নাম দিয়েছি অবহেলা

তোমাকে চেয়েছি

তোমাকে ভেবেছি তাতেই নীরব নদী, জল, উপকূল কে জেনেছে কবে ভাবনাতে এত অবাক হুলস্থুল। তোমাকে দেখেছি তাতেই ভাসল জমি, ভাসল দ্রোহ কে জেনেছে কবে দৃষ্টিতে এত জলের সমারোহ। তোমাকে বলেছি তাতেই যুদ্ধ, রায়ট সর্বগামী কে জেনেছে কবে কথার প্রলয় ধর্মের চেয়ে দামি। তোমাকে ছুঁয়েছি তাতেই পুড়ল ঘর, পুড়ল দেবালয়। কে জেনেছে কবে স্পর্শে এত আগুন জুড়ে রয়।

নাম দিয়েছি অবহেলা

অবহেলা নামে এক উইপোকা আছে হৃদয় যে নিপুণভাবে কুরে খেয়ে যায়। বাহানার বৃক্ষ জুড়ে বিরহের ফুল। ভালোবাসা পড়ে থাকে গাছের তলায়। আমি তো কোকিল নই কাকের স্বভাব ঠোঁটে নিয়ে বেঁচে আছি রোজকার ঘৃণা। পরিণয় মধু নিয়ে দূরে উড়ে গেলে গুছিয়ে রাখি ফের তোমার আঙিনা।

নিষিদ্ধ লোবান

এ সীমানা এড়িয়ে যায় পাখি মানচিত্র হারিয়েছে তার মান আমি তো নিষিদ্ধ লোবান তুলেছি হাতে শরীর জুড়ে হায় মৃত্যুর মতো ঘ্রাণ। এই ভুখণ্ড ভুলেছে তো ইতিহাস বর্গীরা সেই কবেই লুটেছে তাজ ক্ষমতার লোভ গ্রাস করে নেয় যারে অসুর রাজ্যে তিনি তো মহারাজ। পতাকা ঢাকা ধর্ষিত বোন জানে অন্ধকারের কতগুলো দাঁত থাকে স্বার্থনীতির গেরুয়া পোশাক পেলে নীতির নায়ে কে আর পা'টা রাখে। পিটিয়ে মারো, কুপিয়ে মারো মানুষ সংবিধানের শরীর ভরুক দাগে আমরা তো সব পা চাটা দলের শুয়োর গাইব ভজন বিচিত্র অনুরাগে।

পেন্ডুলাম

দেয়ালের গায় বিষাদের ছায়া হাঁটে চাতক চাহনি বৃথা যায় চিরকাল হলুদ বিকেল জানায় যে সঙ্গোপনে প্রেমের সুরাতে বিধাতাও বেসামাল। মনে রাখবার দায় ফুরিয়েছে কবে বিসর্জনের খেয়ায় তুলেছি স্মৃতি দুপুর-দেয়ালে খোদাই হয়ে গেছে অভিমান, প্রেম, বিরহের রীতিনীতি। চোখের পাতার সফেদ খাতাটি খুলে আলোর কালিতে যত্নে লেখা সে নাম এখনও মন-আরশিতে যদি দেখি ঢিপঢিপ বেজে চলে বুকের পেন্ডুলাম।

ভালোবাসা শস্যদানার মতো

১. ইদানীং দ্বিধারা শুয়ে থাকে আমাদের বিছানা জুড়ে। ২. ভুলগুলো নক্ষত্রের মতো ফুটে আছে জলের ওপারে। এপারে অপেক্ষায় আমি, কেউ তো বলুক তারে। ৩. মৃত মাছের চোখে রোজ জমা হয় শোক উৎসব উড়ে গেলে দূরের শহরে আমাদের প্রেম নিয়েও কিছু কথা হোক। ৪. ভালোবাসা শস্য দানার মতো সোনালি ঠোঁটের পাখি খুঁটে খাবে আরো। পড়ে থাকা বিরহে চোখ রাখো। আমার ঠিকানা খুঁজে পেলেও পেতে পারো।
নাহিদা আশরাফী

নাহিদা আশরাফী

জন্ম ০১ মার্চ। ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। পেশায় সম্পাদক। প্রকাশিত বই :...বিস্তারিত