বই থেকে : দশ মহাবিদ্যা

প্রবেশক

শীতল অনল, মা গো, সুরভি অনল ঝ’রে গেলি অতীতের ঘাসের তলায়; কনকলতার মতো, ফ্যালোপিয় নল ঝুলে থাকল সিলিংফ্যানে, শোলার গলায় কালো দাগ— আজরাইলের আংটি যেন, যাহে স্বয়ংবরে নিলি তুই; ধনুঃ নহে, তুলি ভেঙে, তোরে তুলি’ নিল, অসুর-বিবাহে:— পিছনে নায়র তোর, সোনার পুত্তলি, নিদুয়া সায়র হ’য়ে প’ড়ে রৈল পাড়ে! কারে মারলি, কারে রাখলি— বিষুবীয় পাপ গ’লে নামল ভিসুভিয় লাভা কার ঘাড়ে, নিজেকে ছাড়া-তো কাউকে করলি না, মা, মাফ? খুদগর্জি হ’ল না, বল্? যে-তোর মাথায় কন্যা হ’য়ে ধন্যা ছিল মাতার মাতায়?  

কালী : ৩

চোখ— আমরা বদল করেছি পরস্পর। মুখোমুখি মুগ্ধ-আয়না আমরা পরস্পর। আমাদের কলবে-আঁকা বাঁকা মরুচাদ, শুদ্ধ আত্মহত্যা, নবজন্ম পরস্পর। হটএয়ার বেলুন খালি আমাদের মাথা। শান্তির চপেটাঘাতে শূলীভূত মাথা। ভূতের নিশ্বাস বয় ওঁম্ শান্তিঃ ওঁম্— ব্রহ্মতালু-উড়ে-যাওয়া আমাদের মাথা। মৃত্যু-কারিগর আমরা, সমগ্র ঈশ্বর। ত্রিশ পাখি, পরিশেষে জঙ্গম ঈশ্বর। আমাদের মধ্যে হিরা-জমাট সময়, আমরা ট্রিনিটির একটি-খসানো ঈশ্বর। ডেমিয়ার্জ ও সোফিয়া, পুত্র আর মাতা আরাফাতে জেনা করে পুত্র আর মাতা।  

কালী : ৭

সাধে কি তোমাকে রেখে বেলা ব’য়ে যায়, মায়া, আমি পয়লাবার জেনেই পুরা হা : বীপ্সার ঈশ্বরকণা, বস্তুতঃ ত্রিদিব— তুতানখামেন আর পাথরের যোনি। বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, মিলিয়ে যায় জীব, গজায় গজাল-দাঁত রুহুর গুহায়, না-যদি ফ্যাসাদ, তবু হাজির সুরাহা— রাত-জাগা চোখের ক্লান্তি, চিনি-কম চায়ে। শব্দের গাবের থেকে নৈঃশব্দ্যের ধ্বনি বাজে ন্যুব্জ হতাশায়; জুগুপ্সার ভার- -কাঁধে হাঁটে সিন্দাবাদ কুব্জ-অবসাদে, অনেক মনের নীচে মননের খনি বাণীতে, আয়াতে উঠে, উধাও আবার। আছো? কই? আলতামিরা? কিংবা আলহাম্ব্‌রায়?  

কালী : ১২

কাহারে ফেলিয়া যাও, কোথায় ফেলিয়া? ফেলিয়া কোথায় যাও, কেন যাও, ফ্যালো? এ-মাথায় গূঢ় জল? ও-মাথায় শ্যালো? একই-তো আঁধার, আঁখি মুদিয়া, মেলিয়া— আমি-তো জরুরি নয়; কেননা জরুরই গোলাম আজম— তাই না? টিপে গেছ ভাত, জিবে যার জিবেগজা, বাকি-অঙ্গে বাত, পরি-পূর্ণা ই-ধরণি, ধরি আর উড়ি নেভারল্যান্ডাকাশে। কিন্তু সে-তো ছায়া, খোল— খোলা। ঢাকা থেকে তুমি উবে কেন যাও? আদাবরে ধাঁধা লাগে— গো-খোঁজা খোঁজাও গোল্লায় গায়েব— কোনো খোলে না আগোল; পিছে-পিছে শটাশট গিরিছে শাটার, প্রতিধ্বনি— চ’লে-যাওয়া তোমার হাঁটার।
সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ

সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ

জন্ম ৭ জানুয়ারি, ১৯৬৫; ঢাকা। এমএ (ইংরেজি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে...বিস্তারিত