হোম
কবিতা
তোমাকে ভেবেছি ব্রেইল বই
তোমাকে ভেবেছি ব্রেইল বই
প্রেম
◘
প্রেম, তোমাকে স্পর্শ করতে চেয়েছি অন্ধের মতন
তোমাকে ভেবেছি ব্রেইল বই
বুঝি নি, স্পর্শ পড়তে গেলে দুজনকেই অন্ধ হতে হয়
জলের কথাবলি
◘
তোমার ঘরেতে যামু এলায়ে-পলায়ে
ঘর হতে বের হ’লে দেখা যাবে—মেঘে
ছড়ায়ে পড়িছে শাদা-শাদা গাঢ় ফেনা—
হাড়ের কাঁপনে খই, চিকুরে বিদ্যুৎ!
কথাগুলো একমনে খেয়ে যাবে স্মৃতি
দূরাভাস জানালায়—চড়াই চড়াই!
রবে কী রবে না ফেরা বাড়ির উঠান
শাড়িতে-হাড়িতে কাদামাখানো বউঠান—
ক্রমশ বিকাল গেছে ব্রিজের কিনারে,
ফুসফুসে নৈঃশব্দ্য তুলে নিছে চৌকি।
ফিসফাসে বধূ ওগো, দিয়াছ কান কি?
এলায়ে-পলায়ে যামু তোমার ঘরেতে—
বিনাশে পাবা না টের নিশুতির খিদা
গর্ভে নয়, রক্তে নয়—শিকারে, স্বীকারে
পুত্র নয়, কন্যা নয়—আরো কিছু বিভা
খিদার সমান আয়ু নিয়ে একদিন
লুকায়ে-চুরায়ে যামু তোমার বাড়িতে...
বঙ্কিম প্রতিমার গান
◘
না লাগে বাঘী ভালো না ধনু খেলা ময়ূর
বিবাহ পেরিয়েছে সব সীতা চতুর দুপুর
এ রোশনি বিবাহিতা নূর তুলে রাখে শিসে
ফাতিহা পড়িতেছে রোদ বসে গমের শিষে
চিকুরে গুঁজি বিদ্যুৎ ঠোঁট টেনে আনে মাথা
চুপ করে কথাবনে চুম ঝড়ে ঝরছে পাতা
ভোরগুলো মাথা ঝুঁকে মক্তবে গাইছে কুরান
বাহিরে পাতার সংসার অদূরে মন্দির পুরাণ
কী জানি কি তরঙ্গ বাজিছে কুয়াজলে
আভাসে কাঁটার হৈচৈ পায়ের ছাপ বরইতলে
মাটিতে আলতা লেগে—রঙ হারা বিহান বেলা
সোনাবউ খুঁজে গেল কোথা তার উতল খেলা
ঘুমঘরে এঁকে দিছে রূপকথা কূপির কালি
কবুলে মাটির মেয়ে যেন আজ ডালিম ফালি
চালুনে উড়ছে মায়ের ধ্যান চিটার দেখাদেখি
উঠানে ভাঙছে তারই আত্মজা ধানের নেকি
মা লেপে দিছেন দেয়াল নকশার ছিদ্র-ভাঙন
বিবাদী রাগে তাকায় বাঙলাখোর ইন্ডি ড্রাগন
মেয়েরা পড়তি বেলায় ধরিতে রোদের ভুল
গুছায়ে অঘ্রাণ আগুন পরিছে মাদুলির দুল
চঞ্চুতে দিতেছে ধার বিবিধ পালক পাখি
কুড়ায়ে আড়াল চুমু পরাণে গেঁথে রাখি
চালুনে শুকায়েছে লেপা গাব মেঘের ধ্বনি
ক্ষেত পাকা হয়ে গেলে নিড়াব অঙ্গ-শনি
দুধেলা স্তনের মতো ঝুলিছে বিবাহ ঢঙ
পাসিনা ভরা আল্লা মাখিছে খিদার সাতরঙ
ভণিতা দেখার বাইরে দেখি নি যে গ্রাম আমি
সেখানেই খিদার বন খুঁজিতে যায় হারামি
সিনেমা শেষে আলো হলঘরে একা থরথর
শেষ সিনে আয়ু নিভে গল্পেরা বিজন পাথর
পৃথিবী দেখছে দেশ এক গান হ’তে সরে দূরে
কুড়ায়ে শঙ্খ ঝিনুক গীতল দিন মাঙছে সুরে
জিহ্বাতে নিকেল সীসা ক্রোমিয়াম ধাতুর খনি
মাগ-মাগি ছুঁতে-ছুঁতেই বুনে দ্যায় বাচ্চার ধ্বনি
হা-হুতাশ গিলে গিলে দম টানে মরমি দাস
আল্লা-গো আল্লা বলে চিল্লায়ে বইছে বাতাস
চুতিয়া চুতমারানির উপহার মৃত্যুর যৌতুক
এ মরার বাঁচন নিয়া মরণও করে কৌতুক
বৈশাখে আষাঢ় এসে নিতেছে চাষাদের দম
বেলি তবু ফুটিতেছে দোলায়ে ঘ্রাণের অহম
ওগো ফুল, করিবা রাগ তুমি কার কানে গিয়া
দুল ওগো, পরবা কানে তুমি কার হস্ত দিয়া?
না লাগছে বাঘী ভালো না পেখম খোলা ময়ূর
বাঘগুলো হরিণঘুমে, ম্যানগ্রোভে হাঁকে কুকুর
রুহুল মাহফুজ জয়
জন্ম ৩১ মার্চ ১৯৮৪, ফুলবাড়ীয়া, ময়মনসিংহ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে...
বিস্তারিত
জন্ম ৩১ মার্চ ১৯৮৪, ফুলবাড়ীয়া, ময়মনসিংহ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক। পেশা : সাংবাদিকতা। শিল্প-সাহিত্যের ওয়েবজিন শিরিষের ডালপালা’র সমন্বয়ক। প্রকাশিত বই : আত্মহত্যাপ্রবণ ক্ষুধাগুলো [কবিতা, ২০১৬, ঐতিহ্য ই-মেইল : the.poet.saint@gmail.com (স্বল্প)