রোবায়েতের কবিতা : মিডল্ অব নো হোয়্যার

ক্রিতের গোলকধাঁধা, কিংবা দিকশূন্য প্রান্তর—হাসান রোবায়েতের কবিতা এমনই সব ধাঁধাবাস্তবতার মুখোমুখি এনে দাঁড় করায় পাঠককে। প্রচুর হেঁয়ালি আর ধূমুল ভাষায় পরিপূর্ণ সেই জগৎ। কবিতার টেক্সট ও অনুষঙ্গকে তিনি র‌্যান্ডমাইজ করেন, আর এক্ষেত্রে রয়েছে তার নিজস্ব পন্থা। চেনা বিষয়াশয়গুলোই তার কবিতায় তৈরি করে চলে আপাত অচেনা এক জগৎ। দীর্ঘ বাক্য এড়িয়ে লেখার প্রবণতা রোবায়েতের কবিতাকে করেছে নির্মেদ, সংবেদী ও স্মার্ট। তবে সৃজনীশক্তি আর বুদ্ধিদীপ্তিই চূড়ান্ত বিচারে তার লেখনীর ফুয়েল। ‘মাথা খাটিয়ে’ লেখার ফলে তার কবিতায় আমরা খুঁজে পেতে পারি নানান আবিষ্ক্রিয়া, আর সে কারণেই হাসান রোবায়েতের কবিতায় বিমূর্তায়ন এবং কাব্যময়তাও তার সমসময়ের অন্যদের তুলনায় খানিকটা ভিন্ন। গঠনগত দিক থেকে টেক্সটকে তিনি ব্যবহার করেছেন দো-ধারি তলোয়ারের মতন, উভয় দিকেই যার অভিঘাত কার্যত সমান।

যেহেতু কবিতার প্রতিটি পর্যায়েই ‘লেখক-পাঠক’ সম্পর্ক থাকে রিসিপ্রোক্যাল, তাই কবিতায় পাঠকের অংশগ্রহণের স্কোপ রাখার বিষয়টিও জরুরি বটে। হাসান রোবায়েতের লেখায় বাক্য প্রক্ষেপণের ভঙ্গিটি বেশ সহজ ও আমন্ত্রণমূলক, ফলে তার ভাষাজগৎ দৃশ্যত জটিল ও ফিউশনধর্মী হলেও এতে ঢুকে পড়তে কোনো সমস্যা হবার কথা নয় পাঠকের। তবে কবির এই ভাষাজগৎ (মনোজগৎও বটে) আসলে কতটা জটিল, বা বর্ণিল—তা জানতে হাসান রোবায়েতের কবিতা পাঠের কোনোই বিকল্প নেই।


ঘুমন্ত মার্কারি ফুলে ‌ পাণ্ডুলিপি থেকে

হাসান রোবায়েত


ভাষা

মর্মরবিতানের পাশে যে হাওয়া ঘোড়া ও বল্লমের কথা বলে তুমি তার উল্লম্ফন, ডানা— কোথাও সমুদ্র আছে বলে শুরু হয় রোলকল। এ ধনুক আনত ভূমির কাছে বহু ভাবে সহজিয়া : ফুলের গর্ভে তার ভাষা ঝুলে আছে।  

মা ও মায়াবন

ব্রিজ পেরোলেই অন্য ঋতুর দেশ। কেন যে তাঁবুগুলো আরেক নোভায় বিদেশিবিন্দুর পাশে— ট্রাফিকের বাঁশি হয়ে, কোড়ল হয়ে, ফুটছে ডুমুরতলায়। অন্য আয়াত, তুমি ও তোমার দিকে ইশারালিপির পাশে ডাক দেয় ভোরে। মা ও মায়াবনের ভেতর দু-একটা আঙুরখেত একা একা চন্দ্র খুঁটছে।  

জংশন

জলপাই বন, কী গভীর ! স্ফীতকায়! আসবুজ পরিত্রাণ এসে কথা বলে দীর্ণ ভাষায়। অন্যের জুতায় পা ঢুকিয়ে অনর্থক মেপে নেয় সেই সব ডিটেইল যেখানে জংশন চিরদূর— শঙ্খের ঠাঁই  

বিস্ফার

এ দুপুর মহৎ মীনের কাছে ধীর যদি শূন্য বলে কিছু নেই তবে কেন্দ্রাতিগ শাঁস কোন চৈতন্যের দিকে ছুড়ে দেয় ওম... অথচ বালুঝড় যুগপৎ দুর্বোধ্য স্পর্শাতীত— এ ইশক পেতলের কারিগর সুবহান আল্লা থেকে তিরতির বিস্ফার  

কলিংবেল

লোকটা কোনোদিন পার হতে পারছে না কলিংবেল।  

আয়ু

আয়ু কি অকস্মাৎ নড়ে ওঠা পাতা! আত্মহত্যার আগে সব রক্তমল্লিকাই মনে হয় অদ্ভুত ট্রেন— ও ঘরে সংসার নেই। কিছু পাখি অন্য আয়াতের মাঝে ফেলে আসে মিড়— সে পুকুর ধীর সবুরের দেশ চেনা রুহ, তবু বিদেশ মনে হয়। ঘুম— কত দূর, হিব্রু ভাষার ছুরি।  

হলোকাস্টের দিন

প্রেতোজ্জ্বল মাছি যেন ঢুকে পড়ে তাসের দোকানে। ডুমুরের ছাল থেকে যেটুক কষের ঝিমুনি লেগে আছে ধাতুজন্মের এই তটরেখা জুড়ে, যার প্রতিটি কোণে একাধিক মাতামহ ছুড়ে দেয় ঋতুঋণ। কারা যেন একই ফুল তোলে তৃতীয় ফুলের লোভে।
আন্দালীব

আন্দালীব

জন্ম ১ অক্টোবর, ১৯৭৮। নিবাস: ঢাকা, বাংলাদেশ। বর্তমানে ঢাকাস্থ একটি শিক্ষা ও...বিস্তারিত