(বি)স্মরণ
তোমাকে স্মরণ করি, বিস্মরণে, শোনো— অজস্র আলোকরেখা জ্যান্তচিতা থেকে এঁকেবেঁকে যায় চলে কোথা সে সম্মুখে? কোন সুরে শব্দ-বন্ধে কার গান বোনো? যেহেতু কিছুই নেই, সমস্ত আঁধার— থেকে থেকে বোকাবৃষ্টি অমূলক ঝরে তবু, ভররাত জেগে, এই প্রচণ্ড নগরে, ভোর হলো, দ্যাখো, এই মৌন শবাধার!
আমি তবু যাব, অনু, যাব ঠিক দেখো— উত্তরে না থাক যদি, প্রত্যুত্তরে থেকো।স্বপ্ন
স্বপ্নের ভেতর এত এত জেব্র্রাক্রসিং আর নকশাকাটা ঘর যে, এইভাবে, একা একা, আর এগুনো যাচ্ছে না।
শহরে বৃষ্টি হচ্ছে— আয়নায়, জমানো জলে, একা একাই ভিজে যাচ্ছি সেই থেকে। ক্রমশ অন্ধকার হয়ে আসছে চারপাশ— বিলীয়মান ছায়ার শরীর নিয়ে প্রার্থনায় নতজানু হতে হতে আমি ঘুমিয়ে পড়ছি। দিন ক্রমে শেষ হয়ে আসছে; টের পাই।নগর
নগরে, এইভাবে, একা একা ক্ষয়ে যাওয়া আছে— ক্লান্তি আছে, বিষ ও বসন্ত আছে।
একা একা, আরো গভীর নীরবতার দিকে যেতে যেতে অকস্মাৎ মনে আসে, সন্ধ্যার কোলাহল গৃহপূজার ঘণ্টাধ্বনি, আর, তুমি, ওদিকটায়— কান খাড়া করে আমি একান্তে হেঁটে চলেছি। ‘তোমাকে যাপন করি’ এমতো সত্যের দিকে, এখনও, মৃত মানুষের মতো চেয়ে আছি— মুখে জল দিয়ো।পুড়ছে অবিরাম
শ্মশান সুনসান ভেতরে দাউদাউ পুড়ছে অবিরাম একটি অবিকল মায়ের মতো মুখ ছিটকে যাইতেছে শ্মশানবাসী সব অগ্নি ফুলকিও— অথচ এই আমি ভেতরে ব্যথা নিয়ে তোমার দেয়া সেই আঁধার অপেরার মঞ্চে একা একা নীরবে তাকিয়েছি তোমারও মুখপানে— আবার মামনির সটান ছায়াটার নিচেই বসে বসে এঁকেই চলিতেছি আমার মামনির আমার মামনির আমার মামনির মলিন মুখখানি।
মায়ের মৃত্যুর পর
নিজেরই হাঁটুতে মাথা মুড়ে দিয়ে একা বসে আছি নিরালায়—
রাত গভীরে নামছে জেগে উঠছে ক্ষতআর— বিষ, বাঁশি, বসন্ত বাষ্পরুদ্ধ হয়ে চেপে বসছে গলায়। হাওয়ায় শূন্যতা। শব্দ—কল্পনার মতো অস্পষ্টতায় কাঁপছে। দূরে বাবা হয়তো অন্ধকারে বসে আছেন। তার কান্না মুছে দেবো এমন দৈবশক্তি নেই। তবু প্রকাশ্যে সন্তের ভাব ধরি। যেন আগুন নিভে গেছে। ঠান্ডা হয়ে গেছে শ্মশানচিতা। এদিকে, একা একা বহমান ব্যক্তিগত গোপনদহন, কর্তিত মুণ্ডু থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসা রক্তের মতো ফিনকি দিয়ে উঠছে আজ।
মা, মামনি, এখনও দু’মাস হয় নি। পুজো আসছে...