এত দূর হেঁটে আসা ভালোবাসে, পাকাল প্রেমের দিব্যি ভেতরে ভেতরে তবু হিংসার অণু ব্রাইগি-তাড়নার তাড়া খেয়ে বুঝলাম—ভালোবাসা নয় নিমেষনিহত বাদামবিচি বিচিত্র ভাবের ছলনার ছল পাশাকড়ি খেলা শেষে ক্লান্তির জল পরম্পরা নিয়ত মৃত্যুর তিনকাঠি চিত্রগুপ্তের কুলজি মরণতাড়ি; গণক… নিমপাতা… কেওড়া… গাজনপাতা… ধনেপাতা… সজনেডাটা... আগুনপোড়া বন নরম হৃদয় মাঝে—লুকানো ঈশ্বর দুঃসহ যাতনায় মুক্তির আশ্বাসে কোথায় সে শামানের ইশারা? জ্বলছে নীল তীরে পিরামিডের বন্দর আমাজানের হরিৎপাতা চিবিয়ে খাচ্ছে শকুন অজন্তা-ইলোরায় বিগতযৌবনা হরিণীর চিৎকার—এসো না কাছে প্রেমহীন ছিন্ন করো না সুন্দর অতঃপর খেলো তুমি হর-গৌরী; দুঃখের বারান্দায় কাঁটাতার ছুঁয়ে দেখি না দুঃখ তোমার তুমি চাষ কারো না তোমাকে বিলিয়ে দাও তড়িৎপ্রবাহে মধু আর চিনিতে রাখো মুখ বিষ্ঠার গোলায় বানানো তাবিজের বান; অবরোধ দেখেছি মনেরই ভাঁজে তালাটা বাইরে নয়, ভেতরে নিরন্তর উজ্জ্বল, ওখানে নিবিড় শুনছি নৈঃশব্দ্যের পাখোয়াজ আগে শুনি নি কখনও এমন কেউ মাঝে মাঝে ইচ্ছে করেই বোবা হয় বোবার যে শত্রু নেই অন্ধ ও বধির হলে ভিন্ন দর্পণ অস্পষ্ট, খেয়াল করছি নিজের স্তব্ধতা হৃৎপিণ্ডের ঘণ্টাধ্বনির লাবণ্যে ঘুম আসে প্রতিদিন প্রতিটি প্রাণ নিজেকে শুনছে, অনুভব করছে শুনুক তবে; সব কোলাহল সব প্রার্থনা দায়িত্বের জাল জটিল জঞ্জাল দাবি, প্রেম, হিংসা পথের অনাহূত থুতু আর ঠাট্টা পিশাচ হাত আর শব্দের ছন্দ বেওয়ারিশ কণ্ঠের উপদেশ কর্কশ গান দম্ভ, অসুখ, ক্ষমতার পচাগন্ধময় শিল্পকথন; বাটু ও বৈতালী-মুখে ধর্মকথা শোনা, এবং অযাচিত যৌনাঙ্গ প্রদর্শন দেখা হতে দূরে নৈঃসঙ্গ্য আর আমি আছি একসাথে মুখোমুখি পরস্পর এই নিঃসঙ্গ কণ্ঠ আমাকে বলেছে নির্জনে— শ্রেয়তর আশ্রয়, আন্ধার ঘরের দেয়ালে বিশ্বের তাবৎ চিত্রকর্ম দুলছে শিল্পিত কৃষক-শ্রমিক হত্যার কৌশল কুর্দন, দলিত কাহিনি; দেয়ালের বুদ্বুদ বিন্দুগুলো যেন রক্তমাখা সংগীতের নোট এক-একটি নিরাময় শক্তি আমাকে স্নাত করে, স্বচ্ছ করে সত্যিই আলোকিত করে এই নীরবতা নিজেই প্রতিবেশী নিজের নিবিড়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ—আমার ইচ্ছের বাইরে যেখানে আসার অনুমতি নেই কারও ভেতরে ভিন্ন এক পৃথিবী জেগেছে এখানে ঝংকৃত অভয়ারণ্যের গাথা প্রিয় শান্ত স্বস্তির নীরবতা আর সসেমিরা নয় বলি: স-সে-মি-রা।