বাংলাদেশের নাট্যচর্চায় গণহত্যা প্রসঙ্গ

বাংলাদেশের নাটকের ঐতিহ্য হাজার বছরের পুরনো। নানাভাবে নানা রূপে নানা প্রতিকূলতায় হাজার বছরের নাট্য-সংস্কৃতির প্রবহমানতা বিদ্যমান। দীর্ঘদিনের ব্রিটিশ উপনিবেশ শাসনে নাটকের ইতিহাস বিশ্রুত হলেও আধিপত্যবাদী পাকিস্তানি শাসনও নাট্যচর্চাকে করেছে বিমুখ। ১৯৭১ সালে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন ভূখণ্ড হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে শিল্প-সাহিত্যের ধারায় নাট্যকলা মাধ্যমটিই সবচেয়ে বেশি বিকশিত হয়েছে। দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা পাঠক্রমে অনার্স-মাস্টার্স ডিগ্রি প্রদান করছে। এমফিল, পিএইচডি এমনকি আরো উচ্চতর গবেষণা নিরন্তর চলছে। সারাবিশ্বের নাট্যচর্চার তুলনায় বাংলাদেশ প্রযুক্তিক্ষীণতা ও অপেশাদারিতার মধ্যে থাকলেও নাট্যবিষয়, উপস্থাপন কৌশল, আলো, পোশাক ইত্যাদি নানা উপকরণে পিছিয়ে নেই। হাজার বছরের ঐতিহ্যের ধারায় দেশীয় রীতির নাট্যচর্চা এখন আন্তর্জাতিক শিল্পপরিমণ্ডলে স্বপরিচয়ে উজ্জ্বল। মুক্তিযুদ্ধই বাংলাদেশের নাট্যচর্চাকে নতুন প্রাণ দিয়েছে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে কলকাতাকেন্দ্রিক গ্রুপ থিয়েটারচর্চা দ্বারা প্রভাবিত হলেও নাটকে ভর করেছে বাংলাদেশের সামাজিক রাজনীতি-অবক্ষয়; উদ্ভাসিত হয়েছে নানা নিরীক্ষায়। নানাভাবে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে মুক্তিযুদ্ধের বাস্তবতা মূর্ত হয়ে উঠেছে মঞ্চের দৃশ্যে। সে-প্রসঙ্গ ধরেই বাংলাদেশের নাটকে মূর্ত হয়ে উঠেছে পাকিস্তানি পিশাচদের দ্বারা সংগঠিত গণহত্যা। মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যার পাশাপাশি পৃথিবীর তাবৎ গণহত্যাগুলোও বাংলাদেশের নাট্যচর্চায় ধীরে ধীরে স্থান পেতে থাকে। আমরা এ আলোচনায় সমকালের নাট্যচর্চায় গণহত্যা প্রসঙ্গ এবং কিভাবে গণহত্যাগুলো নাটকে প্রতিফলিত হয়েছে তা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় ব্যাপ্ত থাকব। সমকালের নির্বাচিত কিছু সংখ্যক নাটককে কেন্দ্র করে গণহত্যার স্বরূপ অনুসন্ধান-ই এ লেখাটির অভীষ্ট।


মূলত ‘কবর’ নাটকটিই স্বাধীনতা আন্দোলনের মূল কাঠামো দাঁড় করিয়ে দেয়।


গণহত্যা পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাদময় ঘটনা। মানব জাতির সবচেয়ে কলঙ্কময় অধ্যায়। গণহত্যাকে ইংরেজি প্রতিশব্দ হিসেবে Genocide শব্দটি ব্যবহার করে থাকে। ইংরেজি শাব্দিক ব্যাখ্যা অনুসারে কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বা কোনো অংশে একযোগে বা অল্পসময়ে উল্লেখযোগ্য মানুষকে হত্যা করা বুঝায়। বাংলা শাব্দিক প্রতিশব্দ হিসেবেও অনাকাঙ্ক্ষিত বা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে অল্পসময় গণমানুষ বা অধিকসংখ্যক মানুষ হত্যা করাকে বুঝায়। গণহত্যা সাধারণত এক বা একাধিক মানুষ কোনো নির্দিষ্ট স্থানে বা সময়ে অধিকসংখ্যক মানুষকে মেরে ফেলা বুঝায়। মানুষ-সভ্যতার শুরু থেকেই গণহত্যা একটি বিধ্বংসীরূপ হিসেবে সমাজে বিচরিত। সুমেরু সভ্যতা থেকে নগরসভ্যতা মিশরীয় সভ্যতায়ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে গণহত্যার তথ্য পাওয়া যায়। প্রাচীন ভারতীয় মৌর্য সভ্যতার গণহত্যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। প্রাচীন গ্রিস কিংবা রোমানীয় সাম্রাজ্যেও গণহত্যা একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। যুগে যুগে কালে কালে গণহত্যা মানুষের জীবন বিপন্নের ভয়ংকর সত্যকেই তুলে ধরে। ইতিহাসে ইহুদিদের গণহত্যার সময় থেকে Genocide শব্দটির ব্যবহার দেখা যায়। পৃথিবীর নানা গণহত্যার মধ্যে অধিক উল্লেখযোগ্য আসেরিয়ান গণহত্যা, আর্মেনীয় গণহত্যা, বাংলাদেশের গণহত্যা, বসনীয় গণহত্যা, উগান্ডার গণহত্যা, কম্বোডীয় গণহত্যা, গুয়াতেমালান গণহত্যা, কুর্দীয় গণহত্যা, মিয়ানমারের গণহত্যা ইত্যাদিসহ ইতিহাসস্বীকৃত নয় এমন নানা গণহত্যার তথ্য পাওয়া যায়। যুগে যুগে প্রতিটি যুদ্ধ কিংবা সামাজিক আন্দোলনের পিছনে গণহত্যা একটি অতিপরিচিত বিষয়।

বাংলাদেশের নাট্যচর্চা নানা নিরীক্ষা ও নানা দিকে বহমান থাকলেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নাট্যচর্চাকে করেছে স্বমহিমায় আসীন। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সৈয়দ শামসুল হক, মমতাজ উদদীন আহমেদ, নীলিমা ইব্রাহিম, আলাউদ্দীন আল আজাদ, আবদুল্লাহ আল মামুন, মুহম্মদ এহসানুল্লাহ, রনেশ দাশগুপ্ত প্রমুখ নাটক রচনা করেছেন। তাছাড়াও সেলিম আল দীন, আল মুনসুর, মামুনুর রশীদ, ড. এনামূল হক, নাসিরউদ্দীন ইউসুফ, মান্নান হীরা, ববিউল আলম, এসএম সোলায়মান, শওকত খান, মলয় ভৌমিক প্রমুখ জনের নাটকে প্রচ্ছন্নভাবে কিংবা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ প্রতিফলিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এসব নাটকে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট, মুক্তিযুদ্ধের স্বরূপ, গণহত্যা, বুদ্ধিজীবী হত্যার ভয়াবহতা বা বীভৎসতার স্বরূপ প্রভৃতি নানা প্রসঙ্গ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপিত হয়েছে।

নাট্যজন আতাউর রহমান বলেন, ‘স্বাধীনতার বহু আগ থেকেই নাটকের মাধ্যমে আমরা জনগণকে সচেতন করার চেষ্টা করতাম। সরাসরি স্বাধীনতার কথা না বলে আমরা স্বাধীকারের কথাটা সরাসরি বলতাম। তখন সারা দেশের কলেজগুলোতে নাটক হতো। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক করতাম। মুক্তিযুদ্ধকালীন কলকাতার শরণার্থী শিবিরে মামুনুর রশিদ ‘পশ্চিমের সিঁড়ি’ নাটকটি করেছিলেন। ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র জন্মশতবর্ষে যখন পাকিস্তানিরা রবীন্দ্রনাথকে নিষিদ্ধ করে তখন থেকেই সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে ঝলসে উঠি। মূলত ‘কবর’ নাটকটিই স্বাধীনতা আন্দোলনের মূল কাঠামো দাঁড় করিয়ে দেয়।’

গ্রুপ থিয়েটার চর্চায় গণহত্যা নানাভাবে এসেছে। মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যা থেকে শুরু করে সম্রাট অশোকের সময়কালীন গণহত্যা থেকে শুরু করে হিরোশিমা-নাগাসাকির গণহত্যা, কাশ্মিরের গণহত্যা হয়ে পৃথিবীর প্রায় তাবৎ গণহত্যাগুলোই প্রতিফলিত হয়েছে মঞ্চনাটকে। মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যা নিয়ে ‘কথা ৭১’ নাটকটি নাট্যাঙ্গনে অত্যন্ত আলোচিত, সাথে নানাভাবে বিতর্কিত। তরুণ নাট্যকার ও নাট্য নির্দেশক দেবাশীষ ঘোষের নির্দেশিত ঢাকা পদাতিক প্রযোজিত ‘কথা ৭১’। মুক্তিযুদ্ধের নির্মম বাস্তবতা এ নাটকের পরতে পরতে উপস্থাপিত। ‘কথা৭১’ নাটকে দেখানো হয়েছে অপারেশন সার্চলাইটের নামে বাঙালি গণহত্যা, ঢাকার জগন্নাথ হল, নিম্নবর্গদের হত্যা, বুদ্ধিজীবী হত্যা, ধর্মান্তরের প্রতিবাদ করায় মুসজিদে খুন, ধর্ষণ, লুটতরাজ, প্রভৃতির অবস্থা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের গণহত্যায় প্রকৌশলী অধ্যাপক নূরুউল্লার নিজের ভিডিও ক্যামেরা ধারণ করা তথ্যই ছিল এ নাটকের মূল উপজীব্য। নাটকে ফুটে উঠেছে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন অসাম্প্রদায়িক সমাজ-রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্নকে পাকিস্তানি বাহিনী নস্যাৎ করতে কিভাবে গণহত্যা চালিয়েছিল।

হিরোশিমা-নাগাসাকির ভয়াবহ মানব হত্যাকে অনেকে গণহত্যা মনে না করলেও নাট্যকার বাদল সরকার তার নাটকে এমনভাবে তুলে ধরেছেন তা গণহত্যা হিসিবেই চিহ্নিত। ত্রিংশ শতাব্দীতে বিচারের নামে যুদ্ধের ফলে যে ভয়াবহতা, গণহত্যা কিভাবে মানব জাতিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায় তা তুলে ধরেছেন নাটকে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ নাটকটি প্রথম প্রযোজনা করে। তারপর ফরিদপুর থিয়েটার এবং পরে স্বপ্নদল নাটকটি প্রযোজনা করে। স্বপ্নদলের ‘ত্রিংশশতাব্দী’ নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন জাহিদ রিপন। প্রতিটি বছর তারা ৬ আগস্ট হিরোশিমা দিবসে বিশেষ অনুষ্ঠান করে থাকে। মাইম নাট্যক্রিয়াতেও জাপানের হিরোশিমা-নাগাসাকির গণহত্যা প্রসঙ্গ এসেছে।

পালাকার প্রযোজনা ‘নারীগণ’। সৈয়দ শামসুল হক রচিত এ নাটকে নির্দেশনা দিয়েছেন আতাউর রহমান। পলাশী যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলা পতনের রাতে নবাবের মহলে কী ঘটেছিল এ নাটকে তা ফুটে উঠেছে। গণহত্যা, নারী ধর্ষণ যেন মীর জাফর আলী খান পক্ষের অনবদ্য উল্লাসে পরিণত হয়েছিল। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে যে গণহত্যা, নারী ধর্ষণ ও নারীদের প্রতি তীব্র বর্বরতা তা ফুটে উঠেছে প্রাঙ্গণেমোর নাট্যদলের ‘কনডেম সেল’ নাটকে। অনন্ত হীরা নির্দেশিত এ নাটকে বুদ্ধিজীবী গণহত্যা আলাদা শিল্পরূপ পায়।


গণহত্যা নিয়ে বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনে অন্যতম নাটক ‘নিমজ্জন’। 


ভারতের কাশ্মিরের গণহত্যার বীভৎসতা নিয়ে অনবদ্য নাটক ‘রিজওয়ান’। নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন সৈয়দ জামিল আহমেদ। সৈয়দ জামিল আহমেদ ‘রিজওয়ান’ নাটকটির কাহিনিসূত্র গ্রহণ করেছেন উর্দু কবি আগা শহীদ আলীর কাব্যগ্রন্থ The Country Without a Post Office অবলম্বনে ভারতের অভিষেক মজুমদারের রচনা থেকে। আগা শহীদ আলী [১৯৪৯-২০০১ কাশ্মিরি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী কবি। তার কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত The Country Without a Post Office অন্যতম। প্রথমে নাম ছিল Kashmir without a Post Office যে কাব্যটি দ্বারা সালমান রুশদী পর্যন্ত প্রভাবিত হয়েছিলেন। এ গ্রন্থে প্রায় ২০টির অধিক কবিতা আছে। এ কাব্যগ্রন্থের নামকবিতা ‘The Country Without a Post Office’। এ কাব্যগ্রন্থে ১৯৯০ সালে পৃথিবীর মানুষের অজানা কাশ্মিরের গণহত্যার বীভৎসতার অনুভূতি তুলে ধরেছেন কবি। কবিতাগুলো ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে রচিত। কবি বিভিন্ন কবিতায় উপস্থাপন করেছেন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন কাশ্মিরি জীবন-বিধ্বস্ততাকে। এ গ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা ‘I See Kashmir from New Delhi at Midnight’ এতে রিজওয়ানের নামটি ওঠে আসে। যখন রিজওয়ানকে সৈনিকরা স্বজন হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করছে। এ কাব্যগ্রন্থের প্রতিটি কবিতাই কবির জন্মভূমি কাশ্মিরকে কেন্দ্র করে। অত্যন্ত সহজ সরলভাবে কাশ্মিরিদের জীবনযন্ত্রণা, গণহত্যা-বিধ্বস্তবতার হৃদয়ছোঁয়া আবেগ পরতে পরতে। সৈয়দ জামিল আহমেদ রিজওয়ান চরিত্রকে কেন্দ্র দেখিয়েছেন কাশ্মিরি গণহত্যার ভয়াবহতাকে।

বিশ্বব্যাপী গণহত্যা ও জীববৈচিত্র্যের বিনাশের বিরুদ্ধে নানা নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। বুয়েটের তরুণ কিছু ছাত্র গণহত্যার প্রতিবাদ করেছে ‘লিভ মি এলোন’ নাটক দিয়ে। নাটকটির নির্দেশনা বাকার বকুল। থিয়েটার আর্ট ইউনিট প্রযোজনা করেছেন ‘সময়ের প্রয়োজনে’। এ নাটকের মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক বর্বরতা ও নৃশংস গণহত্যা এ নাটকের অঙ্গী। বরিশালে শব্দাবলি মুক্তিযুদ্ধের নাটক হিসেবে সম্প্রতি প্রযোজনা করেছে ‘বৈশাখিনী’। এক বীরাঙ্গনার জীবন দুঃখ নিয়ে নাটকের কাহিনি আবর্তিত। সৈয়দ দুলাল নির্দেশিত এ নাটক বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় জেলায় প্রদর্শন করে। দেবাশীষ ঘোষের আরেকটি নাটক ‘পিয়ার চাঁদ’। বীরাঙ্গনা নারীর জীবনগাথা নাটকের পরতে পরতে। সরকারি উন্নয়নমূলক সংগঠনের অর্থায়নে নাটকটি দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শিত হয়। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সিলেটের আলোচিত নাটক ‘জ্যোতিসংহিতা’। নাটকটি রচনা করেছেন রুমা মোদক। নির্দেশনায় সুদীপ চক্রবর্তী। নাটকটি দেশে-বিদেশে অসংখ্যবার মঞ্চায়িত হয়েছে। বাবুল বিশ্বাসের ‘পোড়ামাড়ি’ নাটকটি প্রযোজনা করেছে পদাতিক নাট্যদল। এতে মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যা নানাপ্রতীকে উপস্থাপিত হয়েছে। শূন্যন প্রযোজিত ‘লালজমিন’ নাটকটির রচনা মান্নান হীরা এবং নির্দেশনা সুদীপ চক্রবর্তী। নাটকে একক অভিনয় করেছেন নাট্যশিল্পী মোমেনা চৌধুরী। মুক্তিযুদ্ধকালীন নারীর বীভৎসতা, গণহত্যা এবং বঙ্গবন্ধুর মুক্তি সংগ্রামের ডাক এ নাটকে উঁচু শিল্পমার্গতায় ফুটে উঠেছে। নাটকটি সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সমস্ত বাংলাদেশ ও বিদেশে মঞ্চায়িত হয়েছে। বাংলাদেশের নাটকের ইতিহাসে কোনো একক নাটক এত অধিক মঞ্চায়নের রেকর্ড নাই। এগুলো ছাড়াও হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রবাসী খান শওকত রচনা করেছেন মঞ্চনাটক। তাছাড়াও তরুণ নির্দেশক বরুণের ‘একাত্তরের বধ্যভূমি’ অত্যন্ত আলোচিত।

মহাকাল নাট্য সম্প্রদায় প্রযোজনা করেছে ‘শ্রাবণ ট্র্যাজেডি’। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবার পরিজনদের নিয়ে মানব ইতিহাসের নির্মম হত্যাকাণ্ড-নির্ভর গবেষণালব্ধ নাটক মহাপ্রয়াণের শোক আখ্যান ‘শ্রাবণ ট্র্যাজেডি’। ১৪ আগস্ট, ১৯৯৫ সালে রাতে ঘটে যায় ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বরোচিত ঘটনা। রাত্রির মধ্যদুপুরে ভয়ংকর জাতি-বিনাশী শব্দে খুনী মেজরদের চোয়াল নড়ে ওঠে। খুনী মেজর আর বিভ্রমে ভরা দুষ্কৃতিকারী সেনাগণ হাতিয়ার ও গাড়ি নিয়ে ছুটে চলেছে জাতি-মুক্তির নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি ধানমন্ডির অভিমুখে। তাদের অভিলাষ ইতিহাসের অক্ষর থেকে মুছে দিবে ইতিহাস। শ্রাবণ ট্র্যাজেডি নাটকে ইতিহাসের নানা চরিত্রকে সমকালীন বাস্তবতার নিরিখে প্রতীকীবাদে হাজির করা হয়েছে। সাথে ফুটে ওঠেছে একাত্তরের গণহত্যার ভয়াবহতা।

গণহত্যা নিয়ে বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনে অন্যতম নাটক ‘নিমজ্জন’। সেলিম আল দীন রচিত ঢাকা থিয়েটার প্রযোজিত এ নাটক নির্দেশনা দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা নাসিরউদ্দীন ইউসুফ। ‘নিমজ্জন’ নাটকে বর্ণিত হয়েছে এক আগন্তুকের বন্ধুর কাছে যাত্রা এবং যাত্রাপথে বিচিত্র বিষয়সমূহ অবলোকন এবং বিষয়ের সঙ্গে বিভিন্ন সভ্যতায় গণহত্যার যোগসূত্রতা। ‘নিমজ্জন’ নাটকের কাহিনি বিন্যাস এমন—কাল্পনিক বিশ্ব পরিভ্রমণ শেষে এক আগন্তুক মৃত্যুশয্যায় শায়িত বন্ধুর কাছে আসবে বলে ত্রিনদীর মোহনায় গড়ে ওঠা এক শহরে এসে উপস্থিত হয়। বন্ধুটি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক। রাজনৈতিক মতবাদের জন্য সেই শহরের ব্ল্যাক ডেথ স্কোয়াড অব কারাভাঁর লোকেরা নির্যাতনের পর তার মেরুদণ্ডে পেরেক ঠুকে দিয়েছিল। আগন্তুক প্রতিটি বিষয়ের মধ্যেই যেন অন্যান্য সভ্যতার গণহত্যার ইঙ্গিত দেখতে পান। আগন্তুক ট্রেন থেকে স্টেশনে নেমে একে একে দেখতে পায় এক কুলির ঝুলন্ত লাশ, অদ্ভুতদর্শন এক বৃদ্ধ, স্টিমারে হলোকাস্ট, নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে আসা এক রূপসী নারী—যতবার তাকে কবরে শোয়ানো হয় ততবার সে মৃত্যু থেকে উঠে বসে। আগন্তুক বরফের চাঙড়ের ভেতর একান্নটি শিশুর লাশ, আট কি নয় বছরের গায়িকা এক শিশুকে ধর্ষণের পর তা জিভ কেটে নেয়া, কান্দাহারের মমি, মাদ্রিদের গণহত্যা, চিলির কবি নেরুদার ফিন্দেমুন্দোর শোকগীতি, স্টেডিয়াম গ্যালারিতে প্রায় দেড় দুই হাজার দর্শক ক্ষুর কেটে খুন, ত্রিশ হাজার টন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টিএনটির বিস্ফোরণে ষোলে কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুস্তরে আগুন ধরে যায় শহরটির ক্রম নিমজ্জন দেখতে পায়। কাহিনির শেষ পর্যায়ে এসে সম্ভাবনার ইঙ্গিত করা হয়েছে। ‘নিমজ্জমান শহর* অশান্ত জলরাশি তারই ওপর দিয়ে এই নারী ও শিশুরা কী করে আসে। কিন্তু সম্মুখবাস্তবতায় এ কোনো অবিশ্বাস্য দৃশ্য নয়। ...তোমার সম্মুখে অনন্ত মুক্তির অনিমেষ ছায়াপথ* তোমার দুই হাতেই তো ধরা ওই দূর নীলাভ্রের ছত্রদণ্ড* দুইকানে কালাকালের বিস্তারিত সমুদ্রের উদ্বেলিত আহ্বান* পাঠ করো পাঠ করো অন্ধকারের নিঃশব্দ নিশিলেখা* সেইখানে বোধিদ্রুম* পাঠ করো নতুন কালের গ্রন্থ। চলো মানুষ। চলো* যুগযুগান্তরের দিগন্ত রেখা ভেদ করে বিদ্য মানবলোকে চলো।’


বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি বাংলাদেশের শিল্পচর্চার দায়বদ্ধ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান।


‘নিমজ্জন’ নাট্য রচনার প্রেক্ষিত সম্পর্কে লেখক সেলিম আল দীন বলেছেন, ‘২০০০ সালের মাঝামাঝি একবার চাঁদপুর গিয়েছিলাম। একদিন দুপুর বেলার পর হঠাৎ করে রাস্তায় প্রচণ্ড ঘুর্ণিঝড় হলো। ওই শহরের লোকেরা রাস্তায় বা মাছের আড়তে বলাবলি করত শহরটি শীঘ্রই তলিয়ে যাবে। ওই ধূলিঝড়ের মধ্যেই আমি সঙ্গী উল্লাসকে প্রায় হারিয়ে ফেলি এবং সহসা সুতীক্ষè শরের মতো নিমজ্জনের আভাস আমার বুকে এসে লাগে। সে ভাবনাটাকেই বিশ্বরূপে ন্যাস করতে গিয়ে কেবলই মানব সভ্যতা ও ইতিহাসে রক্তস্রোতের অন্বেষণ।’

‘নিমজ্জন’ নাটকটি সেলিম আল দীনের মহাপ্রজ্ঞাবান আত্মিক বিশ্ব পরিভ্রমণীয় অভিজ্ঞতায় সম্মুখ বাস্তবতার ইঙ্গিত প্রদর্শন। মানব সভ্যতার ইতিহাসে তাবৎ গণহত্যা ও ধ্বংস অবলোকন করে লেখক ভবিষ্যৎ সভ্যতা নিমজ্জিত হবার আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। পরিশেষে এ নিমজ্জিত বিচলিত না হয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এ ‘নিমজ্জন’ ভাবনা বা চেতনা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যথাযথ। গণহত্যার ৩টি দিক এ নাটকের মর্মমূল। এক. গণহত্যার কারণ; মানব সভ্যতার ইতিহাসে পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি গণহত্যার কারণগুলোর মধ্যে একধরনের যোগসূত্রতা রয়েছে। দুই. গণহত্যার প্রক্রিয়া; প্রক্রিয়াগত দিকেও একধরনের মিলবন্ধন লক্ষ করা যায়। উদাহরণস্বরূপ ইনকা সভ্যতায় যে হত্যাযজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের মুক্তযুদ্ধের যে গণহত্যা প্রক্রিয়ার একটি ধরনের সূত্রগত মিল রয়েছে। তিন. গণহত্যার ফলাফল; প্রতিটি গণহত্যার ফলাফলও প্রায় একই ধরনের। গণহত্যাকারীদের কোনো বয়স, কাল, সময়, জাতি নির্দিষ্ট নেই। নিমজ্জন থেকে মানব সভ্যতা বিনষ্টরোধমূলক শিক্ষাই গ্রহণ করতে হয়। এ সম্মুখ বাস্তবতায় ভবিষ্যৎ সভ্যতা নিমজ্জিত হবার ইঙ্গিত ও তার সত্যতা ভবিষ্যৎ মানব সভ্যতাই নির্ধারণ করতে পারবেন।

গণহত্যা কখনও চিরতরে শেষ হয় না তার পুনরাবৃত্তি হয়। বর্তমান পৃথিবীর সর্বত্রই গণহত্যা বিরাজমান। হয়তো আমরা জানতে পারছি হয়তো বা জানি না। বাংলাদেশও এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নয়। পত্রিকা খুললেই দেখা যায়, অমুক ক্রস ফায়ারে মারা গেছে। মৃত ব্যক্তির যে কী প্রেক্ষাপট তা আমরা জানতে পারি না। অথবা এমনও হতে তো পারে অসংখ্য গণহত্যা চলছে আমাদেরই আশেপাশে কিন্তু আমরা তা জানতে পারছি না। ‘নিমজ্জন’ ভাবনা বা ধারণা নিঃসন্দেহে মানব জীবন যাত্রার ইতিবাচক অগ্রগতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশ্বে বর্তমান সময়ে সাম্রাজ্যবাদিতা ও বিশ্বায়নমুখিতায় যে অসহায়ত্ব তা অস্বীকার করার উপায় নেই। সম্মুখ বাস্তবতার ইঙ্গিত যদি উপলব্ধি করা যায় তাহলে জাতীয় জীবনের দুর্যোগ ও ভয়াবহতাগুলোকে এখনই সমূলে বিনষ্ট করে ভবিষ্যতের পৃথিবীকে সুন্দর ও সুশৃৃঙ্খলতার দিকে নিয়ে যাওয়া যাবে।

নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বলেন, ‘২০০৪ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ে দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তথা ধর্মীয় জঙ্গীবাদের উত্থান-উদীচী, ছায়ানট, ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় ভয়াবহ বোমা ও গ্রেনেড হামলা এবং টুইন টাওয়ার আক্রমণ, উগান্ডা, রুয়ান্ডা, কসভো, প্যালেস্টাইন, ইরাক ও আফগানিস্তানে সৃষ্ট রক্তাক্ত অধ্যায়—যা অনেকের মতো আমাকেও সমান বিচলিত করেছে। বিশেষ করে ছায়ানট এবং আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় রাস্তার ’পরে নিহত নিরীহ মানুষের ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন দেহ ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আমার চোখের ক্যানভাসে এক নতুন গোয়ের্নিকার এঁকে দেয়। এই রক্তাক্ত অভিজ্ঞতায় নিজের ভেতর থেকেই নিমজ্জনের অর্থ সাবটেক্সট এবং দৃশ্যরূপের সন্ধান পাওয়া গেল শেষাবধি।’

ঢাকার বাইরে রংপুর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, জামালপুর, গোপালগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, সিলেটসহ নানা অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধকে আশ্রয় করে অসংখ্য নাটক মঞ্চায়িত হয়েছে। মুুক্তযুদ্ধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যাত্রাপালায় মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যা নিয়ে নানা পালা মঞ্চায়িত হয়েছে।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি বাংলাদেশের শিল্পচর্চার দায়বদ্ধ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে শিল্পকলা একাডেমি গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য কিছু কাজ করছে। নাটক রচনা ও নির্মাণ ছাড়াও নৃত্যনাট্য, সংগীত, চলচ্চিত্র ও চিত্রকলায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। শিল্পকলা একাডেমি আয়োজন করেছে ‘মুক্তিযুদ্ধের নাট্যোৎসব’। এতে ঢাকার প্রতিষ্ঠিত দলগুলো যেমন অংশগ্রহণ করে তেমনি ঢাকার বাইরের জেলা শহরের নাট্যদলগুলোও অংশগ্রহণ করে। প্রতিষ্ঠিত নাট্যদলগুলো তাদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক প্রদর্শন করে। এ উৎসবকে ঘিরে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নানা সাহিত্যকর্মের যেমন নাট্যরূপ পায় তেমনি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নতুন নতুন নাটকও রচিত হয়। এতে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটের সাথে ফুটে ওঠে গণহত্যার ভয়াবহতা। টানা এক মাস ধরে প্রায় শতাধিক নাটক মঞ্চস্থ হয়। শিল্পকলা একাডেমি মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যা নিয়ে অনেকগুলো স্থাপনা নাট্য প্রযোজনা করেছে। শিল্পকলা একাডেমির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ হলো ‘মুক্তিযুদ্ধের নাট্যসংকলন’ শিরোনামে দুই খণ্ডের নাট্যগ্রন্থ প্রকাশ করা। প্রথম খণ্ডে তরুণ নাট্যকারদের বিভিন্ন নাটক ও দ্বিতীয় খণ্ডে প্রতিষ্ঠিত নাট্যকারদের নাটক সংকলিত হয়েছে। বৃহৎ পরিসরের এ নাট্য সংকলনের নাটকগুলোতে মুক্তিযুদ্ধকে নানাভাবে দেখার প্রয়াস রয়েছে।


গণহত্যা নিয়ে হাজার হাজার নাটক নির্মিত হোক। মানবতার চেতনায় উদ্ভাসিত নতুন প্রজন্ম।


২০১২ সালে প্রকাশিত এ সংকলনের প্রথম খণ্ডে স্থান পেয়েছে মান্নান হীরার ‘আগুনের ছায়া’, দেবাশীষ ঘোষের ‘প্রহরী’, রুমা মোদকের ‘যুদ্ধ ও জয়িতারা’, মুন্সি মোহাম্মদ আলি রুমির ‘বিজয়ের প্রান্তে’, আকবর রেজার ‘মেঘের স্বীকৃতি’, মাহমুদুল ইসলাম সেলিমের ‘মুখোমুখি’, ড. পরিমল সরকারের ‘বন্ধু নঈমকে খোলা চিঠি’, আনন জামানের ‘বালিকা ও একটি স্বর্ণপশম ভেড়ার নাট্য’, শামীম সাগরের ‘সিংহজানির দুঃখগাথা কিংবা পুনর্জাগরণ পালা’, ‘হাসান তারেকের ‘শিরোমণির ট্যাংকযুদ্ধ, অতঃপর’, মাহবুব লীলেনের ‘মুক্তিকথন’, টিটো রেদওয়ানের ‘আঁ লে হঁ দিশম লে স্বাধীনাকাদা’, কামাল উদ্দিনের ‘শনি’, আল জাবিরের ‘মুক্তির প্রতিভাস’, শামসুল হাদীর ‘সবুজ রক্ত ও এন্টিভাইরাস’।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধের নাট্য সংকলন দ্বিতীয় খণ্ডে স্থান পেয়েছে মামুনুর রশীদের ‘সোয়াত’, প্রদীপ দেওয়ানজীর ‘বধ্যভূমি ফয়’স লেক’, আব্দুল্লাহেল মাহমুদের ‘এক আসমান খোয়াব’, অলোক বসুর ‘পেয়ারা বাগান’, দেবাশীষ ঘোষের ‘ক্ষোভ’, রুমা মোদকের ‘৭১ যুদ্ধ গাথা’, তানভীর আহমেদ সিডনীর ‘ভ্রু তাং তাং’, মাহফুজা হিলালীর ‘অসমাপ্ত’, বাকার বকুলের ‘অতঃপর আমরা’, রুমা মোদকের ‘জ্যোতিসংহিতা’।

গণহত্যার মতো ঘৃণ্যতম ঘটনা যেন ইতিহাসে বারবার ফিরে না আসে। মানব সভ্যতা বিধ্বংসী এ কার্যকলাপ বন্ধ হোক। মানবতা জয়গানে ভরে উঠুক এ বিশ্ব। বাংলাদেশ বিশ্বে আত্মমর্যাদায় অনন্য মানবতার জাতি হিসেবে পরিচিত লাভ করুক। গণহত্যা নিয়ে হাজার হাজার নাটক নির্মিত হোক। মানবতার চেতনায় উদ্ভাসিত নতুন প্রজন্ম।

আবু সাঈদ তুলু

আবু সাঈদ তুলু

জন্ম ১ মার্চ, ১৯৭৯; জামালপুর । তিনি শৈশব থেকেই সাহিত্য-শিল্পের প্রতি অনুরাগী।...বিস্তারিত