হাওয়াকলের ঘূর্ণনগতি
চেতনার ভারবিন্দু হতে ছুটে গেল সময়ের দুর্বিনীত শিখা, সেইসব আদিম অভীক্ষা জড় ও জীবনের মাঝে ঘুচিয়ে দিচ্ছে ব্যবধান, তবু এক কণ্ঠস্বর হাওয়ায় ঘূর্ণি তোলে—চাকা ঘোরে, গম পেষবার কলে পিষে যায় সমস্ত তিতিক্ষা হৃদয়ের, আমরাও আমাদের তাবৎ ইন্দ্রিয় দিয়ে ঠেকিয়ে রাখি নিজের সাথেই নিজের পরম দূরত্বটুকু…
নস্টালজিয়া
আমার সমস্ত কথা, সব গান, মর্মরধ্বনি হয়ে ঝরে পড়ে; যে পথে বারবার ফিরে আসে নুনগন্ধ মেখে— নাবিকের গৃহকাতরতা, আমাকেও টেনে নাও তাতে, হাওয়ায় উড়ছে গান, এই সমুদ্রফেনা, এই জলযান— আমাকে ভাসিয়ে নীলে, কতদূর উড়ে যাবে তবে শঙ্খচিলের ডানা?
গোলকধাঁধার পথে
আমাকেও লুকিয়ে রাখো সময়ের ক্ষুব্ধ পরম্পরায়, তারই ঘূর্ণনপথে কেন্দ্রগামী ত্বরণের টানে যেই ব্যাসার্ধ ধরে রাখে বৃত্তের প্রকৃত চারণভূমি— তার মাঝে আরও কিছু অনর্থক নৃত্য দেখি, দেখি চক্রাকারে ফিরে আসে রাত্রি ও দিন; অথবা ঘড়ির ডায়ালে কেউ রেখে দেয় বিভাজন, আমাদের হস্তরেখার মতো থেমে গিয়ে সহসাই সেও এক প্রতীক্ষা হয়ে থাকে শুধু একবার পঠিত হবার ছদ্মবেশী কৌশলে!
সুভাষিত রত্নকোষ
আহা শৈশব— নখরের দূরত্বে দাঁড়িয়ে তুমি বলে যাও আমাদের গাইতে না গান এই মৃত্যুপরিধির পানে। তর্জনীর নৈঃশব্দ্য ঘিরে যত সুর ক্লান্ত সায়রের জলে ডুব দেয়, আমরাও মুছে যাই আমাদের না ফোটা চোখের কোণে, কতটা সিক্ততা ধরে একবিন্দু জলে? তবু বারবার কিশোরীর নগ্নতা ঢাকে প্রেমিকের ক্ষিপ্র আলিঙ্গনে।
কবিতা
শব্দগুলি ফিরে আসে একে একে প্রথিত প্রেমের ছলে! স্পর্শের আহ্বানে জেগে ওঠে যেই দুটি স্তনের স্ফুরণ চন্দ্রমল্লিকার বনে ছড়াচ্ছে সুবাস, জলের সন্ধানে নেমে আসে পরস্পর অজস্র বুদ্বুদে! এইসব আশ্রুত কথকতা রাতের রিরংসা হয়ে উড়ে যাক তবে কার্পাস-মেঘের বোনা আকাশে আকাশে।