আর্ত চতুর্দশী

ছাপার অক্ষর

ছাপার অক্ষরে উঠে আসবার আগে বালুকাবেলায় ছিলে স্মৃতির বানানে, বিকেলের রোদে ভরা নারকেলডাঙা ঢেউ এসে মুছে যাওয়া অঙ্কুরোদ্‌গম। মগ্ন চুপিসারে অনূদিত হয়ে ওঠা নীলাভ উঠোনে ছিলে জলজ বুদ্বুদ, কার ধ্যান তুলে আনে আকাশকুসুম জমাট বুননে গাঁথা কথার বকুল। বিজিত হয়ে এলে আলোকবর্ষ দূরে ধীবর মেতেছে ভিন্ন কবিতা-কঙ্কালে, পাঠের সুড়ঙ্গ পথ দশদিক খোলা কবিতা ধারণ করে হাজার দুয়ার, সপাটে গোপন রাখে লক্ষ বাতায়ন; ছাপার অক্ষর তুমি যাবে কতদূর!

বিষবৃক্ষ

হয়তো পাতাবাহার, তবু তো বৃক্ষই : সমুদয় ডালপালা, স্মৃতি শ্রুতলিপি জল ও শেকড়শুদ্ধ চোখ-বন্ধ কাক আলগোছে সরাল গোপন পরচুলা। পরিধিতে সরে আসে সম্পর্কের কেন্দ্র করুণ এক জ্যা-বন্দি অবস্থান গড়ে গর্হিত সে পরচুলা আর বৃত্তচাপ মরল অসম্ভবের পায়ে মাথা কুটে। স্মৃতিধর মানুষের দুঃখ নিরবধি নতুন বিষবৃক্ষ মনোক্রোমিক নীলে, হৃদয়ের আন্দোলনে হারায় না কেউ রাজ্য। সম্পর্কের সর্বনাম নীলকণ্ঠ; দুনিয়াবি অন্ধকারে নিটোল বিষাদ ড্রেসিং টেবিলে, গহিন পরচুলায়।

সমুদ্রপীড়া

ঢেউয়ের পিঠে সূর্য শাঁখের করাত পিয়াসি ঠোঁটে কাঁপে লবণ-তৃষা। স্থিতি জড়তা আর গতি জড়তা— দু’দিক থেকে হানছে প্ররোচনা: ফেনিল ঢেউয়ে গাংচিলের উস্কানি, জীবন জাহাজের গৎবাঁধা ধ্বনি; দ্বিমুখী গতির টান, বেগতিক ধী— ক্যালেন্ডার থেকে উধাও দিনরাত্রি। কাঠের কেবিনবন্দি, সুদূরতমা— দুলছে প্রচণ্ড সমুদ্র সংসার; আকাশযাত্রার মিলেছে অবকাশ স্বপ্নে, মায়ায় কিংবা মতিভ্রমে। গড়িয়ে পড়ছে দালির ঘড়িটা— সময় গিলেছে সমুদ্রপীড়া।
মোশতাক আহমদ

মোশতাক আহমদ

জন্ম ৪ জানুয়ারি ১৯৬৮; টাঙ্গাইল। চিকিৎসা বিজ্ঞানে স্নাতক, জনস্বাস্থ্যে...বিস্তারিত