মানুষের ভেতর লুকানো চ্যাপলিন

অসুখ

আকাশ জুড়ে সন্ধ্যের পরবর্তী মৌন প্রতিক্রিয়া— ভাঙা রাস্তার ধার ঘেঁষে হলদে ল্যাম্পপোস্ট ধুলো জমা পুরোনো নষ্ট হারমোনিয়াম একটি চিরহরিৎ সবুজাভ বটবৃক্ষ বিষণ্ন এই শহর ঢেকে যায় স্তব্ধতার আস্তরণে। প্রতিটি মানুষের ভেতর লুকোনো চ্যাপলিন কোনো কঠিন নিরেট পাথরের মতো— বুকের ভেতর চেপে রাখে অজানা এক অসুখ।  

প্রেমিক

তোমার সান্নিধ্যে আমি প্রেমিক পুরুষ হয়ে উঠি— কোনো ঘোর শ্রাবণের অঝোর বারিধারায় যেভাবে ভরে ওঠে শুষ্ক নদী—ভরা দামোদর সজীবতা ফিরে পায় সারি সারি রেইনট্রিগুলো। যেভাবে সন্ধ্যেরাতে বাতাসে মিলিয়ে যায় কর্পূর নীরবে নেমে যায় হৃদয়ের অগভীর খনিগর্ভে খোলা জানলার কাছে এসে থামে বৃষ্টিরথ— আমি হয়ে উঠি তোমার একান্ত বাধ্যগত সহচর।  

অপরাহ্ণ...

সোনালি পালক... আফ্রোদিতির লুপ্ত প্রাচীন রাজমুকুট থেকে সুউচ্চ পিরামিড হতে বেরিয়ে সোজা ছুটে গেল—                                                  জমকালো রাজপ্রাসাদের দিকে এই সুদীর্ঘ অপরাহ্ণের তীব্র অসামুদ্রিক বুনো রোদ্দুর জলের সীমান্ত ঘেঁষে আদিবাসীদের ছোট ছোট কুঁড়েঘর জাহাজের হুঁইসেল—ভেঙে দিচ্ছে দ্বীপের পবিত্র এ নির্জনতা। নৈঃশব্দ্যের স্তব্ধ পানশালায় নতুন এক অতিথির আগমন হলুদাভ রুমাল পড়ে রয়েছে শ্যাওলাঘন ফণীমনসার ঝোপে..  

সন্ধ্যে ও নদী

নদীর পাশে বালুচরে ছড়িয়ে পাথরকুচির পাতা সন্ধ্যের আকাশে যেভাবে উড়ে চলে যায় ঘাসফড়িঙ— সবুজরঙা পাতার আচ্ছাদনে আবৃত শান্ত গ্রাম বাড়ির দেয়াল ঘেঁষে বেওয়ারিশ কবরখানা— প্রবল বাতাসের তোড়ে ভেঙে যায় রাজহাঁসের ঝাঁক। উপকূলে এসে আছড়ে পড়ছে হিম সুশীতল ঢেউ।  

জীবন...

বৃক্ষরাজি থেকে শিখে নিয়ো জীবনের চারুপাঠ— ক্ষয়িষ্ণু মাটির কাছে সহিষ্ণুতার অসংজ্ঞায়িত ব্যাখ্যা একটি তৃষ্ণার্ত কাকের নিকট জলের মূল্য। কিংবা খুঁজে নিয়ো কোনো অরক্ষিত সুউচ্চ প্রাচীর নিজের অবিচ্ছেদ্য শেকড়—অতীতের ছেঁড়া খেরোখাতা; তারপর জেনে নিয়ো কোনো পাখির কাছে এ দীর্ঘ                                               ক্লান্তিকর ভ্রমণের সারমর্ম..
তানহিম আহমেদ

তানহিম আহমেদ

জন্ম ৩ এপ্রিল ২০০২; ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ। এইচএসসি প্রথম বর্ষ, ঢাকা সিটি কলেজ।...বিস্তারিত