ক্রমশ কালিমায় ঢাকা মুখ—
সময়, আমাকে ছেড়ে দাও
তোমার ধুলো-বালি আর বাতাসে
যেন আমি পালকহীন ছোট্ট পাখির ছানা—
মাথা তুলতে গিয়েও
যে বারবার নুয়ে আসে
নিজেরেই ছায়ার কাছে!
এ কেমন গভীর অঞ্চল?
আমি কোথায় উড়ে যাব—
আমি কোথায় একা হব—
আমি কোথায় কি হারাব—
দিনে-রাতে দীর্ঘ হওয়া এই শরীর—
আমি কোথায় লুকাব,
আলো কেটে কেটে—
সাজাব অমরতার বাগান!
বলো, কেইবা আর বলবে—
যে, বাড়িগুলো অঙ্ক শেখাচ্ছে—
মানুষের সাথে—
মানুষের সকল দূরালাপ
পাখিগুলোর সাথে পাখির মৃদুভাষা—
কিচিরিমিচির দূরদেশ
এই ভ্রমণ—
যেন মাটি থেকে মাটির এক আদলা
ছুড়ে মারা হলো—
নদী আর সমুদ্রের গর্ভে...
তারপর সে তরঙ্গ বেয়ে আরও বহুদূর—
ছুটে ছুটে যায় অভ্যাস
এবং নিয়ত ভ্রমণে
আমি ভ্রমি—চারপাশ, গৃহপালিত
যা আছে সকলের মুখের উপরে—
কখনওবা কোলাজ
কলিজার ভেতরে!
ধপধপ তাদেরই আসা-যাওয়া—
ফুটে ওঠা ফুল
কিংবা ফোসকা পড়া—
তোমার আমার আরবি খাতা
ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে বসন্ত—
কালো কোকিলের হরফ
না জানি তার কী ভাষা!
কী মায়া—কী লুণ্ঠিত ব্যাকরণ—
বোঝা যায় না। অথচ এই বেলা—
রহস্যে মুড়িয়ে থাকা তুমি
ছুটবে এবং ছুটবে দশদিক!
উন্মাদিনী, দ্যাখো এই আমি—
এক বেহালাবাদক
আমার হাতের তালুতে বন্দি—
দুটি পাথরের পাখি
তারা কালো যাদু—
তারা কালো ভাষা—
তারা কালো আকাশ—
প্রসারিত এক ডানা—
বলো, কে কার ছায়ায় বাঁচে?
কে দূরে মিলিয়ে যায় হঠাৎ—
তার কোনো কিছুই না বুঝে।
এই আমার ব্যথা—
এই আমার দেখা—
এই আমার অদেখা—
অন্য কোথাও—অন্য কোনোভাবে
যদি গৃহে শীত আসে—
যদি আসে বসন্ত
হৃদয়ের বাচ্চাগুলো যেন কচিপাতা—
ভীষণ উড়াউড়ি খেলে—
আকাশে-বাতাসে।
তবু দ্বিধার চোখ—
বলে, কে আমি?
কী আশ্চর্য!
এই ঘূর্ণন, কুণ্ডুলী পাঁকিয়েছে—
গৌরবর্ণ এক ফুল।
আমার মাথার ভেতরে—
কাঁটা ও কণ্টক—
কে বুনে দিয়েছিল কবে
কোন ঋতুতে—
কোন আঁধারে—
কোন আলোতে—
আমি তো তাকে দেখি নি!
অথবা পথে-প্রান্তরে—
তার কোনো মুখশ্রী
তুমি যেভাবে সুন্দর—
তাকিয়ে এক লহমায় ডুবে যাও
যে কোনো রাস্তার শেষে
আমাকে দেখেও—
না দেখার ভান করে।
সে কি তুমি! পাগলের প্রপস—
খুব ভোরবেলা, কুয়াশাকণা
রক্তিম ফুলে চুমু খেয়ে ফিরলে
এমন মানুষের ভিড়ে!
ভাবি, কে বেশি লাল হলো—
সূর্যের অধিক—
এই গ্রহে, নিগ্রহে
ভিজলো কার কপাল—
দূরে, হে পর্জন্য—
কালো বাঁশি—
আমি সাত-রাস্তার মাথায়
নিজের ঠিকানা ভুলে
যেন নিজেই হাসি।
কখনোবা পাখির অনুকরণে—
তীব্র বাতাসে—
ডানা ভেঙে যে কুঁকড়ে গেছে
গভীর বনে—
কিংবা সে পাথর
জীবাশ্ম এক পর্যটকের।
মনে হয় টুপিপরা বান্দা—
তিনি খোশনবিসও বটে
লিখেছেন পাতার শিরায় শিরায়—
এবং ডালে।
যেখানে হাওয়া এসে—
দোল খেয়ে আবার ফিরে যায় সুদূরে
ফেলে রাখা আবীর, আংরাখা—বাজু—
নাকছাবি তার কুলঙ্গিতে
গোপনে, লুকানো হাসির মতো—
যারা চলে গেছে নিঃশব্দে—
এই শীতে...
তারা কি ফুলের চিরআভা—
সৌদামিনী, জটাচুলের নারী!
দূর বেদেনী, তোমার খোলা যাদু—
কালো চোখ—স্ফীত নাক
বাঁকা ডালের মতো ভ্রু—
ভেঙে পড়ে চৌচির চারদিক।
এখন তাকে বুকে নেব না পিঠে—
এ কেমন ভার—
ভাবি, তোমার সঙ্গ—
হাজার বছরের বেদনার চেয়েও—
গাঢ় এক বিষ
আমার শিরা-উপশিরায় ঢুকে
রোজ গল্প করে—
বলে, তোরা ভালো থাকিস।