বই থেকে : ক্রমশ জলের দিকে

ক্রমশ জলের দিকে নাজমুল আহসানের প্রথম কবিতার বই। এটি ছিল 'উত্তরের হাওয়া' পত্রিকার নির্বাচিত পাণ্ডুলিপি। বই আকারে প্রকাশ করেছে 'জেব্রাক্রসিং'। প্রচ্ছদ এঁকেছেন দেওয়ান আতিকুর রহমান। মূল্য ১৩৫ টাকা । বইমেলায় বইটি পাওয়া যাচ্ছে ৩৩২ নম্বর স্টলে।

পরস্পরের পাঠকদের জন্য বই থেকে কয়েকটি কবিতা...


ক্রমশ জলের দিকে

ক্রমশ জলের দিকে যাচ্ছি নদী পাহাড়, অরণ্যকে পেছনে ফেলে আমি ক্রমশ জলের দিকে যাচ্ছি একটি অনিরাময়যোগ্য ব্যাধি ঢুকে গেছে কতিপয় মুদ্রিত বেদনায়—অগোচরে পেছনে অবিনাশী সুখ ডাকে যমজ আলোয় শুনি না কিছুই, দেখার চোখ রেখেছি ঢেকে নন্দিত চেতনায় আমি ক্রমশ জলের দিকে যাচ্ছি রাতের ঊরুসন্ধি থেকে রতিচিহ্ন মুছে গেলে পাথরের চোখ থেকে ধেয়ে আসে যাতনা আমি তখন হেঁসেলের দুঃখ নিয়ে উড়ে যাই মাছরাঙা পাখি ক্রমশ জলের বিপরীত...  

নেমেসিস বনে

রাত নিভে গেলে জ্বলে ওঠে মায়াবী অন্ধকার হিম হিম শব্দের কোলাহল রাত নিভে গেলে লকার খুলে তুলে আনি বেফানা দুঃখের সমাহার মণি-মুক্তো চুষি, চুমু খাই মানিক-রতন রাত নিভে গেলে আকাশে বাজখাঁই নিকষ অন্ধকারে একা আমি হেঁটে যাই নেমেসিস বনে  

সাবওয়ে ইস্টিশন

কোথাও কবিতা নেই। নিজের অস্ত্রোপচার নিজে করি। হৃদপিণ্ডে দেই আটটি সেলাই। কোথাও পাই না এক টুকরো কবিতা। এত আবেগ—এই ঢেউ ভাঙার হাট—আজন্ম ফেনিল উৎসব— নিজের ভেতর খুঁজে পাই কার যেন সাবওয়ে ইস্টিশন। বিদুষী, তোমাকে সূর্য ভাবলে জোছনার কীর্তি নিজের কী করে হয়!  

একদিন

একদিন হাওয়ার ছদ্মবেশে ঢুকে যাব তোমার ড্রয়ারে পারফিউমের আর্কাইভ ফুঁড়ে কিছু গোলাপি আভা মেখে দেবো তোমার সাড়ে তিনহাত শিল্পের ভিতর কামনা ছড়িয়ে দেবো হাওয়া এবং ইভের শুদ্ধতম কামের ভিতর অগ্নিশর্মা হওয়ার আগে ভেবে নিও শিল্পের ভিতর কোনো অশ্লীলতা থাকে না  

আমরা

আমরা এক সাথে চলব এক হতে নয়—একা হতে! আমরা পরস্পরের দিকে তাকাব সন্ন্যাসী চোখে বোবা হতে হতে ইউটার্ন করব উল্টো রথে আমাদের ভাষায় পাখিরা উড়বে ফুলেরা হাসবে মানুষেরা গাইবে সুরে সুরে কেবল আমরা ম্রিয়মাণ হব আমাদের ভাষার কাছে আমরা প্রিয়তম শত্রু কিনা! পরস্পরের ক্ষয়ে যাওয়া দেখে ফিক করে হেসে দেবো উৎপাত বেড়ে গেলে জানালা বন্ধ করব আমরা গরলে গরল ঢালব অনন্ত কাল! মল্লিকা খেয়াল রেখো কোনোদিন মানুষ হয়ে না যাই  

নার্সিসাস ফুল

কেন ফুটলি টবে তুই নার্সিসাস ফুল মল্লিকার ছাদে ছাতিমের গন্ধমাখা বুকের 'পরে রুপালি দুখের রাত বৃষ্টি হয়ে ঝরে সময়ের জরায়ু ছিঁড়ে তবু— অন্ধ নদীর তীরে গেঁথে রাখি বালক উঠোন গভীর অসুখের রাতে যখন ফণা তুলে হাওয়াই অভিমান নদী এসে শুকায় তাতে ইকোর দুঃখমাখা জলের সিথান  

তোমার শরীরে আটকে আছে হলুদ বন

তোমার শরীরে আটকে আছে হলুদ বন আমার চোখে তোমার লাল চোখ সেই শাড়িটা— যেটি ছিঁড়েছে গতদিন যেটিতে কবিতা লেখা ছিল সেই না খাওয়া কফিটা— যার ভিতর থেকে বিষাক্ত ধোঁয়া উঠছিল যার ভিতর থেকে তিক্ততা গলে পড়ছিল যার ভিতর থেকে উঠে আসছিল— জিঘাংসা, কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি, কতিপয় অমীমাংসিত ইস্যু তারই প্রতিক্রিয়ায়— তোমার শরীরে হলুদ বন তোমার লাল চোখ তোমার ছিঁড়ে যাওয়া কবিতা তোমার নির্ঘুম রাত তোমার হৃদয়ে গরল! তারই প্রতিক্রিয়ায়— কারো স্বপ্নের ভিতর কোলা ব্যাঙের লাফ কারো রক্তের ভিতর সাপ-লুড়ু কারো চিন্তার ভিতর হল্কা কারো তৃষ্ণার ভিতর কাছিমের পেচ্ছাপ!  

খুনরঙা জোছনাফুল

রাত্রি খাবি খায় চাঁদের চৈতন্যে মগজে আপেলের সৌরভ শিস দেয় ভগ্নাংশ চোখ কচলায় সেই দৃশ্যে নদী পুড়ছে ফাগুনে চোখে যার ঝাপসা আগুন উপচে পড়ে খুনরঙা জোছনাফুল ভিজতে ভিজতে জ্বর আসে ধূমকেতুর ফেরারি চোখ বসে থাকে কার আশায়  

অনুকবিতা

ক কুকুরটা দিন দিন মানুষের মতো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে কুকুরটাকে থামানো দরকার খ রোজ আত্মহত্যা করে আশি বছর বাঁচল রমিছার মা তামাশা খেয়ে বেঁচে থাকে কতিপয় ভদ্দরলোক গ এখনকার লোকেদের কাছে ভালোবাসা ঘাস হয়ে গেছে শুনেছি এখনকার নারীরা ধর্ষণকে উপভোগ করে! ভালোবাসা ঘাস ঘাস লাগে তাই
নাজমুল আহসান

নাজমুল আহসান

জন্ম ১৯৮০; ফেনী জেলার টঙ্গির পাড়া গ্রামে। বি এ অনার্স (বাংলা) এবং এল এল বি।...বিস্তারিত