একমাত্র মৃত্যুই শিল্পের সমান বাকি যা কিছু ক্লেদের জীবন বাস্তবের কালিঝুলিতে স্বপ্নের শক্তিসঞ্চালন। ও, রোদনে পক্ব চন্দ্র, তুমি কি পাও আমার শ্বাস নেওয়ার সূর্যসোঁদা গন্ধ? এক কবির ভাঙচুরের ভিতে দাঁড়িয়ে থাকে আর এক কবির পোক্ত ভবন। আমি অক্ষরে অক্ষম কবিতা আমার সানন্দ প্রকাশ নাকি অশ্রুর মোচন! ফুলে শুধু টেডের ছোঁয়া আমি নিজেই তো তমসার তোড়া, আমি যে কিনা নেহায়েত আমি ঘৃণা করি পয়মন্ত প্রেরণার পুতুল; কবির জন্য কুরুক্ষেত্র সবই সংসারের আলোছায়া কবিতার কুয়াশা ছক-আঁটা আরতির দুনিয়া ধ্বংসের বোধিসত্ত্ব সীমাহারা এই নাও গহনাগাথা কোলোসোল-কান্না। জখমি-দিন শেষে রাতের শ্রান্তি, ঘুমগাছ থেকে অনিদ্র পাতা ঝরে, ঝরাপাতার সভাতে গান ধরে কে? চাই নি কবিতার শোভিত সিন্দুক শুধু অস্তমিত কুসুমের ছায়ার উদয় থেকে নীল নাচের ভাষা কুড়োতে কুড়োতে রাত্রিকে আমারই হাতে বোনা নদীতে ফেলে আসি; যে আমার অন্তরের ক্ষণিকে আগুনের নাম শাশ্বতী ; তার ডানা-ছাঁটা আকাশে ঝাঁপটাবেই অনন্তের এরিয়েল পাখি। এই চোখ এবার নতুন কিছু চায় বসন্তের ভূত নয় কিংবা ঊষার আঁতাত, কবিতার পেশি পাব কোন কঙ্কালের নন্দনে? সে-ই কুন্দপ্রভ দ্বীপদেশে বেঁধে দাও আমার বন্দরভাগ্য; হে সমুদ্র তোমার ঢেউ তো আমারই মতো রিক্তের রক্ত। তোমাদের আলোর আকাশ আমি অন্ধ তারাদের ঝিকিমিকি লাশ। একটি কবিতা লিখতে বুক ভেসে যায় পাথরের সরোবরে, সরোবর পুড়ে যায় জলের শীতল মশালে, একটি বুক বাঁধা শত শত বেলজারে। সমুদ্র ছেড়ে এবার পাহাড়ে পাহাড় কি আমার দুঃখ-সমান উচুঁ হতে পারে! রাতের বন পেরিয়ে ভোরের বাগান, সব তো তরু আর কুসুমের ছল আদতে এরা আমার অনূঢ়া কষ্টের ঘ্রাণ। পুষ্ট কবিতার বাক্সে ভরে গেছে বাণিজ্য-চরাচর, এই সফল সমতল থেকে পাবে না কাঁটাপোড়া আমার আত্মার দুর্গম, বন্ধুর শিখর। পিতা বা প্রেমিকপৃথিবীর পদ্মে না হোক, পঙ্কে তো আছে অধিকার। আমি কবিতা লিখি নি, আমিই তো দগ্ধ-রক্তাক্ত কবিতার ডাইনি ও দেবীদেহ; জীবনের জলসা পাই নি নিশ্চয়ই পাব মরণের সভায় প্রাপ্য যত স্থগিত করতালি। ঘৃণা করি আয়ুর বেসাতি মৃত্যু তে মৃত্যু নয় মৃত্যু এক কবিতাকৌশল উপমা যদি কায়া উৎপ্রেক্ষা বিষ-মায়া ছন্দ আমার কেশের কৃষ্ণ বিভঙ্গ। দূর হও কারও পরিবেশিত আনন্দিত উপজীবন, গছিয়ে দেয়া মৃত্যুতেও নেই কোনো কবুল। কেননা মৃত্যুই তো আমার জন্মসনদ বিবাহবাসর এসো কবিতার মরণাভ সাতপাক অগ্নিসাক্ষী রেখে অলিখিত আমার জলগর্ভকে প্রস্তুত রেখেছি, গ্যাসমাস্কে মুখ গলিয়ে বুঝেছি এতকাল কী ধূসর জীবন জপেছি! এইবার আমার পাতাল পেয়েছে দিগন্তে প্রসারিত প্রাণ, কবিতার শুষ্ক সারণি, সমীকরণ ফুরিয়ে এলে, এসে দেখে যেও স্বয়ং কবিতার এই অমৃত কফিন; বৈভব ও নাশক নির্জন।