মোক্তার হোসেনের দ্বিতীয় ছড়ার বই ধুর শালা কস কী প্রকাশিত হতে যাচ্ছে 'অগ্রদূত' থেকে। মেলায় গিয়ে পাঠকেরা বইটি খুঁজে পাবেন ৫৮৮ নম্বর স্টলে।
ব্যালট পেপার উধাও
ব্যালট পেপার চুরুট টানে বাক্স টানে গাঁজা পর্দা টানা বুথের ভেতর ইভিএমই রাজা আসবে রাজা ভোটের বুথে তা নিয়ে খুব দ্বন্দ্ব তার ভেতরে খুঁজছে-বা কেউ অঙ্কবাজির গন্ধ পাবলিকের কি সময় আছে এসব নিয়ে ভাবার হাতের পাঁচে দেখছে গুনে ভোট কে দিল ক’বার ভোট কি এবার হবেই দিতে মতির বাপরে শুধাও গতবার তার ব্যালট নাকি করছিল কেউ উধাও
খোয়াবনামা
এই জাতিটার ঐক্য হবে এই খোয়াবটা মন্দ না দেশ লুটিয়ে খাচ্ছ তুমি তা নিয়ে তো দ্বন্দ্ব না শিনার হাড্ডি খাচ্ছ তুমি আমারে ভাগ দ্যাও না ক্যান ভাগ না দিলে করবোই তো ভাঙতে সব মাস্টারপ্ল্যান দেশটা যখন শুকনো রুটি বানর তখন হয় নেতা হালুয়া রুটির ভাগটা পেতে ঐক্য নামের ফাঁদ পাতা এই জাতিটার ঐক্য হবে ঐক্য করেই করব লুট ঐক্য করেই করব দেশের জনগণকে টুট টুট টুট
গু-জব
হাতিশালের হাতি নাকি উইড়্যা গেছে আকাশে এলিয়েনরা দখল নিছে আমেরিকার চারপাশে শাহ্-জালালের রানওয়েতে হইছে নাকি ডেইরিফার্ম আমানউল্ল্যা নিজের চোখে দেইখ্যা আইছে, কনফার্ম তাজের বাড়ির কুয়ায় নাকি নীল তিমিরা পান চাবায় ডিসকভারি চ্যানেলে নাকি ছাগলগুলা বাঘ থাবায় গাইবান্ধার মর্জিনার মা পানি দিয়া ডিম ভাজে ট্রাম্প-পুতিনের ভাস্তি নাকি পার্সোনাতে রোজ সাজে মিগ টুয়েন্টি নামছে নাকি গুলিস্তানের ফুটপাতে সানি লিওন রেপড হইসে বলিউডে কাইল রাতে মাছের পিঠে চইড়্যা ঘোড়া আয়েশ কইরা খায় বিড়ি কুয়াকাটায় আকাশ থেইক্যা নামছে একটা লাল সিঁড়ি ফেইসবুকের নিউজ ফিডে হইসে প্রচার সব খবর শুইনা এসব আমজনতা খুঁড়ছে শুধু জোড়-কবর
ধুর শালা
ধুর শালা কস কী? সোনাগুলো ধাতু হলে বল্ তোর লস কী? রেমিটেন্স লুট হলে একাউন্ট খালি হলে রডগুলো বাঁশ হলে বল্ তোর লস কী? ধুর শালা কস কী? দেশ ছারখার হলে বল্ তোর লস কী? ব্যাংকঋণ ফ্রি পেলে দেশ লুটপাট হলে কিছু গুম-খুন হলে বল্ তোর লস কী? ধুর শালা কস কী? ঘুষখোর ঘুষ খেলে বল্ তোর লস কী? চোরগুলো বীর হলে বিড়ালরা শের হলে দেশটাই জলে গেলে বল্ তোর লস কী? জনতার লস নাই, যদি পারো অনায়েসে— গিলে ফেলো দেশটাই!
সস্তা
দাম বাড়ে নি, মান কমেছে জিনিসপত্র, টাকার সবচে বেশি দাম কমেছে এখন যারা বেকার সময় এখন সস্তা অনেক ট্রাফিক জ্যামে বুঝি মধ্য আয়ের দেশে এখন মাগনা বিবেক খুঁজি সস্তামানের লেখা এখন পাঠ্য বইয়ের পাতায় সস্তামানের শিক্ষা এখন এ প্লাস পাওয়া খাতায় ক্রসফায়ারে রাত আঁধারে জীবন অনেক সস্তা তাই তো মেলে ডোবা-নালায় মানুষ-পচা বস্তা কোনো কিছুর দাম বাড়ে নি বলছে নিত্যপণ্য আমলা বণিক বুদ্ধিজীবীর হীরকরাজা ধন্য
উনুন থেকে চুলায়
মানুষ ভয়ে জঙ্গলে আর জন্তু ভয়ে নালায় কুমির ভয়ে ডাঙায় উঠে ঊর্ধ্বশ্বাসে পালায় আগুন-ভয়ে নদীতে যাও ঢেউয়ের ভয়ে চরে গুমের ভয়ে পালিয়ে দেখো মৃত্যু মাথার 'পরে কুকুর-ভয়ে পালাও গাছে সাপের ভয়ে টিলায় বিজলি-ভয়ে পালাও ঘরে পুলিশ-ভয়ে জলায় শঙ্কা-ত্রাসে অজানা ভয়ে ঢেকেছে সব ধুলায় তাই কি সবাই ঝাঁপ দিচ্ছে উনুন থেকে চুলায়
ভয়ে আছে ভিটামিন
ভয় দেখালে ভয় পাই ভয়টা তখন গিলে খাই খাওয়ার পরে দেখি আমি ভীষণ ভীষণ তাজা রোজ সকালে তাই তো খাচ্ছি তেলছাড়া ভয় ভাজা পুলিশ দেখলে ভয়টা পাই মামলা দেখলে ভয়টা পাই লাঠিসোটা হাতুড়ি বাটাল দেখলেই লাগে ভয় জেলে যাওয়ার ভয়টা খেতে ভীষণ ইচ্ছে হয় ভয়ের ভেতর আছে অনেক ভিটামিন খালি পেটে তিনবেলা ভয় খেয়ে নিন
লাল পাছা
ঘর ভরেছে ছারপোকা আর বিচ্ছুতে মারছে কামড় দিনদুপুরে পুচ্ছতে আমজনতার সবার যে তাই লাল পাছা পালাচ্ছে সব, তুইও পালা ‘মার কাছা’ লাল পিঁপড়া সদলবলে ঘুরছে তাই ছারপোকা আর বিচ্ছুরা তার আপন ভাই তিড়িং বিড়িং লাফাচ্ছে কী যন্ত্রণায় ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটছে সবাই কী উপায় অফিসপাড়া আইন-আদালত বেদখল ছারপোকা আর বিচ্ছুার দল পাতলো কল্ বিষাক্ত সব সাপগুলো দেখ্ দল পাকায় এমন দেশে কোন্ পাগলে থাকতে চায়
মশাহত্যা
তিনটা মশা মরছে দিনে বাসচাপায় তিনশ মশা দিনদুপুরে দেশ কাঁপায় তিনশ তিনটা বুদ্ধিজীবী ভাবছে তাই এমন দেশে কেমন জাতের মন্ত্রী চাই তিনশ তিনটা যুক্তিবাদী টকশোতে তিনশ তিনটা যুক্তি দিল মাঝরাতে তিন-পুরুষে যাদের কোনো লজ্জা নাই এমন দেশে তেমন জাতের মন্ত্রী চাই তিনশ ত্রিশটা চেয়ার ভরা পার্লামেন্ট তিনশ ত্রিশটা বিশ্ববেহায়া সেন্টিমেন্ট তিনশ ঘণ্টা ডিবেট শেষে বুঝল তাই সংবিধানে মশা মারার বিচার নাই
চুপ থাকা শয়তান
চুপ থাকা শয়তানে ভরে গেছে চারপাশ দুইমুখা সাপ এরা, করে না যে ফোঁসফাঁস ঝোপ বুঝে কোপ মারে, চামে খেয়ে যায় ক্ষীর অনুকূল পরিবেশে গলা উঁচু, মহাবীর চুপ থেকে করে এরা সুযোগের সন্ধান ভাব ধরে নিরীহের রাখে খাড়া দুই কান ডিগবাজি খেতে এরা কী যে মহা-ওস্তাদ সাধু সেজে বসে থাকে পেতে রাখে মহাফাঁদ কাছে এলে তেলবাজি চামচামি পটু খুব প্রতিকূল পরিবেশে দেয় এরা আগে ডুব চুপ থাকা শয়তানে ভরে গেছে দেশটা সাবধান, চিনে রাখো শয়তানি বেশটা
জয় হনুমান
খাঁচার ভেতর বাঘ মামাটা ভাবছে বসে কী উপায় সিংহ নাকি তিন বেলাতেই হরিণছানা আস্ত খায় তার পেটে তো এক বেলাও খাবার মোটেই জুটছে না খাঁচার ভেতর বন্দি থাকায় কিছুই করতে পারছে না হঠাৎ শোনে বনের ভেতর হনুমানের হাঁক আওয়াজ বনের ভেতর সিংহ-বাঘের ভাংতে হবে সব রেওয়াজ বানর বলে, ঠিক বলেছ, জয় হনুমান তোমার জয় শিয়াল বলে, হুক্কা হুয়া, আর আমাদের কিসের ভয় বাঘের কাছে বার্তা পাঠায় আধা পাগল গাধার দল ছাড়িয়ে নিতে আমরা তোমায় পাতবো এবার নতুন কল শর্ত মেনে চলতে হবে হনুমানজি যেমনে কয় সকাল-বিকাল বলতে হবে জয় হনুমান তোমার জয় বনের ভেতর লঙ্কাকাণ্ড চলছে চলুক বিষয় না সিংহটাকে তবুও একা হরিণ খেতে দেবেই না খাঁচার ভেতর বাঘ মামাটা ভাবছে এখন করবে কী! সিংহটাকে করতে ঘায়েল ‘জয় হনুমান’ বলবে কী? হনুমানের লেজের আগুন ফুসফুসিয়ে নাচছে ওই বলছে, সিংহ হারামজাদা আয় বেরিয়ে, পালালি কই বনের ভেতর আগুন-ভয়ে কাঁপছে পশুপাখির দল বনের ভেতর আসলো এবার ‘জয় হনুমান’ নতুন দল