অলঙ্করণ : সারাজাত সৌম
দগ্ধ মরুভুমি কিনারে দাঁড়িয়ে আছি। এতটা পেরিয়ে আসার জিজ্ঞাসা শেকলে বাঁধা পরিমিতিবোধ দহনসম শীতলতা, যাদের এ যাবৎ ভালো করে জেনে ওঠাই হলো না। ফিরে গিয়ে শুধু একবার তাদের সমুখেই নতজানু দাঁড়াতে ইচ্ছে জাগে।
যেন আবারো ঘুরে দাঁড়াতে চাই একাকী লুব্ধক হাতে। দেখতে চাই আগুনে ফুটে ফুটে ওঠা কান্তিমান সমস্ত দাহ্যতা। নির্দয় দেহজ আগুন যদিও এড়ানো সম্ভব নয়। যেন শুধু এই বিপুলার দিকে তাকিয়ে উড়িয়ে দিতে চাওয়া এক নিয়ত মনোময়তা।
মূলত এসবের ভেতরেও হয়তো কোনোদিন ফিরে পাবো না বিস্ময়ের সেসব পরাভব শৈশব ম্লানিমা আত্মদংশনের মিশ্রসব সদুত্তর
অন্তত বেঁচে ওঠা যাবে দোঁহে’র অভ্যন্তরে পুনরায়
আত্মজ
বাসনার সমস্তটাই গ্যারেজ। হাওয়ারা আসা-যাওয়া করে। খুক্ করে কেশে ওঠার নির্দেশনা কোথাও সাঁটা নাই। ঘুরতে ঘুরতে যেখানে এসে পড়ি—এর নাম গণককুঞ্জচালতালয়। জীবনানন্দকে দেখা যাচ্ছে—তবে, ফুল গাছ থেকে একটু তফাতে।
লিমিট লিমিট বলে চেঁচিয়ে সুনশানতা ভেঙে ফেলার কারুকাজ দেখতে দেখতে কীভাবে নতুন ছবকে পালক গুঁজে রাখতে হয়; শিখছে।
প্রতিদিন, এই গড়িয়ে গড়িয়ে চলে যাওয়ার কাছে এক বর্ষা এমন কিছুই নয়। মনস্তাপময়তায় ভুগে, ভিজে চুপসে উঠছে পড়া। তবু, শীত এপথ দিয়েই আসে।
এই জজবা রোদগ্ধ কালে এমন কালো নামছে বুকের জানালায়! চুপ করে পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে বাওফুল তোলার দিন!
বন্ধুতা (জয়া-কে)
রয়ে গেল, বেশ কিছুটা অমীমাংসিত। দলা দলা থুথুয়াল স্থিরচিত্রের মৌনতা। স্তব্ধ বাগান অপরিণত গাছপালার আর্ত চিৎকার। রয়ে গেল কিছুটা ফ্লুলজ জঠরজ্বালা, শ্যামলিম অন্ধতা
রয়ে গেল, কিছুটা ফেসিয়াল অভিসন্ধিৎসু জখম। বেমানান যৌনতার সূচক চিরে খাঁ খাঁ করা হেমন্তকল্যাণ।
রয়ে গেল, হুবহু তোমার মতো আমার মতো দেখতে আয়নাল জলজতা... কিছুটা নিখাদ যোগসূত্রতার স্থাপত্য
বন্ধুতা নিভে গেলেও নিকটে পড়ে র’বে এক সঘন বন
টেরাকোটা
হয়ে যাওয়া মীমাংসা থেকে কিছু সানুনয় ঘ্রাণ অম্ল মধুরতা ছুটে ছুটে আসছে। যেন, একটা নীলাভ ময়ূর এখনো ডেকে চলেছে; একটা ময়ূরী এখনো ডেকে ডেকে চলেছে...ঝর্নার কাছে। পাশেই এইমাত্র একটা ফুল সমস্ত উপেক্ষায় থমকে যেতে যেতে সবেগে ফুটে উঠেছে।
কতদিন অপ্রস্তুত অথচ মৌন মুখর শব্দে শব্দে ভাঁজ করে রাখার মতো বিকেল ঘনিয়ে আসে না। কল্যাণকামী ঝড় থেমে যেতে যেতে হঠাৎ পুকুরময় রাজহাঁসের ভাষা বর্ণময়তা ভেসে ওঠে না।
সাজসজ্জার কস্টিউম খুলে খুলে পড়লেও অদৃশ্য বেতারে মিলেমিশে বাজিয়ে যাবে অন্ধ সানাই।
ইজেলে : ৩
যতটা লিখছি মুছে যাচ্ছে, মুছে যাচ্ছে... আমার পেছন পেছন কি তবে তুমি আসছ মুছে দিচ্ছ জল ভেবে সমস্তটা... সমস্তটাই