সফি কামাল রিয়াদের কবিতা

তল্লাস আকাশ থেকে বিদায় নিয়েছে সমুদ্র মাখানো ভোর শান্তি চলে গিয়েছে জেনেই, অপেক্ষা বেড়েছে শুধু। দুয়ার খুলে রেখে, আরশির কোনা পানে চেয়ে থাকি। দরজা বন্ধ হলে আলো থাকে না, আয়না থাকে না চেয়ে চেয়ে আমি থাকি—না-থাকার রূপ অদল-বদল। শূন্য হলে আমি থাকি, শূন্য হলে আমি দেখি না। সবুজ আতরের গন্ধ আমার কানের মধ্যে বেজে ওঠে আতরের গন্ধ হাতরায়, আমি উৎসবের আনন্দ মাখি আর অপেক্ষা করি, যে কোনো দিন রতনের সুর বেজে উঠবে ও পাড়ার যে কোন ছাদের উপর, দরজার খুব নিকটে... ব্যাঙ ডাকার পরদিন সময় ধূম্রজাল উঠে এসো, ওই ব্যক্তিগত তারিখে—ঘুম ছিল ঠিকানা। ভূ-গভীরের গোল উত্তাপে— আমার অনন্তচোখ স্বপ্ন বান্ধব হলো, বায়ুর ভিতরে থেকেও বায়ুহীন এই অংশ—রাজ্যখণ্ড চালান। আমি অনাদিকাল থেকে বোকা ছিলাম, তোমার মত বোধহয় সেই ঘটনাটি সত্য ছিল বেশ, ব্যাঙ ডাকার পরদিন বৃষ্টি হলো গভীর শুকনো দেশে আমি ভিজায় ভিজায় চা'র সাথে বিস্কুট খেলাম মলম-লাগা চোখে বৃষ্টি গড়ায় গেলে, আমি চোখ খুলে স্বপ্ন দেখি, আমার পরিচয়পত্র বদল হয় নাই। আমি পুরাতন দোকানে ভাড়া থাকি...   অতীতে পরখ করা মেঘ ফাগুনে পরখ করা মেঘগুলো এইদিকে আসে নোনতা বস্তুর স্বাদ চেখে দেখেও আমি বিমূর্তকে ভেঙে, কাছে যেতে পারি না মোটেও আমার বাগানে অক্ষমতার বিপরীত কিছু লেখা নাই। যে হরিণ পুষেছি, তার চামড়া চোরে নিয়ে গ্যাছে। কতক মনোলোভা ক্ষণ আমারে বেহুঁশ রাখে আমি সন্ধান দিতে গিয়েও ফিরে আসি। একবার চোখ দিয়ে দেখেছি কেবল মস্তকে পাঠাতে পারি নি ছবি পরোক্ষ ওঁত পেতে আমি দেখেছি সবুজ কিশোরী এক গমগাছ আমাকে বলেছে— 'বাতাসের ভারে দুইবার উল্টে গিয়ে তৃতীয়বার হলুদ হয়েছি মাত্র' এই অতিবাহিতের যন্ত্রণা সমেত মোক্ষম কেটে যায়, আমি তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে থাকি ।   ধার করা চিন্তা এইসব প্রজাপতির অভিজ্ঞতা। বহু রঙ পরিবর্তন হবার পর হলুদ ফুলে মিশে গিয়ে হলুদ একটা আবরণ খামচে ধরেছে। শেষ রঙ-তুলিটার মধ্যে শুধু বারুদ মিশে ছিল। আর অযত্নইচ্ছামূর্তি আমাকে ছুঁয়ে দিয়েছে খামখেয়ালিতে বিদ্রোহ করা ধাতে ছিলো না— পেখম মেলানোই ছিল নিয়তি। আমি মন খারাপের ভঙ্গিমায় বের হয়ে এসেছি বহু রঙ, আর যত সমস্ত আবরণের ভেতর দিয়ে। বারুদের শরীর নিয়ে, বারুদে গিয়ে পড়ি একবার খামচি লাগে আর বহুবার আনন্দে উড়ি যেন নিয়তি অবধারিতের ঢঙে প্রকাশিত হয়ে উঠি পাখা খসে গিয়ে রূপ বদলাই হয়তো আবার পাখা গজালে উড়ে বেরুবো একদিন।   নিতু আকাঙ্ক্ষার জলে ভিজে ভিজে যাব নিতু অবদমন কাল অতিবাহিত হলে, যদি সন্ধ্যা নামে এই অবারিত অবক্ষয়ের প্রপাতে ক্ষয়ে ক্ষয়ে যাব। ওই হাত ধরার কথা কবো না নিতু। ভীষণ লাগে। আকুল হয়ে ব্যাকুলতা খুঁজি বৃষ্টি হুল্লোড় গড়িয়ে গড়িয়ে যায় তবুও তাকে ধরব না নিতু, অবদমনকাল অতিবাহিত হলে, যদি মেঘ নামে? মেঘ-মোক্ষম দিনে আমি ভিজব না নিতু বৃষ্টিতে কাটা গিয়ে হাত—যদি মুখে না ঢোকে… আমার পিপাসা পায়রা হয়ে উড়ে যায়, দূরে যায়। একটু জীবন পাবার আশায় আকাঙ্ক্ষার জলে গোসল হবো নিতু অবদমিত পিপাসায় কেন্দ্রীভূত হয়ে তীক্ষ্ণতা মেখেচেখে চোখ ঘোলা করে, ঘুমিয়ে যাব নিতু্
সফি কামাল রিয়াদ

সফি কামাল রিয়াদ