শুক্রবার
অথচ আমাদের ঘুম হতে ওঠার
একটা শুক্রবার থাকে—
কোন তাড়া নেই, কোথাও যাওয়ার!
কথারা শুয়ে আছে ঠোঁটের কোনায়
বেলা ভেঙে—হায় সনাতন
মা’র হাড়িপাতিল ঘষার শব্দে তখন
বাইরে ঝরে নীরবতা—
শুধু অগণন চিন্তা কোনো কালেই
ঝরে না তার...
হয়তো পথের ভাষায় একটা সাইকেল
মাপা হবে না কতদূর যায়!
তেমনি জেনেছি ঠিকানা একটা নিয়ম
আবার মনে হতে পারে—
ফেলা আসা কোন এক শুক্রবারে
শবযাত্রার শোকাবহ মানুষের মুখ
সে যে কী!
ডুবে যাই কম্পনে—
জুম্মাবার গড়িয়ে পড়ছে আজানে
মসজিদঘর—তুমি সরল তাই
মুসল্লিরা ছুটছে বাড়ি ছেড়ে সুন্দরে!
ওই উড়ছে চিহ্নের চূড়া
লালে নিশান কয়েদি হয়েও
চিরদিন পাশে নিয়ে হাওয়া
তবুও চণ্ডিবাড়ির ফুল—
বেলপাতা
অস্তমান সূর্যের নিকটে এসে
কেন হয়ে যায় অতীত?
কোন যোজনগন্ধায়
মন্দিরে ডুবে যায় মন্ত্র
ঘণ্টার তীব্র শব্দ
বন্ধু, আমি শুনছি বহুকাল ধরে
শব্দ নয় গন্ধ—তবুও আমি নিয়ে গেছি তারে
বহুদূরে—
মানুষ ভালোবেসে হলে নাগরিক
তোমাদের শহরে
কে কাকে মনে রাখে—
অথচ মনে তখন ঠিক ঠিক আয়োজন ঝরে
আসলে কারও প্রেম হয় না অস্থানে
প্রেমে আর সেই নেশা কই?
মেঘ উড়ে উড়ে কোথাও কারাগার
দূরে থাকা নয় এমন—
ভাবি মনে মনে
একটা আগামীকাল কী যে সামান্যে
মাস্টারবেশনের মতো যাবে ফুরিয়ে
আহা খোদা, আমি যে মরি বিরহে
জীবন তো জীবন না—
জীবন অন্যান্য
জীবন রে জানে কে কোনখানে?
বৃন্তখসা কোনোকিছু আসে না
জেনারেল হয়ে—
ঢের অপেক্ষা বুঝেছি
এখানে জন্মলাভ করে।
চেনা সুন্দর মাকড়সার জালকেও
একটা হাওয়াই মিঠাই মনে হতে পারে
মনে হতে পারে—
সেইসব দিন পৃথিবীতে
আমরা দৌড়ে দৌড়ে বলতাম—
‘ভালা আসে বুড়া যায়
মশামাছির মুখ পোড়া যায়’
বাতাস উড়ে যাও—উড়ে যাও
গ্রহ গানের অসীমে
আড়ালে শালিখের ভাঙা ঘুম
এখানে পাপের মৌসুম
মিথ্যার মঞ্জিল নড়ে—
প্রশান্তি ছুঁয়ে গেছে কতদূর?
আমাকে ভাবায় মাস্তান জগৎ
ক্ষুধার অনঙ্গে লাল-নীল এক
মিথ্যার রঙ—
তুমি জানো—গতি ও ঘূর্ণন
এভাবেই কারো কাছে ফিরে আসা যায়
রাত দিন যুগল—
তাকিয়ে থাকি
তারা কাসার থালাবাসন
ধূলি, ধূসরিত পথ ভর করে
জন্মঘোর আমাদের বাড়ি ফেরে।
সেখানে দেখি কত চেনা, অনবরত
মা’কে জড়িয়ে ধরে—
মা’ ধরে ফিরানো বাতাস
সাজানো পালকের নশ্বরতা জুড়ে
ফুলেরাও ডাকে তারে—
এইসব মায়াজাল—
সূর্যের মুখের তেজ
মৃত্তিকা ফেটে নগ্ন বীজের গন্ধ
আমি নিচ্ছি প্রতিবাদহীন
ছেঁড়া পাতায় কী উদ্ধত আলো
যেন ফণাতোলা—
ওগো জীবন, তোমার সূচিকর্মে
আমি দেখি না আমার—
বেঁচে থাকার আগামী
আমি বুঝি না মনমল্লারে আমার
খেয়ালখুশি, সমাহিত করেছি কতখানি
এই শ্রাবণ নিবিষ্ট দুপুর—
অন্তত গড়ানো
পাতানো চোখের কাছে বেড়ে উঠছে!
থানকুনি, কী কোমল যৌথগামী
পুরনো দড়ির একটা ময়লা শাড়িতে
গত বসন্তের কথা—
সেফটিপিনে লটকানো
এখনো আমি পড়ি শুক্রবার—
তারপর আরও কিছু থাকে
দৃশ্যের বেণী খুলবার পুনরাবৃত্তি।
রাস্তাটা থেমে ছিল কত বেলা
সেখানে একটা কুকুর শুয়ে আছে
নিয়ে জন্মের সব আঁকাবাঁকা—
ও আইসক্রিমওয়ালা—
ঘণ্টা বাজাও
শিশুদের ভাষা তোমার গায়
জাপটে ধরেছ মুদ্রিত ছাড়াই
এক একা একহারা—
অথচ আমি এইসব জেনেও
বাড়ি ছেড়ে হাঁটছি বহুদূরে।
শুভ্র সরকার
জন্ম ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৯; মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ। পেশা : চাকরি। সস্পাদিত ছোট...
বিস্তারিত
জন্ম ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৯; মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ। পেশা : চাকরি। সস্পাদিত ছোট কাগজ : মেরুদণ্ড। ই- মেইল : shuvrosarker31@yahoo.com (স্বল্প)