মারুফ বরকতের সাতটি কবিতা

ফুল খেলবার দিন

নাকের উপর ফুল একটি ঘামের বিন্দু ছিল বাজি ইস্টিশনের ভুল তবু আমি নামতে হলাম রাজি এমন দুপুর অর্ধেক তার ছায়া একটু না হয় নাকফুলে হাত রাখি একটু না হয় ঠোঁট ছুঁয়ে যাক মায়া একটু না হয় বাজুক পরানপাখি কেইবা দেখবে? ইস্টিশন তো ফাঁকা কে ধমকাবে? পার্বতীপুর খাঁ খাঁ আজ দুপুরে হেই রাধা চলো খেলি এমন সুযোগ আসবে না বারবার খোলা মাঠেই আজ হবে জলকেলি দেখার মানুষ সব পুড়ে অঙ্গার

অজ্ঞাতবাস

ছোট এক চাওয়া ছিল পৃথিবীর কাছে অর্থ নয় কীর্তি নয়, নয় স্বচ্ছলতা বুঝবে মর্মব্যথা চাই নি এমন কোনো নীল আফ্রোদিতি চাই নি আনন্দ আমি, চাই নাই রতি মানুষের গন্ধ নাই এমন বাতাস আর কিছু চাই না হে, দিতে পার অজ্ঞাতবাস? না গ্রাম না ঘাট, নয় মানুষের ভিড় শব্দের উৎস যেথা কেবল শিশির এমনকি চাই নাই রেলের লাইন শেষে পার্বতীপুর এমন এক গাছতলা, চারপাশে শুধু তার দূর মানুষের ছায়া নাই এমন আকাশ আর কিছু চাই না হে, দিতে পার অজ্ঞাতবাস?

ছুটি ◘

ছুটি চায় এ শরীর আজ পেশা, স্নেহ, প্রেম বড় ভার এ জীবনে ঘোর ব্যস্ততা মরে প্রাণ, বাড়ে কারবার দুনিয়া বদল ছিল পণ হাতে ছিল জোনাকির পাখা এত খরা পার হয়ে দেখি বৃষ্টিতে অবসাদ মাখা আমাকে কি ডেকেছিল কেউ? তবু আমি এসেছি নিলাজ দুই পায়ে আজ বড় ব্যথা ছুটি চায় এ শরীর আজ চারপাশে বাসনার ফাঁদ সাধ্যের অধিক তার দাম যেদিকে তাকাই ছুটি নাই কালীয়দমনে, রাধা, আজ তাই নাম লেখালাম বুঝি না কোথায় আমি যাব কোন ট্রেনে পার্বতীপুর যত ভাবি হই কাছাকাছি তত আমি থেকে যাই দূর কথা ছিল উঁচু ডাল থেকে তোমাকেও পেড়ে দেবো আম অথচ শরীর চায় ছুটি, বাতাসের আগে আমি এ কেমন ঘর বানালাম?

হাত

হৃদয় দিয়েছ যদি, প্রভু মুখে দিলে কেন এত লাজ? তোমার মতন কভু আমরা তো নিবিরাজে করি না বিরাজ (মাটির শয়ানে থাকি মুখপোড়া, শঙ্কিত, কীটের আকারে মনে হয় তারে তবু ডাকি যেমন বাঘের ছানা মেতে ওঠে খেলার শিকারে) লাজ যদি দিছিলা এ মনে শরীর বেলাজ কেন বানাইলে তবে? তুমিই কি স্রষ্টা তবে, এ ভুবনে? তাই বুঝি এ শরীর আজ পরাভবে? আমি চাই পৃথিবীর সবকিছু আজ আমি নিজ হাতে গড়ি হাত আজ আমার অধীর তোমার হাতটা নিয়ে কিছু খেলা করি শিশুর মতন আজ জেগে দেখি স্বপ্নের কিছু আছে, কিছু গেছে টুটে তোমার শাড়ির ভাঁজ আমার হাতের থেকে তবে কেন আজ যায় ছুটে?

কালাচান ◘

দিঘল হয়েছে ছায়া              যমুনায় বাড়ে মায়া                   চোখ ফেটে নেমেছে বেদনা এতটা বিকালে এসে            বেনোজলে ভেসে ভেসে                   যাতায়াতে হয়েছি বিমনা চোখ নাই বালি নাই,            চোখের বালি হে রাই                   যত মুছি চোখ ভরে জলে তুফানে যুঝেছি কাল             বাথানে মোষের পাল                   ডুবে গেছে মেঘনার ঢলে জোয়ার আসে ভাটা যায়,       চাঁদ ওঠে মেঘনায়                   মানবজনম বুঝি বৃথা এত পথ একা যাব                 কার আমি ঘরামি হব                   চেয়েছি যা কভু পাই নি তা হেসো না হেসো না রাই          যত কথা বলে যাই                   উড়ায়ে না দিও তার সব জলে জোছনা ফিনিক             নামে আঁধারমানিক                   ক্ষত ভরা বুকে কলরব বৃন্দাবন অন্ধকার আজি          শূন্যে ফেরে কররাজি                   দ্যাখো আজ শ্যাম ব্রজে নাই তুফানে নিল বাথান                হইল না সুর গাঁথান                   কথা দিলে রাখে না কানাই

ডালিমের বেদনার ভার

পালাব তোমাকে নিয়ে রাধা চলে যাব আর কোনো দেশ গোধূলির শাঁখটা বাজুক একটু সারুক পিঠ-ব্যথা অসুখের চেয়ে ঘোর কিসে সৃষ্টির মতো কিসে ব্যথা সয়ে যেও এই মুখ চেয়ে তোমাকে দুঃখ দেই যদি হেই রাধা খুলেছ জানালা যেন এক সোনালি ব্লাউজ কপাটে বোতাম অগণিত জোয়ারে নামুক তারাখসা কলাগাছে ডালিমের ভার ফুটে আছে অবিচার যেন রাধা চলো ওয়েটিং রুমে ঘামের পাহাড় ভেঙে পড়ে রাধা তুমি কাদা ভরা বিল তুমি রাধা পার্বতীপুর ট্রেন ছোটে ঝিকঝমাঝম অসুখের ঘোর চোখ জুড়ে জানি রাধা বেশি দিন নাই জানালা খুলতে কাঁপে হাত যত রাধা দিন গোনো তুমি পাড়ি দেই আমি তত রাত

কসম ঝিনুক পাখি

আসছে শীতের শেষে হলুদ সরিষা ফুলে রসপাকা ঘ্রাণ কানে কানে লেগে থাকা রেণু এমন কুমড়া ফুলের দিনে যমুনা নদীর মাঝি, এই নাও পাড়ানি আমার শুধু ছেঁটে দাও এই বাড়তি খেলার ডানা নিঙরানো মেঘ ফাল্গুনে বারকি নামা বিলে বয়স্ক বোয়াল হয়ে একবার ঘাই দিয়ে যাব শেষবার বলে যাব, শরীরের ভরা ইতিহাস কসম দোপাটি ফুল কসম ঝিনুক পাখি, তারাখসা রাত্রি আমার!
মারুফ বরকত

মারুফ বরকত

জন্ম ১৪ আগস্ট ১৯৭৪। স্নাতকোত্তর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, জাহাঙ্গীরনগর...বিস্তারিত