নিজাম বিশ্বাসের কবিতাগুচ্ছ

ঈশপের গল্পের ভাল্লুক

ঈশপের গল্পের ভাল্লুক যদি আমাদের সম্মুখে আজ এসে দাঁড়ায়! তুমি প্রাণভয়ে দৌড়ে গাছে উঠলে ওঠো আমি মরা মানুষের ভান করব না, তবুও সে বুঝে ফেলবে এ হৃদয় বহুদিন বন্ধুহীন থেকে আজ মরে গেছে— তারপর গহিন জঙ্গলে ভাল্লুক বন্ধুর সাথে হারিয়ে যাব। তুমি দেখবে, প্রাণিবিদ্যাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আমরা অ্যানিমেশন হয়ে যাই!  

আমার যখন ডানা ছিল

অক্ষাংশ-দ্রাঘিমার খাঁচায় বন্দি ছিল না পৃথিবী— অনায়াসে চাঁদ ঢুকে পড়ত গহিন বনে পালকে পালক গুঁজে মধুচন্দ্রিমায় চাঁদের আকাশে উড়ে গেছি মাঝবিকেল— ধুমকেতুর শরীরে চেপে শনির বলয়ে গেছি হারিয়ে, উড়ে উড়ে মহাকাল মহাকাশে—কিছু মনে নাই নোঙর ফেলেছি কোন তারার আকাশে! অবশেষে পৃথিবীতে ফিরেছি উল্কাপথ ধরে— ঊষর মাটিতে বুনে ভিনগ্রহী লতা জন্মেছি সুগন্ধি ফুল হয়ে—ছড়িয়েছি দিকে দিকে...  

সুখিফুল

মহাপ্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে আছি নিশ্চিন্তে ঘুমাও কোনো হূন দস্যু তোমার ঘুম লুট করবে না স্বপ্নলোকে হারিয়ে যাও সুখিফুলে ছেয়ে গেছে উত্তরের উপত্যকা প্রজাপতি হয়ে উড়ে বেড়াও  

মাছ

বৃদ্ধ মাছটি ভাবল, এমন স্বাদের খাবার পাতালপুরীর কোত্থাও নাই! কেউ কি জানতো এই সে পৃথিবীর শেষ আহার করছে— সবচে’ প্রবীণ এই মাছ তার জীবনে অনেক উপোস দিয়েছে জলদেবতার জন্য; সাধের খাবার ফিরিয়ে দিয়েছে লেজের ঝাপ্টায়, আজ যে কী হলো! পূর্বপুরুষের বারণ ভুলে ঝুলন্ত এক পিণ্ড মাখন মুখে পুড়ে নিল— কেউ কি জানত এই মাখনের ভিতর সযত্নে গেঁথে আছে বড়শির ফলা! সবচে’ প্রবীণ মাছ সে, সব ছিল জানা তবু কোন ভ্রমে গিলে নিল বড়শির বিষ-ফলা!  

যখন আগুন আবিষ্কার হয় নি

পতঙ্গের শরীরে ছিল রেডিয়াম তাদের অবশিষ্টাংশ আজ জোনাকি— গাছের পাতায় জমে থাকা রোদ মাঝরাতে ছড়িয়েছিল আলোর ফুল্কি; সেই রাতে এইসব রাতের চেয়ে চাঁদের কিরণ ছিল আরো তীব্র— শিকারি ছিল না, সংগত না শিকার বাঘ-চিতা-নেকড়েরা ছিল সভ্য! ফল আর জল ছিল একমাত্র আহার- নাগিনীর ছিল না এ বিষ ফণা— মানুষের সাথে ছিল হরিণীর প্রেম সঙ্গম ছিল স্রষ্টার আরাধনা; তোমার অলঙ্কার ছিল ঝরা পাতা তুমি ছিলে চির নগ্ন-সুন্দর, এ গহিন অরণ্যে প্রাণসভ্যতার কেটে গেল কত রহস্যবছর!
নিজাম বিশ্বাস

নিজাম বিশ্বাস

কবি ও ফিলাটেলিস্ট।। জন্ম : ১৫ অক্টোবর ১৯৮৬, মেহেন্দিগঞ্জ, বরিশাল।। শৈশব-কৈশোর...বিস্তারিত