ফেরদৌস ঈশামের কবিতা

বেহাত


দেয়ালের রঙিন আস্ফালন ভেঙেছে সন্ধ্যা ক্লাসরুম। পৌরাণিক সাঁজোয়া গলে পড়ছে শীতল সমাজ তাঁহার লাল চিরুনি এখনো অগ্নিদগ্ধ ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যাগে। সমাজকে বিকালে সিনেমা হলে দেখে এসেছি! —চারপাশ খোলাচুল। ভোরের সাথে সম্পর্ক আমার মায়ের। আমি রাত চিনি যেদিন অন্ধকার গভীর।...  

পাখি


গাছ ঘুমায়। বাড়ন্ত সুখের প্রেরণায় পাখি ডানা উড়ে যায় সবুজ ডগায়। প্রাচীন নির্জন পথ খুঁড়ে আনে ছোট্ট বাসা। খড়, মরা ডাল শূন্যে শুইয়ে যুগল স্পর্শে গোলাকার ধন। মেপে তা— পালক আগলে রাখে সময়ের তাপ। অথচ, গতকাল তারা অপরিচিত ছিল।  

সাক্ষাৎ


কালের কলেরা হলে কর্দমায় ভাসে রুপালি মাছ দেয়ালের ছোঁয়াচে অসুখে দোল খায় আরামকেদারা তরঙ্গে নাচে বিসংবাদী সন্ধ্যাকাল। নকশিকাঁথায় শুইয়ে রম্য বিকাল; অন্তহীন সাজানো গল্পের স্ফূর্তি সুতোর মতো শরীর প্রচ্ছন্নে রত। কণ্ঠ বিক্রি করে বাজারি সেতার। নগ্নতায় পাঠ চলে সবুজ আদরের । সন্ধ্যা অহংনির্জনে ছুটে রাত নামুক কলেবর।  

নিরুপম রায়


সংঘাতে প্রাণের ঝুঁকি—এই জেনেও নিরুপম রায় পড়ে লোহার পোশাক। শাণিত চোখের নীলচে রঙ সমর সমর, যন্ত্রনায় জন্ম পোষে গর্জনে হিংস্রতা। জানি তরবারি ভুল করে সৈন্য বানায় নিরীহ ঠোঁটকে আপন দেশ ভাবে রায়। এখানে পাখির ঘুমে বাঁচে সবুজ। রক্ত খেলতে আসে বালুর মাঠ। সতীর্থের তীর্থযাত্রা—লম্বা ছুটির নিশ্বাস। এসো খেলি প্রেম, আজ নিরুপম রায় পড়ে আছে লোহার পোশাক।  

সার্কাসের বানর


বৃদ্ধ অসুখ খেলতে আসে শালিকের গ্রাম। কামনায় ভাসা এক রোদ্দুর জানালা স্কুলে শহর পাঠায়। সনাতনী ফোয়ারা নাচায় শিক্ষিত শিশু। সাদা কোর্তায় সাজে যৌবনী হুক্কা দিন আসে রাত আসে খেলা খেলা সকাল হাসে পঞ্চায়েত। বিরবণী সকালে শিশির জমে সবুজ সিক্ত শরীরে শরীরে। একবার এমন গ্রামের সাথে বেড়াতে গিয়েছিলাম সমুদ্র। পুরানো সমুদ্র হাজার বছরের ঢেউ নিয়ে এখনো আশ্চর্য দেখায়।
ফেরদৌস ঈশাম

ফেরদৌস ঈশাম

জন্ম ২ মে, ১৯৯৪; বরিশাল। শিক্ষা : বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, বাংলাদেশ...বিস্তারিত