রুবাইয়াৎ : পর্ব-১

২১. ফিরে তাকাও। আমি আর আমার জেগেছে ভুল প্রেমের সময় কেউ কি গুছিয়ে রাখে তার চুল, সমস্ত রাত্রি জুড়ে শনৈ শনৈ হলো একি হাল! আমি তো রাস্তায়—কাঁদতে কাঁদতে হাসছি তুমুল। ২২. কে আমার নীরবতা! বলো, কে সেই তুমি? যেন এই অক্ষর জ্ঞান চির কল্পনার প্রসূতি, বাতাস কেন আসে-যায়, ভাবি নানা দিক— আমার নখ নির্ণয় থামবে না কোনোদিনই। ২৩. মৃত্যু আবার কি! লোকে বলে, এটা কেমন? আমার কি হয়েছে বুঝতেই পারছি না এখন! কে এই নেশা, মগজে দুলাচ্ছে হাওয়ার ভূত ওই যে ফুল—পাপড়ি ছেড়ে যাচ্ছে নিরাভরণ। ২৪. এসো ঘুমিয়ে পরি আজ হাড়ের দরজা খুলে— মাংসের টুকরোগুলো না হয় খেল শৃগালে, সে-বনের পাতায় পাতায় বাজল গোপন খুন— তবু চাঁদ এসে আছড়ে পরল পৃথিবীর গালে। ২৫. তুমি এসো আমার এই জ্ঞান থাকতে থাকতে— নষ্ট করো না মুখের রেখা অযথা আয়নাতে, বলি শোন, পাগলের থাকে কোটি কোটি হাত কোনটা যে কোথায় কখন যাবে নরক ছুঁতে! ২৬. আমি কি দেখেছি, এই রাত্রি জুড়ে আকাশ— যেন এক টাট্টুতুমি হৃদয়ের হা-হুতাশ হাওয়ার কথা শুনছি আমি ধীর কানে— প্রেমের গুঞ্জন! আগুনে বসে ওরা ভাবছে অবকাশ। ২৭. ডাকুক, ওরা আমাকে ডাকুক—যে কোনো ভাবে আমি যাব বলেই ভাবছি! শয়তান আমার কাঁধে তুমি সেই গভীর সোনা, আমার হারানো জ্ঞান— তোমাকে ছুঁয়েই যেন আমি পরেছি ভীষণ অভাবে। ২৮. ধরা দাও, ধরা দাও—আমি পতঙ্গ হই পালিয়ে যেও না তুমি ফুলের পাতানো সই! বসন্ত খুবই ছোট্ট। এই ঘর আমার কাচ— ভেঙে গেলেই অন্য আমি, পাতালে ঘুমিয়ে রই। ২৯. যদিও ঘুমিয়ে যাবে আজ এই শেষ রাতে— কে ওখানে? ফেরেস্তা আমার, তোমার মাথার পাশে শোনো, শরীরের আর কোনো বাঁধা নাই আজ— চলো, দৌড়ে পালাই এই নচ্ছার পৃথিবী থেকে। ৩০. কাঁদব না, আমি পাথর—পাগল হিম কুয়াশা আগুন বলে ভাবে লোকে এ কেমন নেশা! ছুটছি বার বার ভাঙতে তোমার লোহার দ্বার— ওখানে তুমি ছাড়া আমার এতটুকু নাই আশা।
রুবাইয়াৎ : শেষ পর্ব
 
সারাজাত সৌম

সারাজাত সৌম

জন্ম ২৫ এপ্রিল ১৯৮৪, ময়মনসিংহ। পেশা : চাকুরি। প্রকাশিত বই : একাই হাঁটছি পাগল...বিস্তারিত