নেব্রাস্কা
সাড়ে ষোল ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে আমি একটানা যেতে চাই নেব্রাস্কা নাম না জানা ছোট এক মফস্বলে গিয়ে থামব (অথবা শহরের নাম “স্টোরিভিল”) শুষ্ক ত্বকের মানুষেরা কুচকানো ত্বকের বয়সজনিত দাগে ভর্তি নেব্রাস্কার মানুষদের সাথে ভালুক শিকার আর একোনমি নিয়ে কথা হবে সস্তা বিয়ারে চুমুক দিতে দিতে দীর্ঘ অতীত ব্রুয়ারিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাদের ক্লান্তম্লান চোখে খুব স্বাভাবিক ভাবে তাদের জানাব তুষারের নিচে ঢাকা পড়ে মারা যাওয়ার স্বপ্ন বিষয়ে
রোদেলা ওহাইয়ো
রোদেলা ওহাইয়ো উষ্ণ পৃথিবীর বামপাশে একটা ঘোড়ার খুর তুমি বৈশিষ্ট্যহীন পথের দুইপাশে গমক্ষেত হয়ে বেঁচে আছ আর আধিবিদ্যক ঘোড়াগুলো র্যাঞ্চের মাঠে মাথা নিচু কল্পনা করি গমচাষিদের ঘরবাড়ি তাদের কৃষিযান তাদের ছোট ছোট বাচ্চা মোহিকান সূর্যের আঁচে তেতে উঠা কাচ ভেতরে বন্দি আমি বাদামি তাতার কাচের বাহিরপাশে শূন্য গমক্ষেতের উপর উড়তেছে একটা কালো হ্যাট অস্তিত্বের অসহনীয় মৃদুতা
মেঘলা ওহাইয়ো
মেঘলা ওহাইয়ো বৃষ্টির ভেতর গাড়িগুলো অগ্রসরমাণ অগ্রসর ধনতান্ত্রিক বাস্তবতায় ভিজছেন শ্বেত জেসাস অতিকায় অতিকায় তার দুই হাত প্র সা রি ত প্রসারিত দীর্ঘ হাইওয়ে পেরিয়ে চলে যাচ্ছি দুইপা আমার পা সতর্ক উনআশির নিচে গম কাটা শেষ হলো মাত্র কিছুদিন কান্ট্রিসাইডে সন্ধ্যা নামছে দ্রুতবিলম্বে মানবিক ওহাইয়োর শরীরে অসংখ্য মৃত হরিণের মাথা আর ভিজতে থাকা সমাধিফলক আমি পেরুলাম শেষ বিকেলের আলোয় কুয়াশা নামার ঠিক আগে
সিম্ফোনি ভাঙে
সিম্ফোনি ভেঙে অনেক কাটা হাত-পা আর ব্যাধি আমাদের সামনে চলে আসে তুষারে ঢাকা ক্যাথেড্রালের পথ তুষারের উপর হাঁটতে থাকা কালো বেড়াল নিঃসঙ্গ সে আমাদেরই মতো ভ্যানের ভেতর জড়োসড়ো বসে থাকা শ্রমনারীদের মতো কনভেয়র বেল্টের উপর তাদের কাটা হাত-পা... সিম্ফোনি ভাঙে একদিন ব্যালকনিতে ঝুলিয়ে রাখা প্লাস্টিকের তারাগুলি বাজতে বাজতে ভেঙে পড়ে
সি শার্প মাইনর
জুলাইয়ের এই বিকেল, সি শার্প মাইনরের মতো মৃদু, নীরব। ধূসর হাইওয়ে থেমে আছে সূর্যের মুখে। এই দীর্ঘ পথ। হারিয়ে যাওয়া নয়, বিযুক্ত করা, নিজেকে— সিনামন রোলের স্বাভাবিকতা থেকে। শপিং মলের রাস্তায় উড়তে থাকা নরম ড্রাগনদের থেকে।