেখায় এই ছল, প্রভু কার হাতে এই অনির্বাণ শোকের মিছিল, যেতে যেতে ভুলে যায় পথ! হারানোর কাল বিরাট বিস্ময়ে কেন গাঢ় যন্ত্রণার বাক্স খোলে। বইয়ের পাতায় ভাঁজে কার ঘ্রাণ, বুকের বামপাশ মুচড়ে কে খুলছে কপাট?—জলের জাহাজ কে ভাসাল পুকুরে ও ঘরে? আকাশে ভাসিছে—মেঘ, বুঝি নিকটে রয়েছে ব্রহ্ম। নিবার্ক সে!

পাতালে নাচিছে—পরি, বুঝি গভীরে বাড়িছে পাপ। লোভী সে!

জলেতে মিশিছে—বয়স, বুঝি ক্ষয়ে যাচ্ছে শৈশব। নিষ্পাপ সে!

স্থলে স্থির—আঁধার, বুঝি হৃদয়ে জাগিয়ে মায়া। স্বপ্নবান সে!

ফুলে ও ফসলে মাঠ বেড়ে উঠে বেগে, কে লেখে পুণ্যস্মৃতি কালো রাত জেগে, উল্লাসে কার দিঘি ভরেছে চাঁদে, তবুও শুনি ক্লান্ত স্বরে কে যেন কাঁদে? শোক ও সুখের বায়ু দুই ফুসফুসে ভরে, কে ওই উদ্ধত পায়ে খাড়া করেছে মাথা ঋতুর আগাছা ঝেড়ে গুটিগুটি হেঁটে, শীতের ফসল নিয়ে কে ফিরছে ঘরে, ওই ছায়াহীন শরীরে! ওরে দাও উঠান জীবন, দাও বসন্তের গান। দাও কিছু মায়া, যেটুকু জমেছে ডোলে অবহেলার সঞ্চয় ভেবে মুছে দিয়ো না তার সবটুকু ছায়া।
মনোজিৎ মিত্র

মনোজিৎ মিত্র

কবি। জন্ম ১০ ডিসেম্বর, ১৯৮৯; মধুখালী, ফরিদপুর। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে...বিস্তারিত