যাতায়াত বলি যাকে

বিকেলভরা জোছনা অথবা শীতের কোনো এক দিনে, ঘুম-ঘুম কোনো ঘন হাওয়ার হিম বনের ভেতর জলময় সব মিহি রোদ পার হয়ে চোখ ফেলে দেখি পথগুলো পড়ে আছে খুব কাছে, চক্রাকারে—দারুণ নির্জনে— যেন তারা থির, অথবা কাঁপছে— ধোঁয়া ওঠা রাত চারদিকে ছেয়ে গেছে

পথগুলো তবু অবনত হয়ে আছে ফুলদের মতো—নিজেদের গায়ে যারা অগণন ছায়া রেখে কিছু দূরে কিংবা কোনো এক অনুমানে হাতের পেছনে আমাদের নিয়ে যায়, অথবা যায় না অথবা কেবল বেঁকে যায় বারবার—

পৃথিবীর পথগুলো কখনো কখনো গহিন কুয়াশা রেখে পরিযায়ী চোখে চাঁদ ভাঙে যত ধীরে, তার থেকে ধীরে আরো কিছু হেলে পড়ে নবীন রোদের কোনো এক বিবরণে শরীর যেখানে বেপরোয়া হয়ে কেবল দুপুর খোঁজে— সব স্বর পার হয়ে ঘন কোনো স্বাদে ঢল খোঁজে হেমন্তের—ঠিক সেখানেই

আমাদের নিয়ে যায় অথবা আমরা টের পেতে দেরি করি, বা টের পাই না অথবা কখনো আরো কিছু দূরে গিয়ে সব বাঁধন পেরিয়ে উল্কামুখী হয়ে জিভের বদলে চকচকে কোনো ছুরি রোদের বদলে চাই হলুদ আগুন।

পৃথিবীর সব পথ ধরে মানুষেরা অরূপ নজরে যেন চিরজীবী পাতা আর ইশারাকে অনুবাদ করে নিয়ে জোছনায় বারবার হরিয়াল খোঁজে— তাদের সকল বিশেষণে শুধু থাকে নিজেদের সব সুবাসিত অনুভূতি আর চারপাশে গড়ে রাখা দেয়ালের অতিকায় সব উদাসীন মৃদু ছায়া—

যদিও তাদের ইচ্ছে পথগুলো ধরে সব ছায়া পার হয়ে আলোর গভীরে ক্রমাগত কেঁপে গেঁথে যাওয়া সহজে— যদিও জানে না তারা সময় অথবা পথ যাকে বলি কিংবা ধরে নিই সেসব আসলে করোটির কোনো ভ্রম—

যারা প্রতিদিন ভাবে—পাখি উড়ে গেলে হাওয়ার আসমানে এলোমেলোভাবে কখনো কখনো কিছু দাগ হয়ে যায়— যারা প্রতিদিন ভাবে—পথ পার হয়ে আরও অনেক জলাশয় দেখা যায় যেখানে রোদের রেখা শ্বাস ফেলে ফেলে নেকাবের সীমানায় ঝিলমিল করে আলোর উজালা ঘেরা ভ্রান্তি রেখে যায়—

তারা ভুলে যায়—সময় অথবা পথ কখনো কখনো বাড়িগুলো ভেঙে দেয়— যেন তারা অবিদিত—রোদের মতন ভেতরে ভেতরে শুধু নিজেকে পোড়ায়— যেন যাতায়াত এক গুনে রাখা ঘড়ি বিচলিত হলে সহজেই থেমে যায়।

অহ নওরোজ

অহ নওরোজ

জন্ম ১২ জুন ১৯৯২; যশোর। পরিসংখ্যানে পড়েছেন। বর্তমানে জার্মানিতে জার্মান ভাষা...বিস্তারিত