সেইন্ট দানিয়েলের কবিতা

সেইন্ট দানিয়েল (খ্রিস্টপূর্বাব্দ ৪০৯-৪৯৩) মেসোপটেমিয়ার (বর্তমানে ইরাক) সামোসাটা'র কাছাকাছি মারাথা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাইবেলীয় যুগের একজন ঋষি পুরুষ। ধর্ম এবং জীবন সম্পর্কে তার বোধ তিনি বিবৃত করে গেছেন। সেখান থেকে কিছু অনুবাদ।


  ১. আমাদের মধ্যে কেউ কেউ আছে যারা নিজেই নিজের মাথায় গুলি করে, কেউ বা ফাঁসিতে ঝুলে যায়, কেউ বিষ খায়, কেউ আবার ব্রিজ থেকে ঝাঁপ দেয়, কেউ বা নিজের কব্জিতে ব্লেড চালায়, রক্তপাত ঘটায়—যতক্ষণ পর্যন্ত না মৃত্যু আসে। এবং আমাদের মধ্যে কেউ কেউ আছে যারা প্রেমকে নির্বাচন করে— ধীরে ধীরে এই পদ্ধতির মাধ্যমে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়। ২. তোমাদের চোখ, যদিও তারা কথা বলতে পারে না; তাদের তীক্ষ্ণ কণ্ঠে চেঁচাতে দেখি আমি। এবং আমার হস্ত-যুগল, যদিও তারা ক্ষতবিক্ষত নয়— কিন্তু সেখান থেকে অপর প্রান্তের কাগজের উপর রক্ত উপচে পড়ে। ৩. রাত্রিকালীন নৈঃশব্দ্য থেকে নেকড়ের দীর্ঘ আর্তনাদ শোনা যায়। নির্ঘুম বিছানা থেকেও বেরিয়ে আসে সত্যবদ্ধ প্রার্থনা বাণী। অন্ধকারাচ্ছন্ন আকাশে নৃত্য করে জোনাকি পোকার দল। এবং দুঃখভারাতুর হৃদয় থেকে ঝরে পড়ে সুন্দরতম কবিতা। ৪. কে দিয়েছে আমাকে এই চিন্তাশীল মগজ? কে সেই ধর্ষকামী ধর্মাবতার? কে সেই নৃশংস জারজ, যে আমার খুলির ভেতর পুরে দিয়েছে একটা আস্ত নরক? ৫. খুব ভালো করেই জানি, আমার ভেতরে বোকামি কাজ করে এই কারণে যে আমি বয়সে এখনও যথেষ্ট তরুণ— আমার ভেতরেই এই স্বার্থপরতা এবং দাম্ভিকতা আসে তারুণ্যদীপ্ত উদ্দীপনা থেকে এবং এই স্বার্থপরতা এবং দাম্ভিকতা দ্রুতই রূপান্তরিত হবে পাগলামিতে; কেউ যখন তরুণ এবং সুন্দর থাকে তখন তার পাগলামি আরও বলবান হয় এবং দ্রুতই সে অমরত্বের দিকে এগিয়ে যেতে চায়। আমার ভেতরের দাম্ভিকতার বীজ শরীরী নয় এর বীজ অনেক গভীরে প্রোথিত, এটা পারমার্থিক। কেউ কি আমাকে বলবেন— সেই ব্যক্তির চেয়ে কে বেশি দাম্ভিক হতে পারবে যে তার মস্তিষ্কের গোপন স্বরকে অনায়াসে অমরত্বের দিকে ঠেলে দিতে চায়। সম্ভবত আমি সত্যিকারার্থে পাগল হয়ে গেছি; কিন্তু এ কথাও ঠিক যে কেবলমাত্র পাগলরাই আজীবন বেঁচে থাকে।

16215865_1209292249107831_450014213_n সেইন্ট দানিয়েল

   
আশরাফ জুয়েল

আশরাফ জুয়েল

জন্ম ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। কবি, কথাসাহিত্যিক। এম বি বি এস,...বিস্তারিত