সাজ্জাদ সাঈফের কবিতা

লাটিম

লাটিম ঘোরে, একটি ফড়িঙ ঘোরার বাসনা নিয়ে বসে লাটিমের পিঠে, ফুরিয়ে যাবার কাল অস্থিগ্রন্থি  খুলে খুঁড়িয়ে যাবার কাল মর্মপথে চিৎকার হয়ে পড়ে আছে— মিহিন আলোর ভোরে কতগুলি কুঁজো লোক বসেছে নদীর ধারে— চলাচল রহিত রেখে, সেইখানে, শৈশবের লাটিম দেখার ছলে শিরিষ গাছের তলে আজ আমার বহুদিন পর বসা।  

মা আমার চেহারা ভেবে

জিয়ল মাছের পাতিল দেখিয়ে মা'র বলা কথা কানে বাজে আমার— তোর বাপ আনছে তোর আওয়ার কথা হুইনা, কতদিন পর আইলি এইবার তুই, রোগা হৈয়া গেছত বাবা! —মা আমার শতমুখী ফুলের বাগান, মা আমার চেহারা ভেবে কত না আহত হন মনে, কত ফুল জলে ভেসে যায় শতমুখী ফুলের বাগানে!

বাবার গলার আওয়াজ পাই

অত রাতে, অত সুনসান রাতে, জানালা খুলে গেলে হাওয়ায়, তোর কি ভয় পেয়ে ঘুম ভাঙে? আমি তো বাবার গলার আওয়াজ পাই, শিয়রে। ভয় করে। নদী ভেঙে ইমারত তলিয়ে যাওয়ার মতো; মরা বাছুরের পাশে তার সহোদরার ফোঁপানোর মতো, অমোঘ, অজেয় ভয়! —অথচ, অনায়াসে, কি সরল আয়েশে, মগজে পাখির শিস শুনে ফেলে শিশুরা, অত রাতে, ঘুমের ভিতর!  

রোদের ফুরালো হাসি

অস্তের কাছাকাছি সূর্যকে বিব্রত হতে দেখি এই অরণ্যে, তারপর, খুলে রাখি রোদচশমা; রোদের ফুরালো হাসি, তারপর, কাতর তমসা নামে, ধীরে— ঝিঁঝিঁদের ভাষাও আজ, লিখে ফেলতে পারি, এমনই ভাবালুতা জেনে, এক নিশি নীরবতা বুকে; আর, তেজময় বিষাদের শৈবাল নিয়ে কি সবুজ লেন, হৃদয়ের আশেপাশে ঘন! অদূর জলাশয়ে নামে পাতিহাঁস কিছু, নীরবতা বাজে গানের ভলিউমে— কে তীরে আবছায়া সাজে? কার শুনি, পায়ের আওয়াজ আমি? —বলে, অতিথি-সুরতে 'গান থেকে বেছে নাও চাঁদের আবহাওয়া, নাও, নিখিলের ভাষা'  

দিলখোলা

কাঁচিতে চুল ছাঁটানোর শব্দ আড়ি পেতে শুনি, ভালো লাগে, আজ সেলুনের ধারে কাছে আড্ডা বসাই— কাকে যেন বলে বসি ঘুম ভাঙা স্বপ্নের কথা, দপ্তরির লোহার মতো আয়েশী সুরে ঝননের কথা, পিঠে হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়ানো ছোট খালার কথা! আজ বড় দিলখোলা আমি –আকাশ ছুড়েছে মেঘের বাবল; আর, গেরস্থালির অবসরে, গৃহে, বৃষ্টির গল্প ওঠামাত্র ছাতা হাতে উঠানের ধারে এসে দাঁড়াও তুমি!
সাজ্জাদ সাঈফ

সাজ্জাদ সাঈফ

জন্ম ২৯ জুন, ১৯৮৬; যাত্রাবাড়ী, ঢাকা৷ চিকিৎসাবিদ্যায় পোস্ট গ্রাজুয়েশনে...বিস্তারিত