বব ডিলানের কবিতা : ১ম কিস্তি

বব ডিলান যার জন্মগত নাম রবার্ট অ্যালেন জিমারম্যান, মে ২৪, ১৯৪১, একজন সুবিখ্যাত গায়ক, গীতিকার, সুরকার, ডিস্ক জকি এবং একই সঙ্গে একজন কবি, লেখক ও চিত্রকর। যিনি ১৯৬০-এর দশক থেকে পাঁচ দশকেরও অধিক সময় ধরে জনপ্রিয় ধারার মার্কিন সংগীতের অন্যতম প্রধান পুরুষ হিশেবে প্রতিষ্ঠিত। ডিলানের শ্রেষ্ঠ কাজের মধ্যে অনেকগুলো ১৯৬০ দশকে রচিত হয়েছে। এসময় তিনি আমেরিকান অস্থিরতার প্রতীক বিবেচিত হতেন। তার কিছু গান, যেমন "Blowin' in the Wind", "The Times They Are a-Changin'", যুদ্ধবিরোধী জাতীয় সংগীত হিশেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং ১৯৫৫-১৯৬৮ সালের আমেরিকান নাগরিক অধিকার আন্দোলনের প্রতীক হিশেবে বিবেচিত হয়েছে। তার সর্বশেষ অ্যালবা‍ম, Christmas In The Heart (২০০৯), মুক্তি পেয়েছে। রোলিং স্টোন ম্যাগাজিন একে পরবর্তীকালে বর্ষসেরা অ্যালবাম হিশেবে সম্মানিত করেছে। ২০১৬ খ্রিস্টাব্দের ১৩ অক্টোবর সুইডিশ একাডেমি তাকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হিশেবে ঘোষণা করে। তিনিই পৃথিবীর প্রথম গীতিকার যিনি নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। অদ্যাবধি তার বিক্রিত রেকর্ডের সংখ্যা ১০ কোটিরও বেশি। ডিলানের প্রথমদিককার গানের কথা ছিল মূলত রাজনীতি, সমাজ, দর্শন ও সাহিত্যিক প্রভাব সম্বলিত। এগুলো তখনকার জনপ্রিয় ধারার কথিত নিয়ম বহির্ভূত ছিল এবং এ ধারার বিপরীত হিশেবে ধরা হতো। নিজস্ব সংগীত ধারা প্রসারের পাশাপাশি তিনি আমেরিকার বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী সংগীতের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেছেন। তিনি আমেরিকান লোকগীতি ও কান্ট্রি/ ব্লুজ থেকে রক অ্যান্ড রোল, ইংরেজ, স্কটিশ, আইরিশ লোকগীতি, এমনকি জ্যাজ সংগীত, সুইং, ব্রডওয়ে, হার্ডরক এবং গসপেলও গেয়েছেন। ডিলান সাধারণত গিটার, কিবোর্ড এবং হারমোনিকা বাজিয়ে গান করেন। ১৯৮০ দশক থেকে কিছু সংগীতজ্ঞকে সাথে নিয়ে তিনি নিয়মিত বিভিন্ন সংগীত ভ্রমণ করে থাকেন যা তার ভাষায় "নেভার এন্ডিং ট্যুর"। তিনি প্রধান অনেক শিল্পীর সাথে একত্রে কাজ করেছেন, যেমন : দ্য ব্যান্ড, টম পেটি, জোয়ান বায়েজ, জর্জ হ্যারিসন, দ্য গ্রেটফুল ডেড, জনি ক্যাশ, উইলি নেলসন, পল সিমন, এরিক ক্ল্যাপটন, প্যাটি স্মিথ, ইউ২, দ্য রোলিং স্টোনস, জনি মিচেল, জ্যাক হোয়াইট, মার্লে হ্যাগার্ড, নেইল ইয়ং, ভ্যান মরিসন, রিঙ্গো স্টার এবং স্টিভি নিকস। যদিও তার ক্যারিয়ারে গায়ক হিশেবেই তিনি বেশি পরিচিত এবং সফল হয়েছেন, তবে গীতিকার হিশেবেই তার অবদানকে বেশি মূল্য দেয়া হয়। তার রেকর্ডের ফলে তিনি গ্রামি অ্যাওয়ার্ড, গোল্ডেন গ্লোব এবং অ্যাকাডেমি পুরস্কার জিতেছেন এবং রক অ্যান্ড রোল হল অব ফেম, ন্যাশভিল সংরাইটার্স হল অব ফেম, ও সংরাইটার্স হল অব ফেম এ তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। টাইম ম্যাগাজিনের প্রকাশিত বিংশ শতকের শ্রেষ্ঠ ‘১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তি’র তালিকায় তার নাম রয়েছে। ২০০৪ সালে রোলিং স্টোন ম্যাগাজিন প্রকাশিত সর্বকালের ‘শ্রেষ্ঠ ১০০ গায়ক’ তালিকায় দ্য বিটলসের পর বব ডিলান দ্বিতীয় অবস্থান দখল করেছেন। ১৯৯০ সালের জানুয়ারিতে ডিলানকে ফরাসি সংস্কৃতি মন্ত্রী জ্যাক ল্যাং কর্তৃক ‘কমান্ডার দেস আর্টস এট দেস লেটার্স’ উপাধিতে ভূষিত করেছেন; ২০০০ সালে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব মিউজিক তাকে পোলার মিউজিক পুরস্কার প্রদান করে এবং ২০০৭ সালে ডিলানকে সংস্কৃতিতে প্রিন্স অব অস্ট্রিয়াস পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। ডিলানের জীবনী লেখকেরা গবেষণা করে দেখেছেন তার দাদা-দাদি জিগম্যান ও আনা জিমারম্যান ইউক্রেনের ওডেসা থেকে অভিবাসিত হয়ে ১৯০৫ সালের দিকে আমেরিকায় বসতি স্থাপন করেছিলেন। তার মায়ের দাদা-দাদি বেঞ্জামিন ও লিব্বা এডেলস্টেইন ছিলেন লিথুয়ানীয় ইহুদি। তারা আমেরিকায় আসেন ১৯০২ সালের দিকে। ২০০৪ সালে লেখা আত্মজীবনী, ক্রনিকলস, প্রথম খণ্ডতে, ডিলান লিখেছেন তার পিতামহীর কুমারী নাম ছিল কিরগিজ এবং তার পরিবার ইস্তানবুল থেকে উৎপত্তি হয়েছিল, যদিও তিনি বেড়ে উঠেছিলেন তুরস্কের কাগিজমান এলাকায়। তিনি আরও লিখেছেন তার পিতামহ তুরস্কের কৃষ্ণ সাগর উপকূলবর্তী ট্রাবজন এলাকা থেকে এসেছিলেন। তার পিতামাতা অ্যাব্রাম জিমারম্যান ও বেয়াট্রিস "বেটি" স্টোন ছিলেন এলাকার ছোট্ট ইহুদি সমাজের সদস্য। সাত বছর বয়স পর্যন্ত জিমারম্যান ডুলুথে বাস করেছেন। তার পিতা পোলিওতে আক্রান্ত হলে তার পরিবার হিবিং এলাকায় স্থানান্তরিত হয়, যেখানে জিমারম্যান তার শৈশবের বাকি দিনগুলো কাটিয়েছেন। ববের ছোটবেলার বন্ধু অ্যাব্রামের বর্ণনায় বলেছেন, তিনি ছিলেন কঠোর স্বভাবের ও রূঢ়। কিন্তু ডিলানের মা ছিলেন কোমল ও বন্ধুত্বপূর্ণ স্বভাবের। জিমারম্যান যৌবনের অনেকটা সময় রেডিও শুনে কাটিয়েছেন—প্রথমত তিনি শুনতেন ব্লুজ ও কান্ট্রি গান যা প্রচারিত হতো শ্রেভেপোর্ট থেকে। পরবর্তীকালে তিনি প্রথমদিককার রক অ্যান্ড রোল সংগীতের দিকে ঝুঁকে পড়েন। উচ্চ বিদ্যালয়ে থাকার সময়ে তিনি কয়েকটি ব্যান্ড গঠন করেছিলেন। প্রথম ব্যান্ড "দ্য শ্যাডো ব্লাস্টার্স" বেশিদিন টিকে নি। পরবর্তী ব্যান্ড "দ্য গোল্ডেন কর্ডস" কিছুদিন টিকেছিল। বিদ্যালয়ের প্রতিভা বিকাশ প্রতিযোগিতায় তারা "ড্যানি অ্যান্ড দ্য জুনিয়র্সের" 'রক অ্যান্ড রোল ইজ হেয়ার টু স্টে' গানটি এত জোরে গেয়েছিলেন যে বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মাইক্রোফোন বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তার ১৯৫৯ সালের বিদ্যালয় বার্ষিক বইতে জিমারম্যান তার আকাঙ্ক্ষাকে বর্ণনা করেছেন "লিটল রিচার্ডে যোগ দেয়া"। একই বছর তিনি এলস্টন গান ছদ্মনামে দুবার ডেট করেন। ববি ভি-এর সাথে পিয়ানো বাজিয়ে এবং হাততালি দিয়ে। ১৯৫৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জিমারম্যান ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটাতে ভর্তি হন এবং মিনিয়াপোলিসে বসবাস শুরু করেন। রক অ্যান্ড রোলে তার প্রথমদিককার উৎসাহ থেকে তিনি আমেরিকান ফোক সংগীতে, বিশেষত যেসব সংগীতে অ্যাকুস্টিক গিটার ব্যবহৃত হয় তা প্রতি আকৃষ্ট হন। তিনি বলেন, "যে প্রথম বিষয় আমাকে ফোক সংগীতে আকৃষ্ট করেছে তা হচ্ছে en : Odetta। আমি একটি দোকানে তার রেকর্ড শুনি। এরপর সেখান থেকেই আমি আমার ইলেকট্রিক গিটার ও অ্যাম্পলিফায়ার বদলে অ্যাকুস্টিক গিটার আনি, একটি ফ্লাট-টপ গিবসন"। তিনি হয়তো মিনেসোটা ইউনিভার্সিটির মার্ভিন কার্লিন্সের কাছে গিটার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। শীঘ্রই তিনি ১০ ও'ক্লক স্কলার নামের একটি কফি হাউসে গান গাইতে শুরু করেন। তিনি স্থানীয় ডিঙ্কি টাউন ফোক সংগীত ঘরানায় সক্রিয় থেকেছেন। তিনি এখানে ভ্রাতৃত্ববন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন এবং বিভিন্ন অ্যালবাম ধার করতেন। ডিঙ্কি টাউনে থাকাকালীন জিমারম্যান নিজেকে বব ডিলান নামে পরিচয় দিতে শুরু করেন। তার আত্মজীবনী ক্রনিকলস-এ (২০০৪) তিনি লিখেছেন : বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর আমি নিজেকে রবার্ট অ্যালেন নামে ডাকতে শুরু করলাম.... এটা শুনলে মনে হতো কোনো স্কটিশ রাজার নাম এবং এটা আমি পছন্দ করতাম। তবে ডাউনবিট ম্যাগাজিন পড়ে তিনি জানতে পারেন ডেভিড অ্যালিন নামে বাস্তবে একজন স্যাক্সোফোন বাদকের অস্তিত্ব রয়েছে। এসময় থমাসের কবিতার সাথে তার পরিচয় ঘটে। রবার্ট জিমারম্যান অনুভব করছিলেন রবার্ট অ্যালিন ও রবার্ট ডিলান থেকে তাকে একটাকে বেছে নিতে হবে। শেষ পর্যন্ত ডিলানকেই তার পছন্দ হয়। তিনি নামের আগে বব যোগ করার সিদ্ধান্ত নেন কেননা তখন জনপ্রিয় ধারার অনেক শিল্পীর নামেই বব ছিল।


বব ডিলানের কবিতা


পথিকের দুঃস্বপ্ন অথবা রিতা বা মনোয়ারার স্বপ্ন


কতদিন কতকাল থেকে হেঁটেই চলেছি আমি। এখন অনেক রাত হয়ে গেছে এখানে একটু থামি।
ওই দেখা যায় জানালায় আলো, হঠাৎ খামারবাড়ি। কতকাল ঘুমই নি আমি— দরজায় কড়া নাড়ি।
দরজাটা খুলে বেরিয়ে যে আসে হাতে তার বন্দুক ও দা! মারমুখো তার ভঙ্গিটি আর আমার আমতা আমতা।
বন্দুক ঠেকিয়ে আমার বুকে বলে সে ক্রুদ্ধ  স্বরে, ‘চাঁদু, আমি কোথায় তোমাকে দেখেছি মনে কি পড়ে? তুমি রাজনীতি করো মনে হয়, বাম দিকে যেন ঝোঁক।’
ঢোঁক গিলে আমি বলি তাড়াতাড়ি, ‘ভুল করছেন, আমি নই সে লোক! আমি তো পথিক, নিতান্ত এক ডাক্তার এছাড়া আমার পরিচয় কিছু নেই। শুধু আজ রাতের আশ্রয় চাই— আগমন হেতু তাই।’
দুচোখ নাচিয়ে উঁকি দেয় মেয়ে, রিতা তার নাম। যেন সিনেমার পর্দায় আমি নায়িকা মনোয়ারাকে দেখলাম। তার দিকে চোখ রেখে আমি তার বাবাকে তোয়াজ করি— ‘এত সুন্দর আপনার বাড়ি! আহা! মরি, মরি!’
বাবা বলে, ‘থামো, তুমি তো পথিক! বাড়ির তুমি কী জানো!’ বললাম, ‘আমি কবিতাও লিখি, সুরে বসালে তা গানও। আমার নখের নিচে যে ময়লা শপথ নিচ্ছি তার—’ দেখলাম যেন মনটি নরম হয়ে এল এইবার।
‘মনে হয় তুমি ক্লান্ত ভীষণ— ঠিক আছে এসো ঘরে।’ কিন্তু এ কথা বলতেই হয় চালাকি ছিল তার স্বরে। ‘বিছানা পাবে ঘুমোবার, তবে এই শর্তেই শুধু— বিছানাই পাবে, চেয়ে বসবে না সিগারেটের সাথে আমার মেয়ের... ।’
ইশারাটি খুব আবছা তো নয়— সরে যায় আমার স্বপ্নের মনোয়ারা। ‘সকালে উঠবে, গাইটি দোয়াবে— বিছানার সেটাই ভাড়া।’
শুয়ে পড়তে না পড়তেই ঘুম ভেঙে এল দুই চোখে। আমি কতকাল ঘুমোতে পারি নি নিহত দিনের শোকে। হঠাৎ কী হলো? ঘরে কেউ এল? চেয়ে দেখি রিতা বা মনোয়ারা। অমাবস্যার রজনীতে যেন খসে পড়া এক তারা।
‘পথিক, তুমি কি গা ধোবে? সারা গায়ে কী ভীষণ ধুলো!’ হেসে বললাম, ‘ধুলো বলছ কী! বন্ধু যে ওইগুলো।’
‘ধুলো কি বন্ধু হয় কখনো?’ রিতা হেসে ওঠে। আমি চাঁদের উদয় দেখেছি কতবার কত ঠোঁটে।
এ জীবন আমার অমাবস্যার একটানা এক রাত। কোনোদিন যদি দিন আসে তবে হতে পারে সাক্ষাৎ।
বেদনার মতো লাল দানাগুলো ফেটে ফেটে পড়ে যায়। নিঃশ্বাস ফেলে পাশ ফিরে আমি ডুবে যাই বিছানায়।
ভোর হয়। মনে পড়ে যায় গাই দোয়াতে যে হবে! বাবা বলে, ‘আরে, অদ্ভুত এ তো! কথা কে রেখেছে কবে!’ নিশ্চয় এটি বদ্ধ পাগল! ভাগ্যে খ্যাপেনি রাতে! বললাম, ‘এখনো অনেক খবর রয়েছে হাতে।’
‘কী রকম শুনি, শুনি?’ প্রশ্ন তার— মুখখানা হাসি হাসি। ‘যেমন ধরুন—ফিদেল ক্যাস্ত্রো তাকে বড় ভালোবাসি।
’বলেই আমি বিদ্যুৎবেগে সরে যাই, দেখি বাবা ক্যাস্ত্রোর নাম হতে না হতেই তুলছে বিশাল থাবা।
থাবা বলে থাবা! বাঘের সে থাবা! সরে গেছি এক পাশে। নেমে আসে থাবা, ভাঙে আলমারি, রিতা খুব হাসে।
‘বজ্জাত, মিথ্যুক! পথিক সেজেছ! কম্যুনিস্ট তুমি শালা। পৈতৃক প্রাণ খোয়াতে না হলে বদমাশ এখনি পালা।’ পালা বলে পালা! চোখের পলকে হাজার মিটার পার। দৌড়ে আমার চেয়ে কে সফল খেলোয়াড়! বহুদূর থেকে ভাঙচুর শুনি— ভাঙে জানালার কাচ। মড়মড় করে ভেঙে যায় খামারবাড়ির গাছ। রিতা ডাকে চিৎকার করে— ‘ফিরে এসো, উন্মাদ।’ অমাবস্যার দীর্ঘ রজনী। ফিরবে যে কবে চাঁদ? আমি ফিরব না এইটুকু জানি মাড়াব না ওই পাড়া। আমি ডাক্তার, সরকারী চাকরি করি, আজকাল মনোয়ারা। এখনো বাবার থাবাটি শক্ত, বন্দুকে বড় ধার। ধড় থেকে মাথা আলাদা করবে দেখা পেলে একবার। লোকে বলে তাকে— ‘রাগ হবে সে তো আমাদেরও রাগ হয়। দাড়ি থাকলেও ফিদেল ক্যাস্ত্রো আমাদের নয়! তবে ওই কবি, ওই যে পথিক— ওরা আরো ভয়ানক। হাতে যে কলম দেখছ ওদের— আসলে বাঘের নখ।’ এখনো সে আছে চরম রেগে খামারবাড়িতে একা— পৃথিবীতে কত এমন বাড়িতে পাবে তুমি তার দেখা। তোমাকে তাড়িয়ে পথে যে নামায় কোটি কোটি হয় তারা। তোমার জন্যে একটিই বাড়ি— একটিই রিতা যে আমার মনোয়ারা।

নীল চাঁদ


দাঁড়িয়ে ছিলাম চাঁদের নিচে একলাটি অগাধ
নিঃসঙ্গ নিঃস্বপ্ন নিষ্প্রেম নিরপরাধ
তুমি জানো চাঁদ ওইখানে গিয়ে একলাটি কেন শূন্য
করেছি বিধুর বেদনার গান মায়ামানুষের জন্য
সহসা সেখানে আগমন সেই তীর্থসৌম্য সরলার
শুনি তার ফিসফিসানি, আমারই নিকটে ব্যাকুলা আদর মেগে
চেয়ে দেখি নীল ব্যথাতুরা চাঁদ স্বতঃস্ফূর্ত সোনার!
শোনো চাঁদ দেখো একলাটি নই আর
ঘুচেছে দণ্ড স্বপ্নশূন্য সঙ্গ বিরলতার
নিকটে এসেছে এ-ই তো প্রকৃত সারস ভালোবাসার।

আজ রাতে আমি তোমার


ছিটকিনি দাও, বুঁজে ফেলো চোখদুটো ভয়ডর ফেলে ফুলের নিয়মে ফোটো আজ রাতে আমিই তোমার প্রেমিক

আলোটা নেভাও, সঙ্গে অন্ধকারও
দুর্ভাবনাটা আমাকেই ভাবতে দাও
আজ রাতে আমিই তোমার প্রেমিক
গাঙশালিখটা পাল তুলে উড়ে যায়
যেতে দাও, যেতে দাও
হুৎকো মোটকা চাঁদটা যেন-বা রুপোর চামচ ঝলসায়
দেখি না চাঁদের চটকটাও
পস্তাবে শেষে, রাতটুকু বুঝে নাও
ছুঁড়ে ফেলো চটিজামা, ফালতু ভাবনা রাখো
মদের বোতল ছিপি খুলে এসো, ঘনঘোর বসে থাকো
আজ নির্ভাবনায় আমিই তোমার প্রেমিক

মৃত্যুই শেষ নয়


যখন তুমি দুঃখী,  নিঃসঙ্গ একা বন্ধুহীন মনে রেখো মৃত্যুই শেষ নয় পবিত্র ভেবে যা কিছু তুমি আঁকড়ে রেখেছিলে সবই মাটিতে লুটায়, তারা ফেরে না তো আর, তবু মনে রেখো মৃত্যুই শেষ নয়, শেষ নয়, শেষ নয়.... যখন তুমি দুই রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে সবই বোধগম্যহীন তখনো জেনো মৃত্যুই শেষ নয় তোমার স্বপ্নরা ধূলিসাৎ বাঁকের ওপাশও তোমার অজানা তখনো মনে রেখো, মৃত্যুই শেষ কথা নয়... যখন কালো মেঘ তোমায় ঘিরে তুমুল বৃষ্টিতে তুমি ভেসে যাও মনে রেখো মৃত্যুই শেষ নয় তোমার সমব্যথী এখানে কেউ নেই নেই কোনো সাহায্যের হাত তবু মনে রেখো মৃত্যুই শেষ নয়... জীবন বৃক্ষ বেড়ে ওঠে আত্মা অবিনশ্বর মুক্তির উজ্জ্বল আলো ঝলসায় অন্ধকারে শূন্য আকাশে শহর জুড়ে আগুন জ্বলে পোড়া মানুষের গন্ধ ভেসে যায় তখনো মনে রেখো মৃত্যুই শেষ নয় বৃথাই তুমি সুবিচারের আশায় খু্ঁজে চলেছ সেই নাগরিক তখনো মনে রেখো মৃত্যুই শেষ নয় শেষ নয়, শেষ নয়...

২য় কিস্তির লিংক

বিতস্তা ঘোষাল

বিতস্তা ঘোষাল

জন্ম ৫ জানুয়ারি, ১৯৭৩; কলকাতা। লেখক, অনুবাদক, সম্পাদক। জাতীয়তায় ভারতীয়।...বিস্তারিত