ছদ্মবেশ ও রোদযাপন

উর্বরতা ❑❑

ঢেউ গুনে যেতে যেতে শিখেছি কিভাবে নদী হয়ে যেতে হয়! নদী-জন্মের পর নিজের গহিনে ফিরি। এইখানে আজ হায় আমার গভীরতায় অগুনতি রঙিন মাছ, মাছেদের বিস্তার আর জলজ পদাবলি; আরো কিছুদিন পর, কে জানে, কার প্রোথিত শেকড় বিদীর্ণ করে যাবে আমার জমানো পলি!  

কবিতারা যেভাবে লিখিত ❑❑

গদ্যচালিত শব্দের পথে হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত কবিতারা রক্ষণশীলতায় ভোগে। অথচ হাঁটু গেড়ে বসে থাকা নানদের প্রার্থনায় তখনো লেগে থাকে কিছু শীৎকার; সানন্দে! আর ভোজের জন্য বাছাই করা শূকরছানাগুলো রোস্ট হবার আগে কয়েকটা কবিতা লিখে রেখে যায়।  

ছদ্মবেশ ❑❑

খুব ভালো কবিতা লিখতে থাকা বন্ধুটিও গত সপ্তাহে যখন ঘোঁৎ ঘোঁৎ করে নিজের আসল রূপে ফিরে এল— তারে দেখে আহত হবার বদলে অবাক হলাম, ভেবে, একটা শূকরছানাও এত ভালো কবিতা লিখতে পারে!  

রোদযাপন ❑❑

দুপুরের পরে—রোদ যাযাবর হলে, আমিও আলোর সাথে কাটাকুটি খেলি। আমার এ গায়ে রোদ পড়ে ঢলে-ঢলে— তার নিচে শরীরের সব ভাঁজ মেলি!— ওম-তাপে উষ্ণতা দিয়ে যায় চলে— বুকের ভেতরে জাগে হাহাকার-ভ্যালি। ভালবাসা ঘাম হয়ে পড়ে গলে-গলে— আকাশটা হয়ে ওঠে কমলার জেলি! এইভাবে বিকেলের আলো মেখে গায়ে কালাজের যুগলেরা মনিপুরী নাচে; ছায়া পড়ে পুরাতন আগুনের আঁচে; পুড়ে মরে সব প্রেম কামনার দায়ে। কাম-প্রেম-ভালবাসা পুড়ে-পুড়ে ছাই শেষমেষ হাতে নিয়ে বাতাসে উড়াই।  

র‌্যান্ডম ❑❑

সূর্যটা আকাশের একদিকে দাঁড়ায়ে অপরদিকে রিফ্লেক্স করছিল! প্রতিবিম্বে তখন তারে মনে হলো ললিপপ! গোল, গাঢ় আর হালকায় রংটা লালের কাছাকাছি। র‌্যান্ডম মুভমেন্টে গোল যখন স্কয়ারের কাছাকাছি, প্রতিবিম্বে তখন তারে মনে হলো ঘুড়ি! ঘুড়িটা হঠাৎ বাতাসের টানে পালায়ে যাবার পর মঞ্চের পিছন থেকে কারা যেন তালি দিচ্ছিল! কী আমি দেখাতে চাই অথবা আমি কারে দেখতে চাই, এইসব না বুঝার ফলে, দর্শকমহল উপর্যুপরি আমাকেই গালি দিচ্ছিল!  

রূপবতী মাকাল ❑❑

বুকের ভেতর চন্দ্রবিন্দু ছিল, মাথার উপর হংসরাজের ডানায়— বিসর্গটা দুঃখ জুড়ে দিল। অনুস্বারে সুখটাকে কি মানায়? চুপটি ছিল তোমার গালের তিলও, ভুলটি ছিল তোমার সঠিক জানায়! প্রস্রবণের প্রতিকৃতি নিল— পদ্মলোচন নামধারী এক কানায়! নগ্ন পায়ে হাঁটছে শুধু দ্যাখো ঐতিহাসিক ভেড়ার পালের রাখাল— ঘুমের ঘোরে ধানের শরীর এঁকো গরম ভাতের পড়বে যখন আকাল! মফস্বলের পায়রাযুগল করবে কানাকানি; ভেড়ার পালে হঠাৎ করেই  লাগবে আগুন জানি— আদর করেই হুল ফোটাবে মৌমাছিদের রানি! কেমন করে মন ভোলাবে রূপবতী মাকাল?
মেহেরুবা নিশা

মেহেরুবা নিশা

জন্ম ২৯ জুলাই ১৯৮৮; ভৈরব, কিশোরগঞ্জ। ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর। পেশা : শিক্ষকতা।...বিস্তারিত