রণদৌড়ের ঘোড়া

রণদৌড়ের ঘোড়া ❑❑

তুমি সুন্দর, তুমি শারীরিক বসন্তের কাম আলুথালু ফুলদের পাশে শুয়ে শুয়ে                           দেখে যাচ্ছি। কথা কমছে, শ্বাস বাড়ছেই মাথাভর্তি যেন চুল নয়,                           কচি ধানক্ষেত আঙুল ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছে খুব হচ্ছে। রণদৌড়ের ঘোড়া যেন এক এসে সামনেই নত, বলছে— আর কিছু নয়, দিগ্বিজয় নয় চাই তোমাকেই, হৃদয় টলছে। ধরছ না, হায়, এমন তপ্ত                  গলিত লোহা এ          আগ্নেয়মুখে অগ্নিস্নানে লাল... প্রেম নাকি পাপ কটেজের রাত মুছে দিচ্ছে এ সমস্তই। মনে পড়ছে না সেই ব্যথাদেরও যারা                  প্রশমিত হতে পারে নাই। ওই বাহুডাল যেন রাস্তাই, দুর্ঘটনার নেই শঙ্কাও। ফোঁটা বৃষ্টির মতো রোমকূপ জুড়ে কম্পন, তুমি কাঁপছ, কী যে টের পাই! স্তনবৃন্ত এত ভালো লাগে যেন সমতলে অমসৃণ গোল ভূমি আর সামান্য ঝোপঝাড়                           নাকে ঘষছি। তির্যক চোখ তৃষ্ণার বনোভূমিতেই পথ হারিয়েছে, তাতে ঝরাপাতা ঝ'রে পাতার উপর, মৃদু ঝরে পড়ার শব্দ। শীৎকারও এই সুনসানে এক সাইলেন্ট রূপমাত্র, অধীর ঝর্না পাথর-খাঁজে ছড়ার চলন বুঝে নিচ্ছে। এত তীব্র যেন সূর্য— ঝুমসন্ধ্যায় সাগর-জলে ঢুকে যাচ্ছ। এই দৃশ্যও যত সত্য তত মিথ্যে, জানি অন্য আরেক দেশে                  তুমি সকালের রোদ হচ্ছ।

রঙ ❑❑

বিচূর্ণ হওয়ার রাত আরো ধীর, নম্র হয়ে আসি। ঘৃণামেঘ সরে না গেলেই শহরতলায় ঝড়ে চোখের উত্তাপসম রৌদ্রভাসিত মুখ                     কাঁপে, মুছে যেতে থাকে। জাহাজ ডুবানো হাওয়া বাড়ি খায় দালানে দালানে 'ফিরে আসব' বলে না ফেরা সে মৃত নাবিকের আকাঙ্ক্ষাসমেত। এই ছলোছলো ঘুম নত অন্ধকারটিকে যে রঙে ডুবিয়ে দিতে চায় সে জানে না মেরুন কি রঙ নাকি রঙের চিৎকার।

ত্রস্ত সময় ❑❑

হায়েনার হা-মুখের ভেতর আটকে পড়ে কী দেখতে পায় ত্রস্ত সময়! গলার দিকে গাঢ় ছায়া গুম হয়ে যায় পাখিরা অই লকলকানো অন্ধকারে জংলাপাশে ব্যক্তিগত রক্তমাখা পালক কিছু                                               ফের পাওয়া যায়। আলোও আসে ধারালো দাঁতের ফাঁক গলে বাতাস সাথে            মাংস-পচা-গন্ধমাখা। ত্রস্ত সময় দেখতে কি পায় বন্ধ চোখে!

বোধগম্যতার বিস্ময় ❑❑

বোধগম্যতার ভেজা ঘাসে কত ভুল প্রজাপতি এসে পাখা ফেলে গেল। সে পাখায় চিত্রিত নুরের মৃত্যঘুম,            রঙধনু পথে পথে— দেবশিশুর অবোধ্য বাক্যাবলি ওড়ে, ডুবে যায়। আঁধারের বিভূতি যে পথের আলোক তার শেষপ্রান্তে নিশিডোবা ভুলের নরক। নোনা স্বরে মুখরিত প্রান্তরের ঘাস— পালক কুড়াতে এসে আজ পাখি ঠোকরায় পাখার ফসিল, বিস্ময়ে।

মড়িঘর ❑❑

জোড়া দেই প্রলাপের ভাষা না বোঝার অভিশাপ ঘরে তুলে, হাসি। মায়াপোঁতা ঢিবির অদূরে উল্টোহাসির মচ্ছব, বোঝাপড়ার ফিরিয়ে নেয়া মুখ ভাবে, দূরত্ব বাড়ুক। বিষ আর অমৃতের সীমারেখা-মাঝে পৃথিবীর অজস্র খাদ্যের স্তূপে কিছু ভাষা খেয়ে নেয়া শেষ আর কবিতাও— গিলে খাচ্ছে বুড়োবুড়ি (আহা, তাদের রোমন্থনের ঝুরঝুরে দাঁত) কবিতা চিবিয়ে খাচ্ছে মধ্যবয়সীরা (দ্বিধাগ্রস্ত, থমথমে মুখ) পান করছে যুবক-যুবতীরা (নেশাগ্রস্ত, হুডুম দুডুম) ভিড় ছেড়ে একদিন নৈনিতাল যাব ভাবি একদিন মাংস পুড়িয়ে খাব জঙ্গলের ধারে। সবুজ মাড়িয়ে আসা পা পাথুরে ছড়ার হিম জলদের কাছে জমা দেবে শিহরন, অনুবাদহীন।
সালেহীন শিপ্রা

সালেহীন শিপ্রা

জন্ম ২০ ডিসেম্বর ১৯৮৯। স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর, ইসলামিক স্টাডিজ, ঢাকা...বিস্তারিত