হোম
কবিতা
পালক ফোটানো লব্ধি
পালক ফোটানো লব্ধি
লীন সুর
❑
নিনাদের পাপড়ি ঘেরা আলো
ঘূর্ণিমুদ্রার সহজ হয়ে উপচানো বিভায়
দিগন্তে উজায় রূপ।
ঘন হয় স্পন্দন, আঙুল জড়িয়ে ধরা আঁশ…
বিলাস গড়িয়ে নামা ঝরায় ব্যাকুল স্নান।
আকাশস্রোতের নীড় তন্ময় ছায়ার বাঁকে পথের বিহারে
সেখানে জল ধরে রাখে কৃষ্ণচূড়ার কায়া
উড়ালপরান নিয়ে পার হয় সেই হ্রদ এক লীন সুর…
পালক ফোটানো লব্ধি
❑
উজান যাত্রার অনিমেষ
এখানে মেঘের প্রতিবিহারের অন্তর জুড়ে আছে নামহীনতার অলিন্দ।
পালক ফোটানো লব্ধি জড়িয়ে জলের বিগ্রহ। চাপা আলোর গুনগুন।
স্মৃতিশাখা—বিপুল হাওয়ার স্রোতে
অতি দূর নীল
❑
শিখা, তুমি অশ্রু হারানো দেহ, অলীক আনন্দ ব্যাধ রেখেছ জাগিয়ে।
পুড়েছে লাবণ্যভূমি, গিরিখাতে জমে হ্রদ—দ্বিধাহীন, স্থির।
জল, তোমার গভীরে থাকা চলৎজীবন আজ আভরণহীন সেই আলোর পসরা।
এভাবে ভিজেছে নাও, দিন শেষে আঁধার শরীরে।
রেখেছি চূড়ায় ছাপ, গুল্মছোপের অতি দূর নীল তোমার আত্মায়।
আয়ুর আওয়াজ পার হয়ে
❑
মুছেছি আকাশ থেকে মেঘ, অগ্নিধারার তেজে শুদ্ধ হল ধাতু, তাতে হরিণের চোখ আঁকা—বেদনাহীরক।
পাখিরও ছিল না ছায়া, শুনতে পেয়েছি শুধু ডানার ঝাপট।
অন্ধের দেশ থেকে উত্থানের ভূগোল ডিঙিয়ে দিশা এল, দৃষ্টি বলি একে।
নেই স্তব, শানানোর মন্ত্র শিখা পাহাড়ের শিখরে উজল।
ভুবন, তোমার নতি আমাকে দিয়ো না ডেকে, আমি একা তীক্ষ্ণ ফলায় খচি বীজ-তুলো-তামাটে তক্ষণ।
এ মিনারে আমিই আরতি যদি, আমাকেই ছিদ্র করে গড়ে বাঁশি কাঙ্ক্ষা পরম।
এবার এনেছি মেঘ, জলধারা, শালুক শস্যের প্রেম। আয়ুর আওয়াজ পার হয়েছে মরম।
গীত-বর্তুল থেকে
❑
গীতবর্তুল থেকে ভোর পুচ্ছ নিয়ে জাগে
বাঁক ছড়ানো তন্দ্রার অনুরাগে—নামে বৃষ্টি।
দৃশ্যের গভীরে এই ধারা আঁধারের শ্লোকে গতিবান,
প্রভার শিখরে ঢলে হরণ নির্বাণ–
বিদারিত হয় পদ্ম, মাধুরীর অন্তরে।
উদ্যান জুড়ে বেড়ে চলে তান ঘাসের হৃদয়ে—
চোয়ানো রোদের সাথে তার চাহনির ধীর সংলাপে
এল বীজ, ছায়ার বুনটে এল তূর্য বিহার।
তানভীর মাহমুদ
জন্ম ৯ অক্টোবর, ১৯৮০, ঢাকা। ইংরেজিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। এমবিএ, ঢাকা...
বিস্তারিত
জন্ম ৯ অক্টোবর, ১৯৮০, ঢাকা। ইংরেজিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। এমবিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। অপরাধতত্ত্ব ও বিচার-এ এমএসএস। পেশা : চাকরি। প্রকাশিত বই : প্রতিবিহার (কবিতা) ই-মেইল : editor.hansadhani@gmail.com (স্বল্প)