বাছাই বারো: 'উন্মাদ খুলির পৃষ্ঠাগুলি' বই থেকে

'বাছাই বারো' এই সিরিজে আমরা পুনর্মুদ্রণ করছি অত্যাশ্চার্য হাওয়াই-মিঠাই বনে যাওয়া সেইসব বইয়ের নির্বাচিত বারোটি কবিতা, যেগুলো প্রকাশকালে তীব্র ঝাঁকুনি দিয়েছিল বঙ্গ সাহিত্যাঙ্গণে। নানা কারণ সেইসব জরুরি বইগুলো এখন আর 'বাজারে' মেলে না।  তেমনি একটি বই কবি মুক্তি মণ্ডলের 'উন্মাদ খুলির পৃষ্ঠাগুলি'র থেকে আজ প্রকাশিত হলো ১২টি ক্ষুরধার কবিতা। দশকী পরিচয়ে মুক্তি প্রথম দশকের কবি। 'উন্মাদ খুলির পৃষ্ঠাগুলি' প্রকাশিত হয়েছিল ২০১১ সালে। —মাজুল হাসান, পরস্পর

অনন্ত স্পর্ধার ব্লেড


আসবে না লৌহফলকের জ্বর, নিদ্রিত চোখের চারিদিকে ঠিকই ভেসে উঠবে স্পন্দিত অন্তরাল। আমি ও মেঘ, সমুদ্র ঢেউয়ে ও হাওয়ায় বার্তা পৌঁছেই ফিরে আসব অনন্ত স্পর্ধার ব্লেডে, ফালি করা আপেলে হিংসা ও কাঁচবৃষ্টির দৃষ্টি নিক্ষেপ চিরে ফুটে উঠবে হাঙরের ছায়া, পাশ ফেরানো চুলের ঝুঁটি। অজস্র পরাজিত ডানা থেকে উড়ে আসবে অনুগত শিরা— ঝড়ের পূর্বাভাস। অধীর তৃষ্ণা। নিঃসঙ্গ পাপড়ির নিচে অতৃপ্ত পিপাসার বর্ণচোরা শিস বেজে যায়, বধিরতাও চুপ করে থাকে খুনিদের বাহুতে। আমি ফিরে যাবো ফুল তোলা মুখোশের বাঁকানো হরফে।  

শহর ছাড়ার নোটিশ


বুনোফুলের দেহের কোণে উড়ে যাওয়া সৌরভে ঘাটি গেড়ে চুপ করে বসে থাকা মৌদলে বার্তা পাঠাই, তরুবক্ষের কোটর থেকে বের হয়ে আসা ছায়া আর তেরনদীর সঙ্গম দেখে যারা পথভুলে ঢুকে গেছে— অগ্নিকুণ্ডের সর্পিল গুহার ভিতর, তাদেরকে ফিরিয়ে আনতে পাঠিয়েছি তির চুম্বনে ভরা পায়রাদের মেঘলা প্রহর। শহরের বর্ষণ শেষের আকাশে যেসব বিজ্ঞাপন ওড়ে, যেসব কুকুর-বেড়াল, কবি-শিল্পী, বুদ্ধিজীবী, ঝাড়–দার, গলাবাজ; মাথানিচু করে ঘুমিয়ে পড়েছে শীর্ণ দেয়ালের মধ্যে তাদের নিকটেও দূত পাঠাতে চাই। অগণিত দেশি কাঠবেড়াল আর হুতুম পেঁচাদের বর্ষা উৎসবে নিমন্ত্রণ পেয়ে যাচ্ছি উন্মূল করিডোগুলো সঙ্গে নিয়ে, অবশিষ্ট চেয়ারের হাতলে কামনার সবগুলো ভালুক নখের দাগ রেখে গেলাম। কয়েকদিন যে শহরে থাকব না, তা জানান দেবার কৌশল হিশেবে সমস্ত দৈনিকগুলোতে পাঠিয়েছি শহুরে পাখিদের বিষ্ঠা। প্যাকেটের গায়ে লিখে দিয়েছি ‘সাবধান’। রোদভরতি ডুমুর গাছের তলে পাঠিয়োনা কোনো মিথ্যাবাদী প্রতিবেদক, সুশীল জাহাজ।  

ঝলক ও মেঘের মুখোশ


কত দিন দেখেছি সূর্যাস্তের আলোতে ডুবে যাচ্ছে মৌন সড়ক। দু’পাশে জেগে উঠতে দেখেছি শাপগ্রস্ত নগর। আমরা তার পেটের ভিতর অগ্নিকুণ্ডে দ্বিধান্বিত জিভেতে ক্রসচিহ্ন। আমাদের তীর্থ জলাশয়ে যেসব মাছ লাফিয়ে উঠছে—তাদের পিঠে ছিটকানো পানির ফোটাতে আমাদের ভাষা, আমাদের চোখাচোখি ঝিলিক দিয়ে উঠছে। তুমি তার পাশে দাঁড়িয়ে দেখছ আমাদের হলুদ বাড়ি, মুখোশের লজ্জিত ক্রন্দন। আমরা প্রতিদিন গোধূলির করোটিতে—নগ্ন পাতার স্কেচ করি, সর্পফণার আদলে গড়ে তুলি ভাষাঘর। ওখানে তুমি এসে আমাদের ভাষা শিক্ষা দাও। ছোট ছোট শিশুদের মুখে লেগে থাকা দুধের গন্ধ মুছে—এঁকে দাও নিঝুম বন। সূর্য উঠার মুহূর্তে আমরা তোমার ঝলক দেখব।   দুই. বাহু পাশে কখনও আসো নি। দেখেছি শাশ্বত রাত্রিমেঘের মুখোশে চুয়ে পড়া নিঃশব্দ ভেদ করে—তোমার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে অন্ধতীরের সৌন্দর্য। তার পাশে এসে দাঁড়াও। আমরা সব ফুলের পাপড়ি থেকে সরিয়ে নিয়েছি ময়লা ছায়া। আমাদের বাড়ির ঠিকানা হারিয়ে গেছে। ভাষা থেকে খসে গেছে বুনোগন্ধ। আমরা প্রত্যহ নিজেদের উপর উপগত হয়ে দেখেছি—গোধূলির পেট ভরতি আবর্জনা। সন্ধ্যার নাভীমূল ফেটে চৌদিকে ছড়িয়ে গেছে মিথ্যুকের পণ্যজাহাজ। আজ আসো তুমি। আমাদের পাঁজরগুলো জোড়া দিয়ে ফিরে যেও। আমরা যে ভাষায় কথা বলি, ওই ভাষায় একটু চোখ টিপে হেসে দিও। আমাদের মণ্ডু বেয়ে রক্ত গড়িয়ে গেলে তুমি স্নান সেরে—আবার তৈরি করতে থেকো মেঘের মুখোশ।  

যাই, অস্তমিত সূর্যের আলোর নিচে


যাই, অস্তমিত সূর্যের আলোর নিচে যাই। মনের মধ্যে শাদা পথ বেয়ে বেয়ে যাই, কাগজের নৌকা ওই তো যায়, যাই গোপন সুড়ঙ্গে, আলোর পেটিতে যাই। ওখানে শহরের সবুজ মন্দির। ওখানে দিনের আয়ু আর মৃত্যু। শাদাস্মৃতি ডেকে নিয়ে যাই। সে তার গুহামূর্তি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, পাথরে চুলের ছায়া, বালিতে গোপন ব্যথা আর বিষাদ—ফুটন্ত কুড়ি। তার কাছে যাব, খুলে দেবো অন্তরের সিক্ত ঘাস। স্পর্শের গভীর সাম্পান যেখানে ডুবে গেছে—ডুবন্ত মানুষের মুখের দিকে যেখানে ছুঁড়ে দিচ্ছি বৃষ্টির নন্দন, আঙুলের জ্বর। পাতাল যাত্রীদের তুবড়ানো গালের উপর দেখছি শুকনো পাতা, পানির ফোটা। মানুষের মুখের দু’পাশে দু’রকম জলছাপ দেখি—একপাশে মৃত্যুদূত, হাতে ফুল। অন্যপাশে বাঘিনীর বিক্ষিপ্ত হাসি আর বন্য ফুলের গন্ধ। আমরা দেখি আমাদের আত্মার মধ্যে উড়ছে ঈগল। তার পাখার হাওয়ায় কয়লার পাহাড় কাঁপে। বিচিত্র তৃষ্ণার হাড়ে জন্ম নিচ্ছে ফুল। কখনো কখনো জলকাচে সমুদ্রের দুর্বিনীত মুখ ভেসে ওঠে । রাত্রিদিন জেগে থাকে তোমার পাশে বোবা প্রদীপের আলো। কার ছায়ায় একলা হও তুমি? হাতে লেগে থাকা মৃত্তিকার ঘ্রাণ, পাখির বিষণ্ন পালকও তোমাকে কি একবারো ডাকে নি? ঢেউহীন পানির শরীরে আজ যাকে তুমি বিকেলের বালুভূমিতে নিয়ে যাচ্ছ, তার টুকরো আয়নার কাচে কোন রূপসীদের হাড় দেখছ? ভাঙা চোয়ালের শুভ্র দিগন্তে—আমি তোমাকেই দেখেছিলাম অচেনা পর্যটক। এখন তুমি সমুদ্রের বালুতে স্মৃতি ও গ্রীবার সাম্পান। আমাদের মুখস্থ জীবনের খাদ।  

আমি ঘুমাব


বাজো পাতার টুকরো শব্দ ভেঙে যাওয়া কালো সোহাগ শাদা সোহাগ শাঁইজির চরণেতে বাজো বাসনার তারে বেজে উঠো ঘুমহীন জানালার ধ্বনি কলুদের তৈল কারখানার কাছে এসে একটু ডাকো আমাকে ফিসফিস, আমি তোমার কাছে যাব সমুদ্র ঢেউয়ে ডুবে যাওয়া রোদের সাথে চোখের পৃষ্ঠাগুলো তলিয়ে দেবো কালো শাদা ডোরা কাটা লেনে আলো কেটে কেটে তোমাকে খণ্ড-খণ্ড দেখব খণ্ডাংশের ভিতর আলোক শাঁইজির চরণ দেখব দেখব লোহার পুলে মানবিক চোখ ঢেলে দিও আজকে সবটুকু অন্তর, কালকে থাকবে না এই আঁচ আমার ঘাড়ের কাছে পুরনো ঘ্রাণের মুখগুলো ভেসে উঠছে আজ তুমি দেখো টেবিলের উপর আলো কার স্পর্শ চাচ্ছে ফুরিয়ে যাওয়া শলাকার দিকে এগিয়ে এসে হৃদপিণ্ডটা খুলে রাখো লালনের পাশে, আমি ঘুমাব  

অনুজের প্রতি


এখন শরীর ছুঁয়ো না, পাতালপুরীর আগুনে জ্বলে উঠছে কাঠের ঘোড়া বিষাদগ্রন্থের পৃষ্ঠায় দেখো সন্ন্যাস দেখো ঢালু পাহাড়ের ভূপৃষ্ঠে সূর্যাস্ত কামার্ত পাড়ভাঙা শব্দের দিকে কান খাড়া করে থাকো, নিশ্চুপ অবলোকনে উঠে আসুক কুমারী নদীর তৃষিত ঠোঁট, বসে বসে দেখো দিগন্তের নাচ নিঃশব্দের চাকুতে শরীর করো খণ্ডখণ্ড চোখ, মুখ, ঠোঁট ও সমস্ত ত্বকে বেড়ে উঠুক রোদের সীমানা আর একটু অবসর পেলে সোমত্ত গাছের পাতা থেকে নিজেকে টুপ করে ঝরে পড়া দেখো...  

চিঠির লাল বাক্সে


বিভাজিকা—বল্লম থেকে খুলে রাখছে রাত্রি—পাশ ফিরছে কুঙ্কুম... এক. ঢুকে পড়েছি নিঃশব্দে, বন্ধন মুক্ত ধ্বনিতে তোমার চৌপার্শ্বে  উড়ছে চুম্বনসিক্ত রুমাল, সেই শূন্য পাখির খাঁচাটাও, শাস্ত্রীয় পুরনো হলদে পাতা থেকে অর্ধনগ্ন শিশুদের হাসি মুখ আজ উড়ে আসছে তোমাকে দেখতে, তুমি আজ পাশে রাখো—নদী ভ্রমণের ম্যাপ, হারানো ব্যথা ও পাঁজরের গোপন শব্দ পাঠিয়ে দাও নীলচাষীদের গ্রামে। যেসব অপরূপ দৃশ্যের ভেতর খুনিদের ভাঙা আয়না, রক্তমাখা ছোরা ও কালো চিরকুটে ভেসে ওঠে পাখা, জোয়ার আসর, সেখানে তোমার ব্যথিত মুখ ফেলে রেখে—চিঠির লাল বাক্সে আজ চুপিচুপি ঢুকে পড়েছি দেখছি, ফাঁকা ডাকঘর, তোমার পুরনো নূপুর। দুই. শত কদমের চাপা ফোঁপানো কান্না শুনে বাইরে বের হই, দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা বিজ্ঞাপণের নারী—কাছে টেনে নেয়, বলে, ‘তুমি কালো’ ‘এই নাও ত্বকফর্সা ক্রিম’, আমি কাচুমাচু তার খোঁপার দিকে তাকাই, তার মুখের ত্বকের মধ্য ঢুকে পড়ে—দেখি অনেক বেড়াল, বহু সার্কাস ফেরত পাপেট শিল্পী—হাসছে, ঢোলের শব্দ ভেসে আসছে দূর থেকে, শূন্য জাদুঘরে—চলছে বুক চাপড়ানো উৎসব। অপরিচিত পিঠের উত্তাপে ব্লাকবোর্ডে লিখছি—‘একটি আপেল’ এবং ‘একটি আয়না’ এর মাঝখানে একগোছা নীলচাবি, আর একখানা কালো সিঁড়ি আমাদের প্রতিদিন ঘুমের মধ্যে খুব কাছে ডাকে, তুমি খুলে রাখো—জানালা, আমি টেবিলে সাজিয়ে রাখি ঊরুবাসনা। তিন. —চন্দ্রযানে রূপহীন নগ্নদেহ। খোলা গ্রন্থের পাতায় একফোটা পানি, টেবিলের পাশে ঝোলানো ছিল শাদা কামিজ। রোস্টের ধোঁয়া উড়ছে। প্লেটে প্লেটে চোখ। ওরা লাল চিঠি। ডাকঘরের শূন্যতা এসে কাঁপছে চেয়ারে। খুব নিবিড়তা লাশবাহী গাড়িতে চড়ে ভ্রমণে গেছে—অসুখী পত্রলেখক আজ খুলবে না নেমপ্লেট, বন্ধ দরোজায় উড়বে শুধু বেলুন ও প্রেম। চার. দুটি ডানা দুদিকে উড়ে গেলে আকাশের সীমানা ফুঁড়ে বিস্তৃত দিগন্ত কুণ্ডুলি পাকাতে পাকাতে নেমে আসে ঘাসে, তখন সমস্ত রঙ উথলে ওঠে লোমকূপে, দেহ থেকে প্রকৃতির সব মূর্তিতে ছড়িয়ে পড়ে আহ্বান, স্পর্শের সুড়ঙ্গ ভেঙে জন্ম নিচ্ছে লাল ডাকঘর। —শুকনো পাতার ধ্বনি বিলি করে রাত প্রহরী, তার কাঁধে ভর করে আবার দাঁড়াতে চাই, তুমি লাল বাক্সে ফেলে যেও পুরনো হাতছানি। পাঁচ. দেখো, সদর দরোজা খোলা আছে। আমি লুকিয়ে আছি শঙ্খে। স্মৃতি থেকে লাফিয়ে পড়ছে হাড় কাঁপা রাত্রি। অগ্নি পরিবৃত্ত নাচ। খালি খালি লাগলে এমন হয়। সবুজ সিন্দুকে ঢুকে পড়ছে কারা? ওদের কাউকে তো চিনিনা, তাই, যে তির অরণ্য থেকে ফিরে এসেছে, তাকে জাপটে ধরে পশুবধ দৃশ্যে একা একাই হাসছি। ছয়. কাউকে জড়িয়ে ধরে মুছে যেতে চাই, লাল ডাকঘরের সীমানায় ফের হয়ে উঠতে চাই চিরকুটে লেখা ‘ভালো থেকো’, সন্ধ্যার নিবিড় দেয়ালে আবারো বার্তা প্রেরকের দেবতা হয়ে তোমার অন্তর ছুঁতে চাই। ফাঁকা হতে চাই ক্ষীণ লালের পোস্ট অফিসে, হলুদ মলাটের নথিতে।  

ছক


সীমাবদ্ধ রোদের ছকে আমাদের যৌনানন্দ যখন কাঠ খোদাইয়ের স্নানদৃশ্যে উড়ে যায় তখন আমরা ভুলে যাই সুনিদ্রা যাপনের কৌশল—গভীর রাত্রিত্বকে ফুটে ওঠে হরিৎ মনস্তাপ। ‘মানবিক’ সিঁড়িগুলি ধসে পড়ে। ধূসরিমা, কুণ্ঠিত গুপ্ত মনীষায় পুষ্পকরোটির বিভায় ছড়িয়ে দেয় আমাদের নৌম্যাপ, আমরা উৎফুল্ল ঢেউয়ে অযৌন গতিপথে হয়ে উঠি স্নিগ্ধ জলের একাকী ট্যালি। ফাঁকা ধুলো পথে ক্ষরণের দাগ রয়ে যায়...  

পেসিমিস্ট


সন্ধে বেলা বটির নিচে গোপনীয় পৌরুষ উনুনের পাশে সহাস্য মুখ মাটিতে গড়িয়ে পড়ছে আঁশ ছড়ানো নিরক্ষর তৃষ্ণার পেটিতে ঝরছে মেঘফুল। আমরা হাড়-মাংসের গভীর গলিঘুপচিতে ছড়ানো ছিটানো খুলে পড়া চোখগুলো কুড়িয়ে এনে উনুনের কাছে রাখি। মশলাবাটা সমস্ত হাতগুলো লাফিয়ে ওঠে। আমাদের হৃদপিণ্ড কাঁপে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে দূরে যৌনকাতর সাঁকো।  

বাঙালি মনন


কবে আসবে মুখর সেই ক্ষণিকের শুকনো পাতার মচমচ ম্যাচবাক্সের খালি খোলের ভেতর নেচে উঠবে প্রথা বিরোধের চঞ্চলতা ধীরে ধীরে ছিন্ন হবে কাঠি থেকে আলোর প্রভাব অক্ষুব্ধ জনতার কালো চোখের নিচে দাঁড়িয়ে থাকবে শান্তস্থির কুচকানো রীতির মর্যাদাবোধ দোলায়িত হাওয়ায় দ্রুত নাগরিক গালে ছড়িয়ে যাবে পানির ছাট নগরের তাবৎ দাম্পত্যকলহের পরবর্তী সময়ে ঘনিষ্ঠ টেবিলে জড়ো হবে—ব্যথিত সকল সঞ্চারিত হাত একটি বাড়ির সীমানায় দাঁড়িয়ে থেকে থেকে রাতের আবর্তে ঘুমিয়ে যাবে বন্ধনের মৃদুতরঙ্গ মনে পড়তে থাকবে অচঞ্চল গ্রাম্যতা, স্নেহ  

বেণীসাধক


মনের সিন্দুক খুলে বসে আছি। পরিহাসের উল্টো দিকে সবুজ খামে উড়ে যাচ্ছে প্রস্থানকারী ও তার বাঁকা হাসি। নিন্দুকেরা—অট্টহাসিতে ফেটে পড়ছে, আমি আনমনে খুঁড়ে চলেছি তরঙ্গের নীলমমি। দূরের টেলিগ্রামে জানি তোমার অশ্রু মিশে আছে, আমার ঘুমঘরে বাজছে তারই বিরহধ্বনি। কেউই আর মনে রাখে নি তোমার খোঁপাফুল, মেঘলা রাতের ট্রেনে যারা পৃথিবীর সমস্ত পুষ্প ছুঁড়ে দিতে চেয়েছিল, তাদের অসংখ্য মুখের ধূসরতা আজ তোমার পিঠের উপর চুপ হয়ে আছে। হাওয়া পেলে তারাই আবার বিনোদিনীর চুলে উড়ে গিয়ে বসে। একে একে খুলে যায় বৃষ্টিজানালা। আমি নিন্দুকের মুখোশে তোমার স্পষ্ট মুখ আঁকি। শিকারিদের অন্তর্গত আকাশে উড়িয়ে দিই শূন্য চাহনি, পাশে পড়ে থাকে নতমুখি কাশফুল, বেণীসাধক।  

উন্মাদের খুলি


আমি রাতমূর্তির কাছে ভোর আলোর দেহ খুলে দেখিয়েছি সবুজ পাতায় উড়ে গেছে মেঘ নীরবতা ভেঙে উন্মাদিনী হয়ে উঠেছেন শেষ রাতের অসীম স্নিগ্ধ আলো আমি তার কাছে খুলে দেখালাম পুরনো ছুরির খাপ হলুদ পালকে বৃষ্টি লেগে আছে যে চলে গিয়েছিল সে সহজেই ফিরে এলো, ফিরে এলো দেয়ালে ছুরির দাগ দূরে উন্মাদের খুলি, বৃষ্টিতে ভিজে চলেছে
মুক্তি মণ্ডল

মুক্তি মণ্ডল

জন্ম ২২ জুলাই ১৯৭৬, চুয়াডাঙা। সমাজ বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।...বিস্তারিত