বব ডিলানের কবিতা : ২য় কিস্তি

১ম কিস্তির লিংক 

বব ডিলানের কবিতা ❑❑


উত্তরের মেয়ে ❑❑

উত্তরের পথে হেঁটে যাও যদি, রমণীয় ভূমি যেখানে বাতাস বয়, ঘনতর, গভীর নির্জন সেইখানে পাবে তার দেখা, আমার নাম বলো তুমি কোনো একদিন সে ছিল আমার বড় প্রিয়জন আজও কি তেমনই দোলে বেণিহীন খোলাচুল তার? ঢেউয়ের মতো বুকের চূড়াকে ঢেকে রাখে আজও কি তেমনই দোলে বেণিহীন খোলাচুল তার? ও রূপে আজও সে মেয়ে আমার হৃদয় জুড়ে থাকে তুষার ঝড়ের দিনে সেইখানে দেখ যদি তাকে যখন গ্রীষ্মের শেষে নদী হয় তুষারের ধারা দেখ যেন দেহ তার ঢাকা থাকে কবোষ্ণ পোশাকে যেন না চুম্বন করে তার মুখে হিমেল হাওয়ারা উত্তরের পথে হেঁটে যাও যদি, রমণীয় ভূমি যেখানে বাতাস বয়, ঘনতর, গভীর নির্জন সেইখানে পাবে তার দেখা তাকে বলো আজও আমি তাকে ভালোবেসে একা উত্তরের পথে হেঁটে যাও যদি, রমণীয় ভূমি যেখানে বাতাস বয়, ঘনতর, গভীর নির্জন সেইখানে পাবে তার দেখা, আমার নাম বলো তুমি কোনো একদিন সে ছিল আমার বড় প্রিয়জন

ধেয়ে আসে তুফানি বাদল ❑❑

কোথায় ছিলি রে সোনা আমার জীবন কী দেখছ বল সোনা হৃদয়ের ধন আমি দেখেছি কুয়াশা ঘেরা বারোটা ধূসর পাহাড় পেরিয়েছি আঁকাবাঁকা ছয় রাজপথ সাত মলিন বন গেছি হয়ে পার মৃত সাগরের কূলে গেছি বারবার কবরে হেঁটেছি পথ যোজন হাজার চেয়ে দেখ চেয়ে দেখ চেয়ে দেখ মা আমার ধেয়ে আসে তুফানি বাদল বল দেখি কী দেখেছিস সোনা আমার বল দেখি কী দেখেছিস মানিক আমার দেখেছি নবজাতক শিশুকে ঘিরে নেকড়ের দল দেখেছি মনুষ্যহীন রত্ন ঝরা পথ দেখেছি মা রক্ত ঝরে ক্ষত হতে বৃক্ষ শাখাটির দেখেছি মা রক্ত মাখা অস্ত্র হাতে পুরুষের ভিড় দেখেছি হাজার দশ বক্তা সকলের জিহ্বাহীন মুখ তীক্ষধার অস্ত্র হাতে পাপবিদ্ধ কিশোরের দল চেয়ে দেখ চেয়ে দেখ চেয়ে দেখ মা আমার ধেয়ে আসে তুফানি বাদল বল দেখি কী শুনেছিস সোনা আমার বল দেখি কী শুনেছিস মানিক আমার শুনেছি বজ্রের কণ্ঠে ভেসে আসা সতর্কবাণী শুনেছি তরঙ্গ ধ্বনি, সর্বনাশা বিশ্বগ্রাসী ঢেউ হাজার মাদলে বোল, শত লক্ষ অগ্নিপ্রভ হাতে লক্ষাতীত মৃদুভাষ, শুধু বলে, শোনে না তো কেউ শুনেছি অভুক্ত এক, শতমুখে তাকে ঘিরে হাসি শুনেছি নর্দমায় পড়ে থাকা মৃত কবির গান শুনেছি নির্জন পথে জোকারের কান্না চেয়ে দেখ চেয়ে দেখ চেয়ে দেখ মা আমার ধেয়ে আসে তুফানি বাদল কার সাথে দেখা হল সোনারে আমার কার সাথে দেখা হল মানিক আমার দেখা হলো মৃত ঘোড়া নিয়ে সেই শিশুটির সাথে কালো কুকুর নিয়ে সেই শাদা মানুষ হাঁটে, দেখেছি তাকেও দেখা হলো দগ্ধ তরুণীর সাথে দেখা হলো সেই মেয়েটির সাথে, যে আমায় রামধনু দিল হাতে দেখা হলো ভালোবেসে রক্ত ঝরা প্রেমিকের সাথে দেখা হলো ঘৃণা করে রক্তস্নাত মানুষের সাথে চেয়ে দেখ চেয়ে দেখ চেয়ে দেখ মা আমার ধেয়ে আসে তুফানি বাদল করবি কী বল তুই সোনারে আমার করবি কী বল মানিক আমার বৃষ্টি আসার আগে ফিরে যাব আমি, শোন মাগো ফিরে যাব অন্ধকারে অরণ্যের গাঢ়তম কোণে সেখানে অনেক মুখ, তারও বেশি শূ্ন্য শত হাত সেখানে বিষের স্রোত তাদের নদীকে ধ্বংস করে উষ্ণতার মাখা ঘর মিশে যায় জেলখানার সাথে সেখানে খুনির মুখ ঢাকা সযত্নে মুখোশে যেখানে চূড়ান্ত ক্ষুধা, যেখানে আত্মাকে গেছে ভুলে একমাত্র রং কালো, শূ্ন্যই এক মাত্র সংখ্যা বলে সেইখানে বাক্যে, মনে, সেইখানে আপন নিশ্বাসে জানব সে কথা আমি যা রেখেছি আপন বিশ্বাসে সে ধ্বনি পাহাড়ে গিয়ে আঘাতে জাগাবে প্রতিধ্বনি প্রতিটি আত্মার মুখে জাগাব নতুন আগমনী ডুবে যাব জেনে তাও সমুদ্রে দাঁড়াব তুলে মাথা যে গান শোনাতে চাই আগে তার শিখে নেব কথা

এই যে সময় পালটে যাচ্ছে, যাবে ❑❑

যে যেখানে আছ, সবাই জলদি করো জটলা বেঁধে এসে এই কথাটা স্বীকার করো, সবাই যাবে বানের জলে ভেসে স্বীকার করো, ভিজে যাচ্ছে হাড় ক’খানা শুকনো ডাঙার দেশে জীবন যদি মূল্য ধরে বেঁচে থাকতে হবে ভেসে থাকার জন্য এবার সাঁতার দিতে হবে তা না হলে নুড়ির মতো তলিয়ে সবাই যাবে এই যে সময় পালটে যাচ্ছে, পালটে যাচ্ছে, যাবে। সমালোচক, লেখক, এসো কলম আনো, ভবিষ্যৎ-কে পাবার দু’চোখ বুজে থেক না আর এ-সুযোগ যে আসবে না, তাই রায় দিও না জলদি কিছুই এই তো চাকা ঘুরছে এখন কার কথা যে ভাসছে হাওয়ায় জানবে পরে, জানতে যখন পাবে বুঝলে কিনা, এই যে সময় পালটে যাচ্ছে, পালটে যাচ্ছে, যাবে। সাংসদ ও বিধানসভার নেতা-নেত্রী, আসুন শুনতে পেয়ে জোরাল ডাক দরজা আগলে দাঁড়াবেন না ভিড়টা করুন একটু ফাঁক পথ আগলে দাঁড়াবে যে সে-ই তো চোট পাবে যুদ্ধ ভীষণ লেগেছে আজ তুমুল যুদ্ধ হবে জানলাগুলো পড়বে খুলে দেয়ালগুলো উঠবে দুলে এই যে সময় পালটে যাচ্ছে, যাবে। মা বাবারা, এসো এবার সারাটা দেশ থেকে দোষ ধরো না মিছিমিছি বোঝো না আজ যাকে সন্তানেরা শাসন বারণ মানে আর মোটে পুরনো সব রাস্তাগুলোয় ফাটল জমে ওঠে নতুন রাস্তা গড়া হবে হাত না দিলে, সরতে হবে এই যে সময় পালটে যাচ্ছে, পালটে যাচ্ছে, যাবে। যুদ্ধরেখা আঁকা হলে অভিশাপ যে সত্যি ফলে ধীরে যারা চলত তারা তিরের বেগেই যাবে এখন যেটা ঘটছে সেটা যাবে অতীত হয়ে যেমন ধারা চলছে এখন, সেটাও পাল্টাবে আজকে যে হয় প্রথম সেই তখন সবশেষে পৌঁছাবে এই যে সময় পালটে যাচ্ছে, পালটে যাচ্ছে, যাবে।

 
বিতস্তা ঘোষাল

বিতস্তা ঘোষাল

জন্ম ৫ জানুয়ারি, ১৯৭৩; কলকাতা। লেখক, অনুবাদক, সম্পাদক। জাতীয়তায় ভারতীয়।...বিস্তারিত