মোক্তার হোসেনের ৫টি ছড়া

আস্তে কও 

পানির ভিতর জল ঢুকেছে? মাইন্যা লও
ঘর-বাড়ি-গ্রাম সব ডুবেছে? মাইন্যা লও 
হালের বলদ কাটছে সাঁতার? মাইন্যা লও 
দাদার বাড়ির গেট খুলেছে? 
                                          —আস্তে কও 

মফিজ মিয়ার ধান ভেসেছে? মাইন্যা লও 
পানির ঠেলায় বাঁধ ভেঙেছে? মাইন্যা লও 
চিপায় পড়ে চলছে জীবন? মাইন্যা লও 
কাঁটাতারে ঝুলছে মানুষ?
                                          —আস্তে কও 

ট্রনজিট দেয় মাশুল ছাড়া? মাইন্যা লও 
রোহিঙ্গারও খাইছ তাড়া? মাইন্যা লও 
এনসিটিতে ফাঁইস্যা গেছ? মাইন্যা লও 
বন্দরেতে দাদার দাপট?
                                          —আস্তে কও 

ঘরের ইঁদুর ধান খেয়েছে? মাইন্যা লও 
সিস্টেমে দেশ লুট হয়েছে? মাইন্যা লও
রাত-আঁধারে ভোট হয়েছে? মাইন্যা লও 
এমন সময় জ্ঞানের কথা?
                                          —আস্তে কও

 

খাইয়া দিছে

রাজনীতিটা খাইয়া দিছে
ধান্দাবাজ আর খচ্চরে
সোনার বাংলা ভইরা গেছে
আউল-ফাউল-জোচ্চোরে

উইড়্যা আসে ছোঁ দিয়ে খায়
নায়ক-গায়ক-নর্তকী
অবুঝ মনে শুধুই জিগায়
রাজনীতিটার শর্ত কী?

দেশটা এখন সবার কাছে
চুইষা খাওয়া লেমনচুশ
লুটতরাজের টিকেট নিতে
আমলা-প্লেয়ার হারায় হুঁশ 

কামলা খাটে কৃষক মজুর
বর্গীরা খায় ফসল তার
মফিজ পাগল লাফ দিয়া কয়
এই দেশটা কইবা কার?

কেউ লুটে খায় খাবলা মেরে
কেউ লুটে খায় সিস্টেমে
কেউ লুটে খায় ভাগযোগেতে
শিক্ষিতরা টিস্টেমে

যখন তখন খুলছে দোকান
যে যেভাবে সুযোগ পায়
রিজার্ভ ডলার পয়সা কড়ি
বেগম পাড়ায় উষ্টা খায়

বাঁশবাগানে গিট্টু গুনে
আমজনতার মামদু ভুত
ইস্ট পাড়াতে অংক কষে
ওয়েস্ট পাড়ার রাষ্ট্রদূত

 

খান না শুধু চিনি

অফিস পাড়ার তিনি
তিনবেলাতেই ঘুষ খেয়ে যান
                 খান না শুধু চিনি

তিনার নাকি সুগার লেভেল হাই
রুটিন করে মাস না যেতেই
                  বিলেত যাওয়া চাই

বিলেত যাবেন তিনি
এয়ার টিকিট, হোটেল-মোটেল
                 ফ্রি পেয়ে যান শুনি

অফিস পাড়ার তিনি
সুগার ছাড়াই ঘুষ খেয়ে যান
                খান না শুধু চিনি

তিনার মিসেস অনেক অনেক চুজি
গয়না কিনেন দুবাই গিয়ে
                    তিনশ দোকান খুঁজি

অফিস পাড়ার তিনি
ঘুষ খেয়ে যান, দেশ খেয়ে যান
                    খান না শুধু চিনি

 

তলে তলে 

সব ঘটে যায় তলে তলে
কেউ মজা পায়, কারো জ্বলে

কারো আরাম পিটার হাসে
কারো ব্যারাম চিকন বাঁশে
স্যাংশানেতে টাস্কি খাইয়া
কেউবা দেখি হুদাই হাসে
অটোক্রেসি-ডেমোক্রেসি
কোন চিপাতে ফাঁইসা গেসি
গলার আওয়াজ চরম-নরম
আবার দেখি বেজায় গরম
হরিণ-বিড়াল-সিংহ-বাঘের
জেল হয়ে যায় ছলে-বলে
কেউ মজা পায়, কারো জ্বলে

দাদার কিংবা আদার বিষয়
পেঁয়াজ কিংবা কাঁদার বিষয়
শি জিনপিং, নাতিন পুতিন
জো বাইডেন মন্টু মতিন
টং দোকানের টক-শোগুলা
আদা রসুন গাজর মুলা
আইন-আদালত মিটিং মিছিল
জ্বালাও পোড়াও, পুলিশ পাচিল
সাইজ হয়ে যায় ছলে-বলে
কেউ মজা পায়, কারো জ্বলে

টম ক্রুজ কি ট্রুডোর বিয়য়
ডাংগুলি হা-ডুডুর বিষয়
রিজার্ভ কিংবা লুটের বিষয়
ভোটের কিংবা জোটের বিষয়
হিরোর বিষয় জিরোর বিষয়
উন্নয়নের ফেরির বিষয়
মেগা-গিগা প্ল্যানের বিষয়
ব্রিকস কিংবা ইটের বিষয়
লাইন হয়ে যায় তলে তলে
কেউ মজা পায়, কারো জ্বলে

 

পলিটিক্সের গুণ

নির্বিচারে খুন
পলিটিক্সের গুণ
এমন গুণে কাইন্দালাইচে পেঁয়াজ পটল নুন

কাউয়া কাকু কা কা করে, মির্জা কাকু হালুম
কোন দিকে কি হান্দাইয়া যায় হইতাছে না মালুম

অবরোধে খুন
হরতালেও খুন
আমজনতা বুইজ্যালাইছে পলিটিক্সের গুণ

পজিশান তো ইনোসেন্টই, অপোজিশনও সেম
কোন হালা যে মানুষ মারার খেলতাছে এ গেম

পেট্রোলেও জ্বলে
শান্তিতেও জ্বলে
আমজনতা কট খাইয়াছে পলিটিক্সের কলে

ডেমোক্রেজি অটোক্রেজির ইঁদুর-বিড়াল খেলা
ক্রেজির গুষ্টি মাঞ্জা মারে আমরা বুঝি ঠেলা

মোক্তার হোসেন

মোক্তার হোসেন

জন্ম ৬ এপ্রিল ১৯৮২, লক্ষ্মীপুর। স্নাতকোত্তর, মৎস্যবিদ্যা, ঢাকা কলেজ। পেশা :...বিস্তারিত