রাজনীতিসাপ

রাজনীতিসাপ .

                   ...ব্যাধের শ্বাসেও ঘুমায়—রুনুঝুনু মন্ত্র...                    ...কাফেলা থেকেই জন্মায়—গণতন্ত্র... জয় চায় রথকেতু, পাল চায় হাওয়া, আর মাঝি চায় নাওসাঁতার ও দ্রুতি— একদিন মল্লিকারাও বেরিয়ে পড়ে তামাপোঁতা সবুজ ঘাস ও মেষের মাঠে এমনকি যারা বাঁ হাত দিয়ে পেঁচিয়েছে শরীল তারা বেরিবেরির কাঁধ ছুঁয়ে বাতিমালায় বেনো সন্ধ্যা ঢেলে বেলশুঁঠের ছায়া বিক্রি করে—তারা কি চিনে বিশদ হরিতকীর ফল, বহেড়ার বন আর হরিতাশ্মের আকর...!                    ...উড়ুক্কু ডানায়—বংশীয়ালের সুরহাওয়া...                    ...ভেষজপাতায়—নীরব রশ্মির ভূ-মায়া... পড়ে তো থাকেই তিতা গন্ধের রাবণেও তেজোগর্ভের তেজপাতার সুবাস... এতো সূক্ষ্ম রশ্মি যেন গামার ন্যায় প্রকাশ তার, উড়ার পরের দৃশ্য মোটেই স্নিগ্ধ নয়—স্থির কাকের ন্যায় কর্কশ...রাতুলপথ—গান্ধার পাড় হওয়ার পরের দৃশ্য—এই কথা জেনেও মুকুটের পূর্বাপর বারবণিতার ডেরায় বসে রক্তসম্ভবার ভবিষ্যৎ কেড়ে নেয়...আর আমরা একটা রাজনীতিসাপ পুষি— যা গলায় কাঁটা বিঁধার মতো—ঝুলছে...                    ...আপাত মহান রাজ—ভ্রষ্ট কীটের কোরক...                    ...সিলভার চাবুক—নীল দাগোৎসবের ট্র্যাডিশন... কাঠের ফলক ফেলে একদিন চিতার শাসন মানুষের বিপক্ষ কাতার হবে— এ দৃশ্যেও ঘৃতাহুতি দিবে কিছু লোমশ ভেড়া ও চোখা চিল, রাহুর আত্মা... নিরর্থক, নাজাতের পথ ভেবে যা কিছু করেছ, মানুষ, সবই নিরর্থক... ধর্মপাখির ডানায় যে বাতাস তাতেও ভ্যাপসা গন্ধ, লু-হাওয়া, অবদমন... যদিও আলো, এমনকি পুণ্যাত্মা সরল ও সমান্তরাল ভেবেছি, তাও বাঁকে— রিপুর শানে কলেমা পড়ে ব্লাড-মুনের ন্যায় গোলাকার বৈতরণীর ওপাড়...                    ...সারসমনেও স্থির—দুধের ঢিবি ঢুঁঢুঁ...                    ...সমুদ্রও ঢেমনা—ডাহুকের কলবে রুরু... তকদির ফেলা দিন ঘষে সবুজ ঘাসের প্রান্তর খুঁজে পায় রক্তকরবীর আয়াত— তোমাকে তাদের মিনারেই দেখেছি—বীজতলার জমিন ফুঁড়ে ওঠা এক ভ্রূণ— হাতির শুঁড় দিয়ে যারা রাজ-সুইপারের কাজ করে তাদের ঘরেও সিঁধ কাটে এক সৌর ডিগ্রি সেলসিয়াসে নীল নীল শিরের মহান মহান রাজনীতিসাপ... করবীর ঠোঁট বেয়ে একদিন আসমান পশুপাখিদের নিয়ে শোকসভা করবে— এই ভাবনা থেকেই অনেক দিন হলো সগোত্র ছেড়েছি, আর সিনায় নিয়েছি— তাজা শাল্মলীর রুহ,  কার্পাসবনের সিম্ফনি আর সমুদ্রতারার ঝলক অলক...                    ...কুত্তার ছালেও বত্রিশপারা মহব্বত—রজতময়...                    ...সুকানে যদি জিরাফ—শান্ত সমুদ্র ও লোকালয়... গাও বা না গাও, মনীষা চক্রবর্তী, ওরা তোমার আপেলের বাগান ছিঁড়ে নিবেই যেহেতু সাঁতার জানে না সিভিল কোর্ট, যেহেতু ঘুমায় পিতার মজলিসি উদ্যান যেহেতু ইলেক্শন কমিশন মসনদের দাঁতবাগে মালির কাজে নিয়েছে, তাই বলি— মনীষা চক্রবর্তী, তোমার জিরাফগুলো নিয়ে মাঠের বাহিরে চলে যাও, চলো— মানুষের চামড়ায় শেষ মর্সিয়া এঁকে সমুদ্রের ওপারে বানাই—এক অভয়ারণ্য— যেখানে পাখিদের ভাষা শিখে পাখিদের গোলাম হব, শিখে নিব মানুষ থেকে পাখি হওয়ার মন্ত্র, জেনে নিব কিভাবে মানুষের কণ্ঠে পাখির গান ফোটে, তাই চলো বানাই—এক জিরাফ-আশ্রম—পিনপতন মিহি সুরে যেখানে শান্তি নামবে...                    ...সাধারণ সাধারণ—নৈকষ্য পটাশ এলাম...                    ...খাঁচায় বাঁধা দধীচি—লুপ্ত জিরাফে বৃক্ষসাম... না গুচ্ছজিরাফ নয়, না গিনিপিগের খড় ও ঘাসের ফুরফুরে হাওয়ামাঠ—সজীব... টিটি, শেকড়, নধর মুনি—একদিন কি জাকাত হয়ে যাবে দোয়াড়ি ও শ্লেষ্মায়? শর্করার টেবো টিমটিম, ফিনফিনে ক্ষমার কুশন—গার্সিয়া মার্কেজ ঘুমায় যখন... রট, দ্রাবকে ফুলের রেণু, রট—হয়তো তৃণের ঠোঁটেও ফোটে সুর ও পান্নায়— ‘বিসমিল্লাহ’ ও ‘মানুষ’ শব্দযুগল সমান্তরাল রেলের জ্যামিতিক বাস্তবতায়... হয়তো এভাবেই তৃণ ও মশলা, জিরাফ ও পাখিবন জাগে মানুষের অগোচরে... তারপর, তারও...পর খুঁটে দেখি—রক্তাভিধান জুড়ে একটিই শব্দ —‘রাজনীতিসাপ’                    ...সাপগুলোর নেমে পড়ায়—ভজনত্বরণ দৃশ্য...                    ...মাতৃশ্রেণির ওলান—যেন—প্রাইমারি স্কুল... যাও, চিতাবাঘের পদদ্রুতি নিয়ে যাও, পৃথিবীর মাইক্রোকালের জুতায় তোমার স্লোমোশনে যেন চাকায় পিষ্ট পাখিটির দৃশ্য...খাবি খাওয়া মাছ—এই জীবন— প্রসবকালীন মায়ের চিত্ররূপ...তারপরও উজানশিসের ঘুঙুর পরেছে কেউ কেউ... যদিও পুলিস্থল কপালে সেঁটে যায়—বঙ্কিম সরলরেখাও এখানে ক্রুশবিদ্ধ যিশু... ডালকুত্তার ঘড়িতেও কিছু মানব ডিপোজিট—যেমনি পাতায় নীরব ক্লোরোফিল— নমু—নাইটগার্ড—কবিতার নগরে লালচোখ বিনিদ্র—ডাবিং করবে রাতস্থ যত পা-স্বর, কণ্ঠস্থ দৃশ্য, ডানার যত ডিগ্রিফিগ্রি অভিসন্দর্ভ...ডাবিং হবে নাইটগার্ড...                    ...ক্রাচে ভর দিয়ে হাঁটা দিন—সাধারণের কাঁধে—অজগর...                    ...গায়েপড়া রাজনীতিসাপ—জিরাফ সারস তুলার বনে—উন্মাদ... বিড়ালের ওমে সংক্ষিপ্ত মিউছাপা—ঘুমিয়েছে সব কুশিকাঠি—অচল রেললাইন... ঘচ ঘচ ঘচ—কেটে যাচ্ছে রাজহাঁসের শাদা শাদা পুচ্ছ—আকাশভরা কা কা... কে নিয়ে যায় দোহনের বাটি, ওলান চিড়ে কার হাত ওঠে শিশুশশীদের মাথায় ন্সেহ—প্রীতিসম্ভাষণ—সন্দেহ বাড়িয়ে দেয় কু-নাদের কোনো কোনো ভূ-ছাদে... আর থ থ বাগানে ডেন্টিস্টের হলুদ ঠ্যাং বেয়ে নামছে—সিংহের তেরচা দাঁতগুলো— বিরল সিনকোনার সন্ধানে কতগুলো জেব্রা আঁধারের মতো ঘন হতে থাকে—খুন— ঠোঁকরস্বরের সন্ধান খুলে হাওয়ায় কিছু নগরপিতার ডাকবাক্সে, কিছু পিয়নে...তবু চলো, জিরাফ ও সিংহদের হাসপাতালে, চলো, দাঁতগুলো পৌরাণিক পাখির ঠোঁটে উড়িয়ে দেই, আর হাতির চোখে রাজনীতিসাপরে খিস্তি মারি—নটিখোর মসনদ...  

চিড়িয়া .

...তিরতির করে নড়ে বেহুদা বাতাসের জুলুমদাঁতের সফেদ নেকড়ে... তামা-নখরে ঝুলানি—ব্লাড সাকার— গামে সারস মাড়ানি—শ্লেষ্মার মাড়— ...একদিন তবে সত্যি ঢুকে পড়ে এক দক্ষ নরসুন্দরের কাঁচি চিড়িয়ায়... মাকে দেখেছি কুটিরশিল্পে—স্বদেশপ্রেমের পাটি— তেঁতুলগাছে চিড়িয়া—একজন শ্বেত খানকি— ...হলুদ ভাষার কণ্ঠেও একদিন বৃক্ষস্বেদের চিৎকার সংহত ডোরাকাটায়... পিতার এক সন্ধ্যার তারগাছে—হুদহুদ— জেব্রার উঁচু উটথলি—ক্লোরেটের ক্ষারক— ...গায়নের কণ্ঠের রশ্মি—খলিশাডাঙ্গার জলের চিকচিক—ফুটছে গান্ধার... জলপাইবন উল্টে দিচ্ছে—খাদেমে খন্নাস— ভিলেন পোষা কেবিনেট—একজন কোরানি— ...মাস্তুল নুয়ে পড়া নৌকার পাটাতন—মনপোড়া পিগমিদের আভাষ-ভূ... কুত্তাও কখনো—পিদিমের পিচকারি— মাগিও কখনো—মৃগনাভি ও মৌরি— ...কাফেরেরও হৃৎকম্পায় কখনো বাজে আজান—বনমালির এক রশ্মি বিভা...
নকিব মুকশি

নকিব মুকশি

জন্ম ১ নভেম্বর, শরীয়তপুর। স্নাতক, জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ,...বিস্তারিত