সাদী কাউকাবের কবিতা

ডুঁবসাতার?


গভীর জলের মাছ বলে গালি দাও—আমি ভাসমান এক সরল পুঁটির জ্বর। ছড়াই শঙ্কা'র মিউকাস। কানকোয় কেটে ফেলি পূতিগন্ধ-পানির হর। আমার তলে, বহু, বিরাটাকার মাছ। আমি না চাই তবু, হিংসা ও হীনতার জের আমায় করে গ্রাস ঘাই দিয়ে ঘোলা করি সকল মহৎ। আমার, সাধ্বী নারীর লোভ তাই, তারা'র চ্যুতি হলে জ্যোতি মাখি গা'য় আর দিনে তাপের ভয়ে আফসাই, করি ঠান্ডার এবাদত। আমাকে তরল ডেকে দেখো, আমি ডুব দেবো কাদায় গা ডলে প্রাণপণ উপরে পাঠাব বুদবুদ পূত গভীরের বিরল পাঠে আমি খাঁটি হব— আমাকে পাবে যথাযথ পুণ্যময়; পাক।  

ম্যান্ডেট


আমাকে ঘিরে সকাল সন্ধ্যা দাঁড়ায়ে থাকে রাষ্ট্রীয় কুকুর। আমার যাবতীয় গতি স্থাণু হয়ে আছে তার কাছে। যৌনতায় আক্রান্ত হলে—নিরুপায় আমি ওর কাছে যাই; গালে গাল ঘষে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে পাঠগৃহে পাঠাই। আদবে লেহাজে আলোকিত হয়, আমার আগত ভবিষ্যৎ। তারপর আমি—যথা নিয়মে কুকুর সাপ্লাইয়ের ম্যান্ডেট লাভ করি।  

আশহাদুআল্লাইলাহাইল্লাল্লাহ


খোদা, সম্মিলিত সেজদা আমি দেবো না লোক দেখানো নামাজে তোমার বীতরাগ— এ কথা আমি কী করে বুঝাই—তোমার কঠোর ঘোষণা তোমাকে নীরবে খোঁজার আমি ভয় পাই, খোদা, নিজের চেয়েও তোমাকে ছাড়ার তাই চক্ষু চড়ক রাখি ভুল করেও দেই না কুর্নিশ, দেবো না কুর্নিশ এই ভালোবাসা ভুল বুঝে তাবৎ সাজেদ, জানি আমার শির নিতে কোষ মুক্ত করবে তলোয়ার শুনো খোদা, তখন তোমাকে আরো একবার ভালোবেসে তাদের কলবে জুড়ে দিয়ে যাব তোমার গূঢ় অন্ধকার।।  

ঢেউ এনে দেবো না


ডাকাতিয়া থেকে ঢেউ এনে দেবো না—সাঁতার ছাড়াও আরো কিছু শেখো নদীর। রাইরুটি নিয়ে বসার আগে আগাপাছতোলা ভাবো। ক্ষমতা জানো স্বাদের; ভদকারও পড়ো দরুদ। ভেটেরায় ডোবার আগে বউকে ক্রমে ফুঁড়ো— আঁচলের গন্ধ পাছে ভুলো! তৈল মর্দনে, শোনো, ঘাড়ের চেয়েও মর্যাদা হাতের। আমাকে গাল পাড়ো ভালো— নতুন গর্ভাধান প্রয়োজন আছে।  

আর কোনো কাজে জড়াই নাই জীবন


পাপে ডুবি থাকি পরম মাথা তুলে কোনোদিন বাড়াই নাই মুখ পুণ্যের সঙ্গে কোনোকালে মেলে নাই সাক্ষাৎ হেনকালে পাড়ি যদি আফসোস তাই— আর কোনো কাজে জড়াই নাই জীবন।
সাদী কাউকাব

সাদী কাউকাব

জন্ম ২৭ আগস্ট, ১৯৯০; চট্টগ্রাম। পড়াশোনা : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। ই-মেইল :...বিস্তারিত