রাতুল রাহার কবিতা

অন্ধকার প্রজ্বলিত রাত


অন্ধকার প্রজ্বলিত রাত, ক্যাথিড্রালের ছায়া নক্ষত্রের সামান্য আলোকে, যেখানে আনত হয় সেখানে তোমার মুখ দেখি —হাইওয়ের মতো, নিঃসঙ্গ, নির্বিকার দীর্ঘতম মুখ। স্বপ্নের ভিতর দিয়ে লম্বা টানেল চ’লে গেছে, বিস্মৃতির গভীরে, আরও গভীর হতে উৎসারিত হচ্ছে অন্ধকার কোথাও কাঁপছে ঘন ছায়া, আর আমার বোধের অনসূয়া, ভাবাচ্ছে আমাকে। ভাবিয়ে তুলছে ধ্বনি, শান্ত স্বরের লিমেরিক। এই রাত গভীর হচ্ছে, আর হচ্ছে খুব তুমুল অন্ধকার আমি পাশ ফিরে দেখছি তোমাকে তুমি শুয়ে আছ —মথেরা যেমন থাকে ঘাসে—ছড়িয়ে নিজেদের ডানা  

কোথায় একটি পাতা


কোথায় একটি পাতা ডুবে গেছে, সন্তরণ ভুলে গেছে সে বাতাসের কানে গিয়ে ধাক্কা মারে সেই ধ্বনি গভীর শহরের কোনো এক বিজন জনাকীর্ণ গুহায় তারে তুমি খুঁজেছ নিবিড় প্রয়োজনে মুখমণ্ডলে তার ছায়া নিয়ে হেঁটে বেড়িয়েছ কি জঙ্গলময়? হৃদয়ে নিক্বণ শুনি, শোনা যায়; বিভিন্ন রাগে বেজে চলে আর তুমি তোমার দুঃখকে রূপান্তর করেছ সেই অমর দিঘিতে যেখানে অজস্র ছাই উড়ে যায় হংসের মতো আমাদের ডানা নিয়ে তারা উড়ে চ’লে পাতাটির খোঁজে আঁতকে ওঠার শব্দ করে, তুমি পালিয়ে গেছ দূর বনান্তে আর কোনোদিন ফেরো নি  

ব্যাবিলনা


কোথাকার আশ্চর্য তুমি? কদাচিৎ এই বালুতটে ভেসে আসো শারীরিক হয়ে; কাঠবাদামের ঘ্রাণে; পল্লবিত মলয়সমীর তমসার ওপার থেকে, উঠে আসো অতিমানবিক কোনো ইন্দ্রজাল ভেদ করে, সময়ভ্রমণে এখনো অঙ্কুর কোনো দূরতম সাইরেন শুনে, শুয়ে আছে, অথচ নিহত শীতরাত্রির ওমে, আমাদের চার হাত পায়ে, ভর দিয়ে কাছাকাছি আসি। মারা যাই, পুনরায় জেগে উঠি তবু মেঘের কিছুটা কাছে, প্রসঙ্গ থেকে বহু দূরে থাকি তুমি আর আমি  

ভয়


কিছু একটা তো হচ্ছে বোধ হচ্ছে না নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছি, একটা প্রকাণ্ড বাড়ি হাতড়াচ্ছি কুঁকড়ে যাচ্ছি গো মা বিড়ালের মতো আলো জ্বালাচ্ছি না ভয়ে, শব্দ করছি না আমার জামার ভিতর কে যেন ঢুকে বসে আছে  

রিমপি দাস


কইয়ের তেলে কই ভেজে খাচ্ছি, ঘুমাচ্ছি বিমান উড়ার শব্দে ঘুম ভেঙে গেলে, মা তুমি জানলাটা লাগিয়ে দিয়ো রিমপি দাস দাঁড়িয়ে আছে, শব্দ করে হাসছে; যেন খুন একটা করে ফেলল, একনিষ্ঠায় রবীন্দ্রসংগীত গাইল বাড়ি থেকে পালিয়ে গেলাম স্কুলে, স্কুল থেকে পালিয়ে এলাম বাড়িতে নিঃসংকোচে তাকে কিছু বলা গেল না কেবল
রাতুল রাহা

রাতুল রাহা

জন্ম ২২ আগস্ট ১৯৯৩; সুনামগঞ্জ, সিলেট। কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে...বিস্তারিত