দুটি কবিতা : প্যানডেমিক

লিন উঙ্গার কবি ও লেখক। পেশাগত জীবনে কাজ করেন ‘চার্চ অব দ্য লার্জার ফেলোশিপ’-এর একজন মরমি সেবাদানকারী হিসেবে। একই সঙ্গে তিনি একজন গায়ক ও লোকনৃত্যশিল্পী। অবসর সময়ে নাচ ও গানের মাধ্যমে কুকুরদের প্রশিক্ষণ দেন। বাস করেন সান ফ্রান্সিসকো উপকূলের পূর্বদিকে। গৃহসঙ্গী দু’টি অস্ট্রেলিয়ান শেফার্ড। লিন এই কবিতাটি লিখেছেন ১১ মার্চ ২০২০।


প্যানডেমিক

◘◘ কী হবে যদি তুমি এই সময়কে ভাবো সবচেয়ে পবিত্র মুহূর্ত হিসেবে ইহুদিরা যেমন ভাবে সাব্বাথকে? ভ্রমণ থেকে বিরত। বিরত কেনা আর বেচা থেকে। শুধু এখনকার মতো, ক্ষান্তি দাও পৃথিবীকে পাল্টানোর চেষ্টায়। গান গাও। প্রার্থনা করো। স্পর্শ করো শুধু তাদের যাদের জন্য তুমি জীবন দিতে পারো। আত্মমগ্ন হয়ে ভাবো জীবনের মানে। আর যখন তুমি সশরীরে বেরুতে পারছ না বেরিয়ে পড়ো তোমার হৃদয়ের সাথে জেনে রেখো, আমরা বহুভাবেই সম্পর্কিত যা ভয়ংকর এবং সুন্দর। (এখন এটি এড়িয়ে যাওয়া তোমার জন্য কঠিন।) পষ্ট জেনে রেখো, আমাদের জীবন এখন পরস্পরের হাতে তোমার হাত বাড়িও না বাড়িয়ে দাও তোমার হৃদয় উচ্চারণ করো তোমার অভয়বাণী বাড়িয়ে দাও তোমার সহানুভূতির লতা যা চলে অদৃশ্যভাবে যেখানে আমরা স্পর্শ করতে পারি না। এই পৃথিবীকে তোমার ভালোবাসার কথা দাও সুদিনে বা দুর্দিনে অসুস্থতা অথবা স্বাস্থ্যে যতদিন আমরা আছি বেঁচে।

ব্লেসিং মুসারিরি কবি, লেখক। জন্ম ১৯৭৩ হারারে, জিম্বাবুয়ে। আফ্রিকান দেশগুলোতে শিশুসাহিত্যিক হিসেবে সুপরিচিত। উল্লেখযোগ্য কাজের তালিকায় রয়েছে, ‘দ্য মিস্ট্রি অব রুকোদজি মাউন্টেন’, ‘রুফারো’স ডে’, ‘গোয়িং হোম : আ ট্রিজ স্টোরি’ এবং ‘দি অ্যাডভেঞ্চারস অব বাকারা ব্ল্যাকবার্ড’। ‘গোয়িং হোম’ উপন্যাসের জন্য একাধিকবার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। কবিতার বইয়ের মাঝে ‘মিতু’স স্পাইস ট্যুর’, ‘মাই টোটেম কেইম কলিং’ উল্লেখযোগ্য। ‘প্যানডেমিক’ কবিতাটির জন্য ২০০৯ সালে ‘সুসি স্মিথ মেমোরিয়াল’ বিশেষ পুরস্কার পান। অনুবাদের উৎস হিসেবে ‘স্যান ডিয়েগো স্টেট ইউনিভার্সিটি প্রেস’ প্রকাশিত ২০০৮ সালের অনলাইন সংস্করণ ব্যবহার করা হয়েছে।


প্যানডেমিক

◘◘ আমি এখন চামড়ায় ঢাকা একটি কঙ্কাল কোনাকুনি হাড়গুলো ভেসে আছে টানটান একদা এই দেহটিরই তো তুমি অনুরাগী ছিলে। আমি তোমার চোখে আশা দেখি কিন্তু তোমার চোখ এখন অতি লাজুক তোমার সাবধানী দৃষ্টির পেছন থেকে ঝুলন্ত সন্দেহের শিকড় আঁকড়ে আছে মুক্তিপণের বাস্তবতা। না, কোনো ভুল হচ্ছে না এ তো আমি মানুষের মতো দেখতে অস্পষ্ট এক রূপরেখা প্রায় নেভা প্রদীপের মতো ক্ষীণ এই সত্তা যার শ্বাস পর্বতের গা বেয়ে উঠছে আর সেই শ্বাসের অনিশ্চিত ফিরে আসার জন্য আমাকে ছেড়ে যাচ্ছ তুমি। বাতাস এখানে মিহি আর জীবনের ইশারা বহুকাল হলো চলে গেছে; আমার মেয়েটার শীর্ণকায়া একটা ঘরে আমি সবেমাত্র ছেড়ে এসেছি আমার স্বামীর ঘেন্নার সঞ্চয় কিন্তু আমার যাবার উপায় নেই যে পা দুটো আমাকে বয়ে নিত সেই পা দুটো এখন আমাকে বইতে পারে না অথচ আমার দেহের ভেতর এখনো বাতাস আসা-যাওয়া করে অথচ এখনো আমার মুখে আছে দ্যুতি। তবু কেউ বলবে না কেবল এক-কামড় রুটির মতো ছোট একটি কথা। যেদিন শেষবার আমাকে তুমি দেখেছিলে তুমি পরিত্যাগ করেছিলে, কাজেই তা মৃত আর এখন তুমি আমাকে নিয়ে যা মনে করবে তা বহুদিন আগেকার মৃতের গন্ধ আমি সত্যের চাইতেও দীর্ঘকাল ধরে ঝুলে আছি তুমি এড়িয়ে যেতে পারো তবু কেউ বলবে না একটি কথা। আমার জ্ঞান ছাড়া আমাকে দেয়া হয়েছে এক অস্পৃশ্য বিষ কেবল এক-কামড় রুটির মতো ছোট একটি কথা।
গৌরাঙ্গ হালদার

গৌরাঙ্গ হালদার

জন্ম ৫ জুন ১৯৮০; বরিশাল। পেশা ড্রাইভিং। প্রকাশিত বই : লান্দাই : সমকালীন আফগান...বিস্তারিত