বিষুব রাত্রির দেরাজ

তাকে বয়ে নিয়ে আসো, সুগন্ধি ঝোপ থেকে তার বকুলগন্ধি চুলের, ঋষভ মেঘের জন্যে আমার কামনা জেগে ওঠে, আনো তারে, আর বসন খুলে রাখো পাথরের ঝরনা, সোয়ালোপাখির উপত্যকায় আমি তার সাথে চলে যাই তার কণ্ঠ কি মাদক আর অবিশ্রুত, তার হাত বেয়ে লতিয়ে ওঠে সৌরঘ্রাণ, আমি চাই তারে, তারে বহন করো উন্মাতাল রাত্রিগুলির বাঁকে, শুধু ধৈর্যশীল ধ্রুবতারার দৃশ্য আমি মনে রেখেছি, আমি চলে গেছি আমাকে ছাড়িয়ে, পুঞ্জ পুঞ্জ তার গ্রীবার তরলতায়, দেখেছি মূক মাছ সাঁতরায়; তারে আনো আর মদির করো আর মদির করো এই চৈত্রের মধ্যরাত্রির প্রহরে। কে দিয়েছিল তোমাকে এই উচ্ছলতা মগ্ন আয়ু আমার সখার জন্য উঁচিয়ে তোলো তোমাদের জড় পত্রস্বরগুলি বাঁচো, বেঁচে থাকো আমি তারে চুম্বন করি। পারদের উজ্জ্বলতায় আমার বর্ণ দিয়ে দিই, আমার পা আমাকে বহে তারই নিয়ে যায় তার কাছে, সে একা। হে মর্ম উজ্জ্বলতার, আমি একটি কুটির অনেক নদীর এক ছায়া, অবগাহন, পূর্ণতা ছড়ানো পথে পথে, আমি পৃথিবীর সাথে বৃদ্ধ হব কড়াঙ্গুলের চেয়ে উঁচু ঘাসে ঘুমাব গহন আমি হরিণ হয়ে যাব, তোমার স্বপ্ন দেখতে দেখতে হে মর্মের উজ্জ্বলতা, তুমি অবিদিত, গহন হয়ে আরও গহীন হয়ে ওঠো আমাতে আমি এক দৈব নৃত্য আমার ঝরনারা নাঁচে বিষুব আত্মাকে ঘিরে উন্মাদ বায়ুর দেরাজে, খোঁপে খোঁপে আমারই স্মরণে এই নৃত্য তার প্রেমাস্পদকে ভুলে। অজর কুহকের তীর ধরে আমি বুনেছি বাইনমাছের কাদায় ডোবা ত্বক। আমি উঠেছি জলের শীর্ষ সেসব ঘূর্ণিতে ইগল আর আকাশ যেখানে মিলছে ধুপছায়া আত্মাজুড়ে, আমি নিজত্বে মিলছি স্ব-হৃদয়ে আমি পেরিয়ে এসেছি আত্ম-শবরেখা এই-এই জলের শীর্ষ চূড়ায় এই-এই গানের অতল অমরতা আমি দৃশ্যের সেসব শীর্ষ ঘূর্ণিতে উঠছি। আমার বন্দরের জাহাজগুলি সে তাই যে আয়নার সামনে ভেঙে পড়ছে ডাইনিদের গল্পে, আমি তার পাশেই তোমাদের মাঝে, তার নিদ্রা আমার জাগরণ আনে।
মূল পাতার লিংক : পরস্পর ঈদ আয়োজন ২০২০
রোজেন হাসান

রোজেন হাসান

জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৯০; হবিগঞ্জ। স্নাতকোত্তর (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা)। প্রকাশিত বই...বিস্তারিত