জারুল ফুলের বিভ্রমে

জারুল ফুলের বিভ্রমে

বেগুনি ফুলের রূপে ফুটে আছে কোনো এক বিস্মৃত নারীর প্রতিমা, আমাদের মর্মর নিঃশ্বাসে বিকশিত পোলেন কণার সৌরভে বাতাসের সর্বজ্ঞ গতির ইশারা—সবুজের তরঙ্গচূড়ায় ফসফরাসের মতো জ্বলে উঠে ভেঙে পড়তে থাকে চোখের গভীরে আরও এক বিস্তৃত সৈকতসীমানায়।  

অধিচিন্তাপ্রবাহ

যেই মুখ দেখে মনে আসে সুনিপুণ সেই চারুপরিহাস, শিল্পীর উন্নাসী চোখ খুঁজে ফেরে যেইভাবে নিরেট পাথরে শিল্পের অনাম্নী প্রতিমা, কতটা সখ্যতা আছে সেইসব স্মৃতি বা স্বপ্নের বল্কলে? পাখি ও পতঙ্গের কথা বলি, বলি ফুলের সুবাস— দৃষ্টির সীমানায় কতদূর গেলে তাকে দিগন্ত বলা যায়? আকাশ কতটা বিশাল এই চৌকোনা জানালায়? একবার উড়ে গেলে সমস্তটাই যায়, তবু মনে রাখি প্রজাপতি বসেছিল ফুলের ওপর, যদিবা ফুলও থাকে না আর! অথবা আমরাও উড়ে যাই, প্রজাপতি নই, একজোড়া রঙিন পাখনায় আর ভরসা হয় না আমাদের! স্বপ্ন থেকে জেগে উঠে ভাবি এও এক স্বপ্ন বুঝি, অথবা স্বপ্নই এক চিরবাস্তবতা, আমাদের ঢেকে রাখে রঙিন চাদরে।  

ভেনাসের স্তন

যে ফুল ফোটে নি কখনই, রাতের রহস্যে ঘেরা পাখা অার পালকের কোমলতা, সুপ্রাচীন গ্রন্থের মতই কুমারী গোলাপ! সাগরের নোনা জলে পুঞ্জীভূত ফেনায় ফেনায় ভেসে আসে ঝিনুকের খোলসে আবৃত দেহ, জীবনের অসীম ব্যসার্ধ ঘিরে জেগে থাকে ক্ষুধা আর প্রেমের পরিধি, আর তার সব সুর পেরিয়ে গেলেই স্নায়ুর সমগ্র বিচ্ছেদ জুড়ে নেচে ওঠে ঘুম আর স্বপ্নের সিম্ফনি!  

প্রপর্ণ প্রমাদ

তবু তো পেয়েছি কিছু—ধ্বস্তদেহ—বেঁচে থাকি—ক্ষতবিক্ষত আলোয়ান গায়ে নেমে যাই কার করায়ত্ত সৌরালোক মাঝে, ভাবি কতদূর আর যাব—অন্তরীক্ষ থেকে বুঝে নেব অভিমৃষ্ট নীরবতা! কিছু গান তবু বাকি ছিল ভুলে যাওয়া সুরে বেসুরো তারের মাঝে নেচে নেচে খুঁজে নেয় নিপুণ আঙুলে কিছু স্পন্দিত ভঙ্গিমা—ডেকে যায়, কাকে আজ বাজি রেখে বসে পড়ি জুয়োর আসরে—দেখি কৌশলী পরাজয়, সমস্ত বিকেলজুড়ে যেইটুকু আলো ঝুলে ছিল নেমে যায় সন্ধ্যার পঙ্কিল জলাশয়ে আঁধারে আঁধার ভাঙে—ধ্বস্তদেহ—বেঁচে থাকি—জীবনের পরিচিত সামান্য আয়োজনে।  

অনঙ্গ ইশারা

স্তনবৃন্তে ধরে রাখি জীবনের মহার্ঘ বিশ্বাস, আলোর রেখাঙ্কিত সীমানা পেরিয়ে এসে আরও দূরে—প্রহরের জীবন্ত নিঃশ্বাসে উবে যেতে থাকে কন্দর্পকূপের বিগলিত অন্ধকারগুলি, যেন রেবতীর ছায়া ধরে কেউ পার হয়ে গেল ছায়াপথ— চাঁদ ও মেঘের পাশে আরও এক বিস্তৃত সুরের পেয়ালা রেখে; তাকেই পূর্ণ করি—স্মৃতিরূপে, চুম্বনের সীমাহীন প্রবুদ্ধ উল্লাসে।
তানভীর আকন্দ

তানভীর আকন্দ

জন্ম ৬ ডিসেম্বর ১৯৯৪; গফরগাঁও, ময়মনসিংহ। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি...বিস্তারিত