অর্ধেক পৃথিবী আমলকী কুড়ায় তখন

জ্বর

. মনে হচ্ছে এক আশ্চর্যবোধক চোর আমাকে বোকা করে কিছুই না হাতিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে খুব—যেন দূর এই ইতস্তত রাত্তির প্রতিবেশী মেয়েটির ভীষণ মাতাল ভোররাত ঘরে ফিরছে আমার নিজের দরজা ভেবে টিংটং খুলে দিচ্ছি ভোর, হাওয়া এসে ঝাড়ু দেবে চোর—কেটে যাবে রাতের মতন—নেশা রক্তের ভেতরে আমার শিরা-উপশিরাময় পুলিশ দৌড়ে ফিরছে প্রচণ্ড আত্মসমর্পণ ঘটে যাচ্ছে তাতে যেন ব্যাস, কিছুই করার আর নেই মানে যে জীবন ভাবছ তোমার সেও কবে যাপন করিয়া গেছে কেউ—মরেটরে গেছে

আমলকী

. কোনো বিবর্ণ বটবৃক্ষের প্রতিবিম্বের মতো, আকাশে ঝুলে আছে একখণ্ড মেঘ। কিন্নরী, তোমাদের বাগানের আমলকী গাছটিও আরেক আকাশ। একেকটি আমলকী, মাঝে মাঝে মনে হয়, নক্ষত্রের মতো বিস্তারিত। কখনো বিকেলবেলা তুমি—চাঁদ হয়ে মগডালে ওঠো, আর আমলকী টুপটাপ ঝরতে থাকে। অর্ধেক পৃথিবী আমলকী কুড়ায় তখন। বাকি অর্ধেক—খসে যাওয়া নক্ষত্রের কাছে চোখ বুজে প্রার্থনা করে।


বৃক্ষ

. জানালার ওপাশে দু’টো বৃক্ষ দাঁড়িয়ে আছে। খুব কাছে পাশাপাশি স্পর্শের আকাঙ্ক্ষাবিহীন যেন কারো প্রতি কারো কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই এপাশে— আমরা দুজন বৃক্ষ হতে চেয়ে কতবার, ব্যর্থ হয়েছি

তখন রাত ছিল

. চাঁদ রাত্রির যে কোনো রাস্তায় যেন ফুটেছে কেমন ফুল পৃথিবীর বাইরে কোথাও আর হাঁটছি এদিকময় পিতার চপ্পল পা’য় জ্যোতিকার প্রিয় সুর গুনগুন করছি একা আলো ও আঁধারে যাই উচ্ছনে চলে যাই তবু এক চাঁদ ওই রাত্রির যে কোনো রাস্তায় যেন পুলিশ পুলিশ ভাব কিছুতে এড়ানো যায় না

সন্ধ্যাকালীন

. সন্ধ্যাকালীন। ধরো, পথের দুইপাশে, সহস্র বইয়ের দোকান তুমি, বিরল বইয়ের মতো। তোমাকে খুঁজছিলাম হালকা শীত বৃষ্টি তুমি শেলফ থেকে—বই থেকে—পাতা থেকে—অক্ষর ঝেড়ে মুছে আবার গাছ হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লে কেন অদ্ভুত আবহাওয়া আজ। দুটো বৃষ্টিফোঁটার ব্যবধানে, ঝরতেছে রাশি রাশি শুকনো পাতা

একদিন

. হয়তো মধ্যরাতে মদটুকু ফুরিয়ে যাবে আয়ুর মতন। কাছে ও কিনারে তখন, ওই চারটে দেয়াল প্রতিবেশী বাইরে অগণিত ভিনগ্রহচারী। এসময় স্বচ্ছ আকাশ, অথচ আয়না মিথ্যে বলে এ সময় শূন্য বোতলটাকে টেলিস্কোপের মতো মনে হতে পারে। যদি তাতে উকিঁ দিয়ে আকাশে তাকাও, আর শতকোটি আলোকবর্ষ দূর হতে, যদি চুইয়ে চুইয়ে নামে—শেষফোঁটা মদ

ঝড়ের পর

. গাছগুলো হেলে গেছে কিবলামুখী। এক কিবা দুইটি পালক ঐ উড়ে গেছে নিজস্ব পাখিরে ফেলে। আমি এইখানে আমাকেসমেত আজ একবার চোখ বুজে ফের তাকালেই : নিজেকে খুঁজে পাই গাছের শরীরে ফের পাখির শরীরে ফের এক কিবা দুইটি পালক...
রনক জামান

রনক জামান

জন্ম ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৯১; মানিকগঞ্জ। কবি ও অনুবাদক। রসায়ন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর...বিস্তারিত