চলমান ভারতের ধারাভাষ্য : অরুন্ধতী রায়ের দ্য মিনিস্ট্রি অব আটমোস্ট হ্যাপিনেস

প্রথম উপন্যাস দ্য গড অব স্মল থিংকস নিয়ে বেশ হইচই ফেলেছিলেন বছর বিশেক আগে অরুন্ধতী রায়। এবার তার দ্বিতীয় উপন্যাস দ্য মিনিস্ট্রি অব আটমোস্ট হ্যাপিনেস। এই উপন্যাসটিকে এক কথায় ডকুফিকশন বলা গেলেও উপন্যাস লেখার স্টাইল তার নিজস্ব। অনেক সমালোচক হয়তো এগুলোকে উপন্যাসও বলতে চাইবেন না। কিন্তু তাতে কী। প্রতিটি সৃজনমনস্ক লেখকেরই তো উচিত তার নিজের মতো স্টাইল তৈরি করা। অন্যের মতো ভূরি ভূরি সাহিত্য উৎপাদনে নিজস্বতা কই? বিশ বছর পরে কেন দ্বিতীয় উপন্যাস? তাহলে এই বিশ বছরে কী তিনি আর কিছু লিখেন নাই? যারা খবরাখবর রাখেন তারা জানেন অরুন্ধতী রায় শুধু লেখক নন বা তিনি নিজেকে শুধু একজন লেখকও মনে করেন না। লেখকের সাথে সাথে তিনি একজন কাণ্ডজ্ঞান সম্পন্ন চিন্তকও। সোজা কথায় তিনি একজন ইন্টেলেকচুয়াল। তার মধ্যে ঘটেছে বিবেক আর বুদ্ধির মেলবন্ধন। গত বিশ বছরে তিনি ভারতের মাঠে ঘাটে ঘুরেছেন। কূপমণ্ডূক রাজনীতিকদের বৈশ্বিক পুঁজিতান্ত্রিক চলমান রদ্দি গণতন্ত্রের ব্যাপক সমালোচনা করেছেন তিনি। তার হাত দিয়ে অনেকগুলো ননফিকশন ডকুমেন্ট তৈরি হয়েছে। তিনি ভারতের হৃদয়ের স্পন্দন শুনেছেন। তিনি দলিত সম্প্রদায়ের পক্ষে কাজ করেছেন। যারা বাঁচার জন্য নিজেদের পরিচয়ের জন্য লড়াই করে চলেছেন জীবন বাজি রেখে। তিনি ব্রোকেন রিপাবলিকঅকুপাই ওয়াল স্ট্রিট, দি অ্যান্ড অব ইমাজিনেশানকাশ্মির : দ্য কেস ফর ফ্রিডমদ্য সেপ অপ দি বিস্টলিসনিং দ্য গ্রাসোপার বইগুলোসহ অনেকগুলো প্রবন্ধ নিবন্ধ লিখেছেন। অনেকেই ভেবেছিলেন তিনি হয়তো আর ফিকশনই লিখবেন না। কিন্তু তার এই নীরবতা আসলে ঝড়ের পূর্বাভাস ছিল। এতদিন তিনি আসলে ফিল্ডওয়াক করছিলেন। তবে তার এই বিচরণকে শুধু ফিল্ডওয়াব বলা যাবে না। কারণ তার কাজের সাথে আত্মিকভাবে তিনি একাকার। তারই প্রমাণ এই উপন্যাস।


কংগ্রেসকেও তিনি ছাড়া দেন নাই। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে তিনি বলেছেন ফাঁদে পড়া খরগোশ।


ঔপন্যাসিক হিসাবে অরুন্ধতী তার প্রতিটি অধ্যায়ের নামকরণ করেন। গড অব স্মল থিংসেও তাই ছিল। এই উপন্যাসে তিনি বারোটি অধ্যায় লিখেছেন। তার উপন্যাসে নির্দিষ্ট কোনো নায়ক নায়িকা নাই আবহটাই এখানে বিষয়। শিশু আফতাব যে কিনা ধীরে ধীরে হিজড়া আঞ্জুমে পরিণত হয় এভাবেই শুরু হয় কাহিনি। হিজড়াদের মনোজগৎ থেকে চলমান ভারতের মাওবাদি বিদ্রোহ, কাশ্মির সমস্যা আর গুজরাতের লালা তথা নরেন্দ্র মোদির উত্থান আর টালমাটাল ভারত। মোদি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘গুজরাতে কি লালা নিজের একটি সদম্ভ ভাবমূর্তি গড়ে তুললেন এবং কয়েক শতাব্দী ধরে মুসলমান শাসনের প্রতিহিংসা নিয়ে অনেক বানোয়াট কথা বলতে লাগলেন। প্রতি জনসমাবেশে তিনি তার সিনার মাপটা দেখানোর কোনো না কোনো পথ বের করে নিতেন [৯৫৬ ইঞ্চি।’ মোদির ক্ষমতায় আসার পরে ভারতের শাসন ব্যবস্থার ভয়াবহতা তিনি তুলে ধরেন। এরপর বনগুলো উজাড় হতে থাকল। উন্নয়নের নামে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে অবাধে লুটপাট করার সুযোগ করে দেওয়া হলো। গরিব ও সংখ্যালঘুদের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে তাদের নগরী থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হলো। তিনি বলেন, এইসব ঝলমলে আলো এবং বিজ্ঞাপন থেকে দূরে, গ্রামাগুলো খালি হয়ে যাচ্ছিল, নগরীগুলোও। লাখ লাখ মানুষ সরে যাচ্ছিল, কিন্তু কেউ জানত না কোথায়। ‘যেসব মানুষের নগরীতে বসবাসের সঙ্গতি নেই তাদের এখানে আসা উচিত নয়।’ সুপ্রিমকোর্টের একজন বিচারপতি বললেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে নগরী থেকে গরিব মানুষদের সরিয়ে দেয়ার আদেশ দিলেন।’ মাদক ব্যবসা, এটা সেটার নামে বিরোধী বা সংখ্যালঘুদের ক্রসফায়ারে মারা হতে লাগল। পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী মোদির একবছরের শাসনামলে শুধু দিল্লীর রাস্তায় প্রায় তিন শ বেওয়ারিশ লাশ পাওয়া গিয়েছিল। এছাড়াও শুরু হয়েছিল অভিনব অনেক প্রতারণা। তিনি বলেন, বুড়ো লোকটার এমন কোনো চিন্তা ছিল না, যা এক গুরুত্বপূর্ণ পথের সন্ধান দিতে সক্ষম। কয়লা প্রতারণা, লৌহ-আকরিক প্রতারণা, আবাসন প্রতারণা, বীমা প্রতারণা, স্ট্যাম্প পেপার প্রতারণা, ফোন লাইসেন্স প্রতারণা, ভূমি প্রতারণা, বাঁধ প্রতারণা, সেচ প্রতারণা, পেট্রোল পাম্প প্রতারণা, পোলিও-টিকা প্রতারণা, বিদ্যুৎ বিল প্রতারণা, স্কুল-বই প্রতারণা, ধর্ম-পুরুষ প্রতারণা, খরা-রিলিফ প্রতারণা, গাড়ির-নম্বর প্রতারণা, ভোটার লিস্ট প্রতারণা, পরিচয়পত্র প্রতারণা, যাতে রাজনীতিবিদ ব্যবসায়ী, ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদরা অকল্পনীয় পরিমাণে জনসাধারণের অর্থ হাতিয়ে নেয়।’

কংগ্রেসকেও তিনি ছাড়া দেন নাই। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে তিনি বলেছেন ফাঁদে পড়া খরগোশ। মনমোহন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘টিভিতে সবাই ফাঁদে পড়া খরগোশটিকে দেখেছিল—বলতে গেলে তার সিনা বলে কিছুই ছিল না—বুলেট প্রুফ বেষ্টনীতে তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন, তার পেছনে ঝুঁকে পড়ছিল লাল কেল্লা, অবলীলাক্রমে তিনি আমদানি-রপ্তানির জটিল পরিসংখ্যান বলে যাচ্ছিলেন অনুৎসাহী জনসাধারণকে, যাদের কোনো ধারণাই ছিল না তিনি কী বলছেন। পুতুল নাচের পুতুলের মতো তিনি কথা বলছিলেন।’

উত্তপ্ত কাশ্মির

কাহিনির কেন্দ্রবিন্দু একটা প্রায় পরিত্যক্ত গোরস্তান। যেখানে সবধরনের মানুষ ও পশুদের আশ্রয় যার তত্ত্বাবধানে আছে হিজড়া আঞ্জুম। হয়তো এই গোরস্তান বর্তমান ভারতেরই ল্যান্ডস্কেপ। ফ্ল্যাশব্যাক আর জাম্পকাট তিনি এত দ্রুত করেন যে তার সাথে পাঠক তাল হারিয়ে ফেলতে পারেন। আর তিনি প্রচুর সিনেমাটিক ডিটেলস ব্যবহার করেন। খোয়াবগাহ নামের অধ্যায়ে তিনি আওরঙ্গজেবের আমলের একজন মানুষের কথা বলেন যার নাম সারমাদ শাহিদ। যার নামে দিল্লীতে মাজার গড়ে ওঠেছে। কে ছিলেন সেই সারমাদ শাহিদ? সারমাদ শাহিদকে কেন্দ্র করে অনেকগুলো গুজব আর কিংবদন্তি তৈরি হয়। তিনি বলেন, বেশির ভাগই জানত তিনি ছিলেন আর্মেনীয় ব্যবসায়ী। যিনি তার জীবনে ভালোবাসার জন্য আর্মেনিয়া থেকে দিল্লীতে এসেছিলেন। অল্প কয়েকজন জানত তার জীবনের ভালোবাসা ছিল অভয়চাঁদ নামের এক হিন্দু বালক, যার সাথে দেখা হয়েছিল সিন্ধুতে। বেশির ভাগ জানত তিনি ইহুদি ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। অল্প কয়েকজন জানত তিনি শেষমেষ ইসলাম ধর্মও ত্যাগ করেছিলেন। বেশির ভাগই জানত মৃত্যুদণ্ডের আগে তিনি উলঙ্গ ফকির হয়ে শাহজাহানাবাদের রাস্তায় রাস্তায় বাস করতেন। অল্প কয়েকজন জানত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার পেছনে উলঙ্গ হয়ে ঘুরে বেড়ানোটা কোনো কারণ ছিল না, আসল কারণ ছিল স্বধর্ম ত্যাগ। সে সময়ে সম্রাট আওরঙ্গজেব সারমাদকে তার দরবারে তলব করেন এবং তিনি যে একজন সাচ্ছা মুসলমান তা প্রমাণ করার জন্য লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ কালেমা বলতে আদেশ করেন। লালকেল্লার রাজদরবারে কাজী ও মাওলানাদের সমন্বয়ে গঠিত জোরিবোর্ডের সামনে সারমাদ উলঙ্গ দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি যখন কালেমা পাঠ করতে শুরু করলেন তখন আকাশের ভাসমান মেঘগুলো থমকে গিয়েছিল, ওড়ার মাঝেই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল পাখিরা এবং কেল্লার আবহাওয়া ঘাঢ় ও অপ্রবেশ্য হয়ে উঠেছিল। কারণ তিনি শুরু করতে না করতেই থেমে গিয়েছিলেন। তিনি শুধু প্রথম শব্দবন্ধ লা ইলাহা উচ্চারণ করেছিলেন। যেটুকুর অর্থ কোনো ঈশ্বর নাই। আওরঙ্গজেব কাজীদের সমর্থনে সারমাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। আর এই সারমাদের কবর হয়ে উঠেছিল দর্শনার্থীদের জন্য উলঙ্গ ফকিরের মাঝার।

অরুন্ধতী রায়

যেখানে শিশু আফতাব হিজড়া আঞ্জুম হিসাবে পরিণত হওয়ার আগে তার মা তাকে নিয়ে গিয়েছিল। অরুন্ধতী বলতে চেয়েছেন ইতিহাস না জেনেই অনেকেই যে কোনো বিষয়কে গুজবে এবং গুজব থেকে আরজে পরিণত করে। বিশেষ করে ধর্মান্ধরাই এগুলোর জন্য দায়ী। বইয়ে এরকম অনেকগুলো ছোট ছোট মজার বিষয় আছে। যেটা হয়তো তার টেকনিক। এই অধ্যায়েই তিনি সেই সময়ের রূহ আফজা সম্পর্কে চমৎকার এক তথ্য দেন। কারণ হিজড়া আঞ্জুমের বাবা মুলাকাত আলী এই কোম্পানিতে কাজ করতেন। তিনি বলেন, মুলাকাত আলী ছিলেন একজন হেকিম। ভেষজ চিকিৎসক। তিনি তার সারা জীবন অন্য এক হেকিমের হয়ে কাজ করেছেন। হেকিম আবদুল মজিদ। যিনি এক জনপ্রিয় শরবতের ব্র্যান্ড রূহ আফজার প্রতিষ্ঠাতা। খুরপার বীজ [নুনিয়া শাক আঙুর, কমলা, তরমুজ, পুদিনা, গাজর, পালংশাকের রসের একটু ছোঁয়া, খুশ খুশ, শাপলা, দুই রকমের লিলি এবং দামেস্কের গোলাপের রস—এইসব মিশিয়ে তৈরি হয় বলে এটি এক অনন্য টনিক। মানুষ দেখল দুই চামচ সিরাপ খেতে যে শুধু দারুণ স্বাদের তাই নয়, গরমে দিল্লীর প্রচণ্ড দাবদাহে কিংবা এই এলাকার মরুভূমির উত্তপ্ত বাতাসের কারণে হওয়া এক ধরনের অদ্ভুত জ্বরের বিরুদ্ধে এটি খুবই কার্যকরী এক পানীয়। রূহ আফজা একটি সমৃদ্ধশালী শিল্পোদ্যোগে পরিণত হলো। চল্লিশ বছর ধরে এটি বাজার শাসন করল। পুরানো দিল্লীতে, সদর দপ্তরে উৎপাদিত এই পানীয়টি দক্ষিণে হায়দ্রাবাদ ও পশ্চিমে আফগানিস্তান পর্যন্ত সরবরাহ করা হতে থাকল। এরপর দেশভাগ। দিল্লী থেকে মুসলমান পরিবারগুলো পালাল। পাকিস্তান থেকে নতুন অনেক হিন্দু পরিবার এল তারা প্রাচীরের বাইরে তাদের বসতি গড়ে নিল। রূহ আফজা মহা বিপত্তিতে পড়ে গেল কিন্তু শীঘ্রই তা কাটিয়েও উঠল। পাকিস্তানে এর একটি শাখা খোলা হলো। সিকি শতক পর পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যা চলার পর রূহ আফজা সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের আরেকটি শাখা খুলল। এই পানীয়টি আত্মার এই অমরত্বের সুধাটি, কয়েকটি যুদ্ধ এবং তিন তিনটি দেশের রক্তাক্ত জন্মের পরও টিকে থাকল। কিন্তু শেষমেষ পৃথিবীর বেশির ভাগ জিনিসের মতোই কোকাকোলা ব্যবসায়ীর চাতুর্যের কাছে মার খেয়ে গেল। এভাবেই ভারতের যা নিজস্বতা ছিল তা ক্রমে ক্যাপিটালিজম তথা মাল্টিনেশনাল কোম্পানিগুলোর দখলে চলে গেল।


আমরা আমাদের গুলি কিনি সেনাবাহিনীর কাছ থেকে, একেকটি বুলেট কিনি বিশ রুপি দিয়ে।


তবে এই উপন্যাসে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে কাশ্মির প্রসঙ্গ। কাশ্মিরে তথাকথিত জঙ্গি দমনের নামে ভারতের সেনা বাহিনী যে ভয়ংকর নাশকতায় মেতেছে সে সব তিনি তুলে এনেছেন তার স্বভাবজাত দক্ষতায়। কাশ্মিরের তথাকথিত আইজাজ নামের এক সন্ত্রাসবাদীকে গ্রেফতার করে জেরা করছিল বিশেষ পুলিশ নাগা।

তুমি সীমান্ত পাড়ি দিয়েছ? পাকিস্তান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছ? নাগা বলল।

আইজাজ বলল, না আমি এখানেই প্রশিক্ষণ নিয়েছি। এই কাশ্মিরেই। আমাদের এখানো এখানে সব আছে। প্রশিক্ষণ, অস্ত্র। আমরা আমাদের গুলি কিনি সেনাবাহিনীর কাছ থেকে, একেকটি বুলেট কিনি বিশ রুপি দিয়ে।

নাগা অবাক হয়ে জিগ্যেস করে সেনা বাহিনীর কাছ থেকে? আইজাজ বলে, হা। তারা চায় না জঙ্গিবাদ শেষ হয়ে যাক। সব্বাই তরুণ কাশ্মিরিদের শরীরকে পুঁজি করে মাল কামিয়ে নিচ্ছে।

অমৃক সিংয়ের মতো এক ভয়ংকর চরিত্র আঁকেন তিনি। যিনি কাশ্মিরিদের ভয়ানক অত্যাচার করেন। সারা ভারতের সব বাহিনীর হিংস্র অফিসাররাই কাশ্মিরে। এই অমৃক সিং বলেন, আমি ভারত সরকারের শিশ্ন। আমার কাজ হচ্ছে কাশ্মিরিদের লাগানো। এই অমৃক সিং অবশ্য পরে ভারত ছেড়ে কানাডা চলে যায় সপরিবারে নিজেকে সেফ করার জন্য। কিন্তু শেষ রক্ষা হয় না। তিনি পরিবারের সবাইকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেন। উপন্যাসের একটা বৃহৎ অংশ জুড়ে আছে তিলোত্তমা চরিত্রটি। কিন্তু চরিত্রটি সেভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারেন নি অরুন্ধতী। তারপর রয়েছে কাশ্মিরের বিপ্লবী মুসাসহ আরও অনেকেই। তবে সাহিত্যকেও যে দরকারি কাজে ব্যবহার করা যায়। ঔপন্যাসিকও যে কতটুকু সমাজ সচেতন হতে পারে বইটি তার জ্বলন্ত প্রমাণ। বইটিতে ভারতের যে চরিত্র আঁকা হয়েছে তা আসলে পুরো সাবকন্টিনেন্টের চরিত্র। আমেরিকা থেকে মধ্যপ্রাচ্য কিছু বাদ যায় না। বইটির পাঠাভিজ্ঞতা সমাকালীন বিষয়গুলোকে ভিন্নভাবে অনুভব করার সুযোগ করে দেয়।

জাহেদ সরওয়ার

জাহেদ সরওয়ার

জন্ম ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৭৬; মহেশখালী দ্বীপে। স্নাতকোত্তর, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।...বিস্তারিত