অবসরে রেডিওটা বন্ধ করো
কবিতা পোড়ানো উৎসব করার আগে হাসপাতালে চিঠি দিত বেনজির। বাদাম কিনে লালশাকের তরকারিতে দিতে পারত। যদিও আমাদের অন্য কোনো মসলাপাতি ছিল না। বেহুঁশ কীর্তনিয়ার দোতারার তার ছিঁড়ে গেলে নারী বিছানা খুঁজতে খুঁজতে শিশ্নে হুমড়ি খেত। আমরা ফিল নিয়ে দৌড়াতাম। নারী তানপুরা দোলাতে দোলাতে শুয়ে পড়ত মাকড়শার ঠোঁটে। কলিগ বসে থাকত বিতংস স্তনে। বেনজির অবসরে রেডিও তেহরান শুনে দু’ভ্রুর মাঝে টিপ দেয়। ভিয়েনার দু আঙুলে ট্রাম্প কার্ড।
কলিগ—অবসরে রেডিওটা বন্ধ করো।ম্যাসিভিয়ান কাদম্বরী
রবির চাদরে লিলিফুলের কাঁটাসমিত সুইসাইড নোট এঁকে দেবার পর কাদম্বরী মাঝরাতে বোধিবৃক্ষের ডালে আত্মহত্যা করত। উলের বাসর শারদের ক্যারিকেচার ঘষে সারঙ্গীর তালমিশ্রিত সুরমোহনের পূর্বে রবি পানাহার করত না। শান্তিনিকেতন কখনো ভোর দেখে নি। অথচ বউঠানও কখনো রাত্রি দেখে নি। ম্যাসিভিয়ান কাদম্বরী ভাবত নিকেতনের কোথাও কোনো গাভি আছে। সে হয়তো থরোথরো মাটিমোম জ্বালাতে জ্বালাতে ক্লান্ত হতো। রবি এসব ভাবে নি—ভাবনা ছিল ডিকোম্প। ভাবত—অ্যামাজিং ম্যাজ গো অ্যাহেড!
খবরের কাগজে মৃণালিনী ওরিয়েন্টাল আর্ট আর অ্যাক্সিডেন্টাল আর্টের বারবনিতা দেখতে অভ্যস্ত।আঙুলের গন্ধ
তোমরা যাকে ঝাড়বাতি বলো তাকে আমরা বলি আত্মহত্যার সিম্ফনি
মলাটমাখা কানকোতে প্রতিবেশীর আঘাত ঠেস মারলে ঘটনাস্থলেই জন্ম হয় মৃত্যুর। লিরিক্যাল বাতাসে ওসব মৃত্যু সাঁতার কাটতে কাটতে হলদে হয়। . . . . আমাদের হলুদকে মাঝে মাঝে আঙুলের গন্ধ মনে করে হাই তুলি... হাসপাতাল গিয়ে জানা যায় তোমরা কখনো চুইঙ্গাম চুষে দৌড়াও নি।ছেলেগুলো সেলোয়ারের ফসকা গীট
তোমার গন্ধগুলো একপাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা অনেকটা স্কুলবার্তার মতো লাগে। মাটির ফিসফিস কানে তুলে নিলে তুমি কানাবাজি খেলো। ছেলেগুলো সেলোয়ারের ফসকা গিঁট।
সন্ধ্যা বিক্রির বাজারে আঁধার কার্ড বিলি করার সময় ঘুঙুরের আত্মহত্যার খবর কবিতারা জানত। শেষ মাথায় গন্ধের দোকানে বাসমতি চাল ফুরিয়ে যাবার আগে কবির কবিতা লেখা শেষ হয়।তুমি—জোড়াসাঁকোর বিদ্রূপাত্মক নারী
ঐদিককার বিছানা লাল রঙে সাজলো বলে রসুন বাটা মেখে দিছিলে গোল পেটে। আলোর কর্পোরেশন চুমুক দিলে তোমার হাতকে নিতম্ব ভেবে দেখতে বলছিলাম, আর নিতম্বকে জোড়াসাঁকো।
নিজেদের গাছটি কেটে লাশ পোড়ানোর সময় পানের ডিব্বা রং ছিটিয়ে খিস্তিমৈথুন করে। দরোজার নিচে রেখে দেয়া ঘুম জেগে উঠলে তোমাকে যেসব কথাবার্তা আলিঙ্গন করবে তুমি তাদের পানের বোঁটা খেতে দিয়ো।ওডালিসকিউ- ১
ইষ্টপক্ষের ঘোর তুলে সওদা বিলি করার খানিক অভ্যাসটুকু ঢেলে স্নান করে নাও। কালো মনের দুলুনি শরতের পাতায়। চাদর টেনে কাঁধের বসন রাখার নয়নী দেহে নরম তৃষ্ণা মিটে যাক। বাঘ্রফলি তোমার আঙুল চুষতে জানে না। বুড়ো আঙুল বড্ড তেজি! ঘুমের ঘোরে মুচড়ে যাক সখিবিদ্যা। অরণ্যের বাসনে পিতলের শরীর কে’বা মানে মানত! ভাঁজে ভাঁজে কৃষ্ণনগর, ভাসা ভাসা শুভ্রবিলাস। সখি জলের পিপাসা স্নান করো। রাজপুত্র হব।
পাখি পুরাণ
তোমার রক্তে যেটুকু ঘাসফুল ছিল সেটুকু উজানে চলে গেছে। আমাদের প্রপিতামহ টক পাতার উজানে বাঁধ ভাঙত। বসন্ত কিংবা অন্য কোনো ঋতুকালে গভীর সম্ভোগে পাহাড় অথবা পুত্তলিকা ঘাসের নির্যাসে শরীর ডোবাতে ভালোবাসে। ঐ মোহিনীর আত্মজ আত্মা খোলা জমিনে হিংস্রতার সঙ্গম করবে। আমরা হারিকেনের আলো মাখিয়ে দিব মোহিনীর শরীরে। ঘুমকাতর অজস্র পাখি পাতার সিজনে বাসা বাঁধতে জানে না। পাখিদের ডানা বড্ড বেশি রুগ্ণ। নিত্যান্ত অলস। বাম ডানার ইতিহাস সুদীর্ঘ। ডান ডানা আর্য বংশধর। এক ডানা আরেক ডানাকে চেনে না।
মাটির বাড়ি ভেঙে ধুতরা ফুল ফোটে নি কখনো। পাখিদের ঠোঁটে বিষফুল ধুতরা। চুম্বনে ঝলসে যাচ্ছে এক একটি গ্রাম, গ্রামের পুকুর।